প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সানসাইন আলু মাত্র ৬৫ দিনে আহরণ কৃষকের মুখে হাসি

সঞ্জয় শীল :

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলায় বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। উন্নত জাতের এ আলুর আকর্ষণীয় রং, সমান আকার ও উচ্চ ফলনের কারণে কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।

 

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নবীনগরের বিটঘর, পৌরসভা, ইব্রাহিমপুর ও নাটঘর ইউনিয়নে মোট ৫টি স্থানে ৫ বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু উৎপাদন প্রদর্শনী করা হয়। চলতি মৌসুমে উপজেলায় মোট ২৮৫ হেক্টর জমিতে আলুর আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে নতুন জাত হিসেবে ফলন পার্থক্য বিশ্লেষণের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে ৫ বিঘা জমি। অন্যান্য জাতের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।

 

প্রদর্শনী প্লটে হেক্টরপ্রতি ফলন ৩৫ থেকে ৪০ মেট্রিক টন পর্যন্ত পাওয়া গেছে। শতাংশপ্রতি গড় ফলন প্রায় ৩ মণ। সানসাইন জাতটি স্বল্প মেয়াদি—গড়ে ৬৫ থেকে ৭০ দিনের মধ্যেই আহরণযোগ্য হয়। ফলে কৃষকরা কম সময়ে বাজারজাত করতে পারছেন।

 

এই জাতের আলুর বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে উজ্জ্বল হলুদাভ রং, মসৃণ চামড়া এবং প্রায় সমান ও মাঝারি আকার। সব আলু একই সাইজের হওয়ায় বাজারজাতকরণ সহজ হয়। এটি যেকোনো আবহাওয়ার জন্য উপযোগী জাত। এছাড়া ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ৪-৫ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়।

 

বড়িকান্দি ইউনিয়নের কৃষক আমির হোসেন জানান, তিনি আগে ডায়মন্ট আলু আবাদ করতেন, এবার উপসহকারী কৃষি অফিসারের মাধ্যমে সানসাইন জাতের আলু চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। বাজারে এর চাহিদা ভালো থাকবে বলে আশা করছেন।

 

ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের কৃষক ফিরোজা বেগম বলেন, উপজেলা কৃষি অফিস থেকে সার, বীজ এবং পরামর্শ নিয়ে এক বিঘা জমিতে সানসাইন জাতের আলু আবাদ করেছেন। ৩৩ শতকে প্রায় ১০০ মনের বেশি আলু উত্তোলন হয়েছে। স্বল্প সময়ে ফলন পাওয়ায় এই জাত লাভজনক মনে হয়েছে।

 

উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান, “বিএডিসি আলু-১ বা সানসাইন জাতের গড় বয়স ৬৫ থেকে ৭০ দিন। এটি একটি সুপার ভ্যারাইটি, স্বল্প দিনের উচ্চফলনশীল জাত। ফলন সন্তোষজনক হওয়ায় আগামী বছর এ জাতের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা আরও বৃদ্ধি করা হবে।”

 

কৃষি বিভাগ জানায়, নভেম্বর মাস এ জাতের রোপণের উপযুক্ত সময়। বিঘা প্রতি প্রায় ২০০-২১০ কেজি বীজ আলু প্রয়োজন হয়। বীজ রোপণের আগে শোধন ও অঙ্কুরিত বীজ ব্যবহার করলে ফলন আরও বৃদ্ধি পায়।

 

কৃষি কর্মকর্তারা মনে করছেন, উন্নত জাত ও আধুনিক প্রযুক্তির সম্প্রসারণের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়াতে এ ধরনের প্রদর্শনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রিন্ট করুন