কুমিল্লার নজরুল ইনস্টিটিউটকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান প্রশাসনিক অনিয়ম, আর্থিক দুর্নীতি ও নৈতিকতা বিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বাংলাদেশ বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মী শাহানাজ বেগম এ্যানি। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, এসব অনিয়ম নিয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করায় তাকে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা চলছে এবং প্রাণনাশের আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আল আমিন সরকারি নিয়ম ভঙ্গ করে দীর্ঘ সময় ধরে ইনস্টিটিউটের অভ্যন্তরে রাত্রিযাপন করছেন। একই সঙ্গে অডিটোরিয়াম ভাড়া দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে, যার কোনো সরকারি হিসাব বা স্বচ্ছতা নেই। স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে, রাতের বেলায় ইনস্টিটিউট প্রাঙ্গণে অশ্লীল নৃত্য, নারী-পুরুষের অবাধ বিচরণ এবং অর্থ আদায়ের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, যা সাংস্কৃতিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করছে এবং সামাজিক পরিবেশকে বিপর্যস্ত করছে।
অভিযোগকারী দাবি করেছেন, অভিযুক্ত কর্মকর্তা স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নিয়ে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন এবং রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করায় তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
শাহানাজ বেগম এ্যানি তার অভিযোগপত্রে চারটি দাবি জানিয়েছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অপসারণ, নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন, অভিযোগকারী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হুমকি-ধমকির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।
অভিযোগপত্রটি ডাকযোগে ও ই-মেইলের মাধ্যমে মানবাধিকার কমিশনে পাঠানো হয়েছে। সাংবাদিক মহল বলছে, গণমাধ্যমকর্মীরা সমাজের অনিয়ম তুলে ধরেন বলেই তারা প্রায়ই হুমকি ও হামলার শিকার হন। এমন পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হবে এবং সত্য প্রকাশের পথ সংকুচিত হয়ে পড়বে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :