প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় এএসআই মঞ্জুরুল ও সোর্স রিপনের ভয়ঙ্কর অনিয়ম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

কুমিল্লায় এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম ও তার সহযোগী সোর্স রিপনের বিরুদ্ধে ভয়ঙ্কর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্র জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে আটক করে টাকা আদায়, মাদক ও অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো, সাংবাদিককে লাঞ্ছিত করা এবং প্রতিবন্ধীকে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে আসছে।

 

সোর্স রিপন বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের বিনা মামলায় গ্রেফতার ও মাদক-অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে আলোচিত ছিলেন। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকার পর তিনি আবারও প্রকাশ্যে এসে এএসআই মঞ্জুরুল ইসলামের সহযোগী হয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি শুরু করেন।

 

২০২৫ সালের বিভিন্ন ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।

– শুভপুরে তপু নামে এক যুবককে ইয়াবাসহ আটক করে ৩৯ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

– অটো চালক জাবেদকে গাঁজার সিগারেট দিয়ে ফাঁসিয়ে ৩৫ হাজার টাকা আদায় করা হয়।

– আজাদ নামে এক ব্যক্তিকে চাপাতি দিয়ে আটক করে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

২০২৬ সালের ২ ফেব্রুয়ারি শুভপুরে শতশত মানুষের সামনে রং মিস্ত্রি উজ্জ্বল ঘোষকে বাড়ি থেকে টেনে নিয়ে অমানবিক নির্যাতনের পর মিথ্যা মাদক মামলায় চালান করা হয়। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষিকা কাকলী রানী দাস জানান, বিনা অপরাধে বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়। সাংবাদিক এম কে নুর আলম ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ভেঙে দেওয়া হয়।

 

বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, তারা কুমিল্লা সদরের বিভিন্ন এলাকায় মাসোয়ারা আদায় করে থাকে। নুরপুরের মাদক ডিলার নুরু মাসিক ৫০,০০০ টাকা, বাবলু নুরপুর মাসিক ১০,০০০ টাকা, গেসু কাটাবিল মাসিক ১০,০০০ টাকা, শুভা ২য় মুরাদপুর মাসিক ১০,০০০ টাকা, বাগা বাড়পাড়া মাসিক ১০,০০০ টাকা, সোর্স হানিফের স্ত্রী বাড়পাড়া মাসিক ১০,০০০ টাকা এবং হাউজিং ৪ নাম্বার আবুল মাসিক ১০,০০০ টাকা দিয়ে থাকে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

এছাড়া সীমান্ত সড়কে ভারতীয় অবৈধ শাড়ি, কসমেটিকস, অস্ত্র, মাদক ও মোবাইল আটক করে দফারফা করে অন্যত্র বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে।

 

অভিযুক্ত এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা, আপনারা ওসি সাহেবের সাথে কথা বলুন।” তবে সোর্স রিপন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

 

প্রশ্ন উঠেছে—এএসআই মঞ্জুরুল ইসলাম ও সোর্স রিপনের বিরুদ্ধে প্রশাসন কি কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেবে, নাকি সাধারণ মানুষকে হয়রানি চলতেই থাকবে।

প্রিন্ট করুন