কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা করিম বক্স উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে ছুটির মধ্যে বাধ্যতামূলক কোচিং, অতিরিক্ত ফি আদায়, গাইড বই বাণিজ্য এবং উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে দৈনিক কুমিল্লার ডাক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে।
গত ৩ মার্চ দৈনিক কুমিল্লার ডাকসহ বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উঠে আসে, ছুটির মধ্যেও শিক্ষার্থীদের কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছে, ১২ দিনের কোচিংয়ের জন্য শিক্ষার্থীপ্রতি ১৪০০ টাকা ফি আদায় করা হচ্ছে, নির্দিষ্ট প্রকাশনীর গাইড বই কিনতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সংবাদ প্রকাশের পরপরই উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ বিষয়টি আমলে নেয়।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শরিফুল ইসলাম ভূঁইয়াকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তিনি লিখিত জবাব জমা দিলেও প্রশাসন সেই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হয়নি। ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা জাহান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে গত ১০ মার্চ তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
তদন্ত কমিটিতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে আহ্বায়ক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে সদস্য এবং উপজেলা রিসোর্স সেন্টারের ইন্সট্রাক্টরকে সদস্য-সচিব করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে অভিযোগগুলো সরেজমিনে তদন্ত করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও ও প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি মাহমুদা জাহান বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বার্থবিরোধী কোনো কার্যক্রম বরদাশত করা হবে না। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, বিদ্যালয়ের প্রায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীকে ছুটির মধ্যেও নিয়মিত কোচিং করতে বাধ্য করা হচ্ছিল। একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কোচিং ফি কমানোর আবেদন করলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখানো হয়। এছাড়া নির্দিষ্ট দুটি প্রকাশনী সংস্থার কাছ থেকে কমিশন নিয়ে শিক্ষার্থীদের গাইড বই কিনতে বাধ্য করার অভিযোগও ওঠে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনের ধারাবাহিক পদক্ষেপে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও সচেতন মহল।

ফয়েজ আহমেদ ভূইয়া :