কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কান্দিখাল দখল ও দূষণের কবলে পড়ে আজ প্রায় বিলীন হয়ে গেছে। বৃটিশ আমলে শহরের কেন্দ্র থেকে সদর দক্ষিণের ডাকাতিয়া নদী পর্যন্ত বিস্তৃত এ খালে পাল তোলা নৌকা চলাচল করত। ব্যবসায়ীরা নৌকায় করে পণ্য পরিবহন করতেন এবং শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রধান মাধ্যম ছিল এই খাল।
কিন্তু বর্তমানে খালের বড় অংশ দখল করে রেখেছে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। বহুতল ভবন, দোকানপাট ও মার্কেট খালের জায়গায় গড়ে উঠেছে। ফলে খালের প্রস্থ ৪৫ থেকে ৯৫ ফুট থেকে নেমে এসেছে মাত্র ৮ থেকে ২৫ ফুটে। আবর্জনায় ভরাট হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, যা নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
এ অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছেন। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, প্রায় ৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫টি খাল খনন হবে। এর মধ্যে কান্দিখালকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি উঠেছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ২ হাজার হেক্টর জমি আবাদযোগ্য হবে এবং শহরের জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমবে।
নাগরিক ফোরাম ও বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, কান্দিখালের অন্তত ৭০ শতাংশ আবর্জনায় ভরাট হয়ে গেছে। নগরবাসীর দাবি, দখলদারদের কবল থেকে খালটি মুক্ত করে পুনঃখনন না করলে কুমিল্লার জলাবদ্ধতা নিরসন সম্ভব নয়।
কুসিক প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানিয়েছেন, খাল পরিষ্কার ও পুনরুদ্ধারে উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে নগরবাসীর দাবি, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী কান্দিখাল চিরতরে হারিয়ে যাবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক :