প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

ছয় মাসের শিশুকে রেখে কুমিল্লায় ট্রেন বাস সংঘর্ষে প্রাণ দিলেন রায়হান

নোয়াখালী সংবাদদাতা :

মায়ের সঙ্গে ঈদ করার আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর পথে রওনা হয়েছিলেন মোহাম্মদ রায়হান। কিন্তু সেই যাত্রাই হয়ে উঠল জীবনের শেষ পথচলা। কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ট্রেনের সঙ্গে বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি।

 

ঈদের দিন রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা মামুন পরিবহনের একটি বাসে ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হন রায়হান। পথে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় রায়হানসহ অন্তত ১২ জন নিহত হন।

 

নিহত রায়হান নোয়াখালী সদর উপজেলার চর মটুয়া ইউনিয়নের ফাজিলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মৃত মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন সবার বড় এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে জুতার ব্যবসা করে পরিবার চালাতেন তিনি। কয়েক বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর মা, ভাই-বোন এবং নিজের স্ত্রী-সন্তানের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন। স্ত্রী নুসরাত, ছয় মাস বয়সী কন্যা রাহিয়া ও মা রেহেনা বেগমকে নিয়ে ঢাকাতেই বসবাস করতেন।

 

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঈদের কয়েকদিন আগে রায়হানের মা গ্রামের বাড়িতে চলে যান। মায়ের সঙ্গে ঈদ করতে ঈদের রাতেই বাড়ির পথে রওনা হন তিনি। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানো হয়নি বরং ফিরতে হয়েছে নিথর দেহ হয়ে।

 

রায়হানের স্ত্রী নুসরাত বলেন, “৬ মাসের শিশু সন্তানটি এখনও জানে না, তার বাবা আর কোনো দিন তাকে কোলে নেবেন না। বাবার আঙুল ধরে হাঁটা শেখার আগেই সে এতিম হয়ে গেল।”

 

রায়হানের মা রেহেনা বেগম চার বছর আগে স্বামীকে হারিয়েছিলেন। এবার হারালেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলেকেও। পরিবারের স্বপ্ন, ভরসা সবই যেন মুহূর্তে ভেঙে পড়েছে।

 

রায়হানের মামা হাজী মানিক বলেন, “বাবার মৃত্যুর পর থেকে রায়হানই সংসারের হাল ধরেছিল। নিজের চেষ্টায় ব্যবসা দাঁড় করিয়েছিল। এই দুর্ঘটনায় তাদের সব শেষ হয়ে গেল।”

 

চাচা হুমায়ুন কবির বলেন, “মায়ের সঙ্গে ঈদ করার জন্যই রওনা হয়েছিল। ফোনে বলেছিল, আসবে। কিন্তু সে আর জীবিত ফিরল না।”

 

ঈদের দিন শনিবার (২১ মার্চ) রাত ২টা ৫৫ মিনিটে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং এলাকায় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং অনেকে আহত হয়েছেন।

প্রিন্ট করুন