বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, সারাদেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় ১৬৯৯১টি পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। সংগঠনটির দাবি, কোম্পানি থেকে যে পরিমাণ তেল সরবরাহ করা হচ্ছে তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।
রোববার রাতে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পাম্পে পেট্রোল সংকটের ফলে মোটরসাইকেল চালকসহ সাধারণ গ্রাহকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। অন্যদিকে পাম্পকর্মীরা বিরামহীন কাজ করতে গিয়ে শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন।
সংগঠনটির অভিযোগ, অনেক মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল নিচ্ছেন এবং পরে তা বেশি দামে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন, ফলে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
পরিস্থিতিকে ‘লুটতরাজ’ আখ্যা দিয়ে সংগঠনটি জানায়, গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে এসে জোরপূর্বক তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। ঠাকুরগাঁও-এর একটি ঘটনার উল্লেখ করে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় লাঠিসোঁটা নিয়ে এসে তেল নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। সংগঠনটির মতে, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ঈদের আগের দিন অনেক পাম্পে জরুরি সেবার জন্য ২০০ লিটার অকটেন সংরক্ষণ করাও সম্ভব হয়নি। এমনকি জোর করে পাম্প খুলে সে জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
এ অবস্থায় দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর উপস্থিতি নিশ্চিত না করা হলে ডিপো থেকে তেল উত্তোলন বন্ধ করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প থাকবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। তাদের ভাষায়, নিরাপত্তা নিশ্চিত না হলে ব্যবসা চালানো সম্ভব নয়— যা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

অনলাইন ডেস্ক :