কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম গ্রামের ছেলে মাহমুদুল হাসান ফয়সাল। ছোটবেলা থেকেই তার স্বপ্ন ছিল পুলিশে যোগ দিয়ে দেশের সেবা করা। সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য তিনি ২০২২ সালে আবেদন করেন এবং ২০২৩ সালের লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। এরপর ২০২৪ সালের নিয়োগ পরীক্ষাতেও সফলভাবে উত্তীর্ণ হন।
টানা দুই বছর পুলিশের কনস্টেবল নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে লিখিত, ভাইভা, মেডিকেল ও ফিটনেস—সব ধাপেই উত্তীর্ণ হন তিনি। কিন্তু মেধাতালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে নিয়োগপত্র পাননি। অভিযোগ উঠেছে, তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মান্নানের কারণে রাজনৈতিক বলির পাঠা হয়েছেন তিনি। ফয়সালের বাবা বিএনপি সমর্থক হওয়ায় তাকে চাকরি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ।
২০২৩ সালের ১১ ফেব্রুয়ারির নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের তৎকালীন অতিরিক্ত ডিআইজি তার নিয়োগের বিষয়ে ইতিবাচক সংকেত দিয়েছিলেন। কিন্তু কুমিল্লার এসপি আব্দুল মান্নান তাকে বাদ দেন। ২০২৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারিতে আবারও পরীক্ষায় বসে সব ধাপে উত্তীর্ণ হলেও একইভাবে নিয়োগ থেকে বঞ্চিত হন। স্থানীয়রা এটিকে ‘সুস্পষ্ট অনিয়ম’ ও ‘ব্যক্তিগত আক্রোশ’ হিসেবে দেখছেন।
ফয়সাল বলেন, “আমি সব পরীক্ষায় পাস করেছি, আমার কোনো অপরাধ নেই। শুধু রাজনৈতিক তকমা দিয়ে আমার স্বপ্ন ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমি এর বিচার চাই।”
এদিকে পুলিশ সদর দপ্তর গত এক দশকে নিয়োগ পাওয়া প্রায় এক লাখ কনস্টেবলের নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত আদেশে ৬৪ জেলার এসপিদের নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি এখন খতিয়ে দেখছে কতজন যোগ্য প্রার্থীকে ফয়সালের মতো বাদ দেওয়া হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাবে কতজন অযোগ্য ব্যক্তি বাহিনীতে ঢুকেছে।
মোকাম গ্রামের বাসিন্দারা জানান, ফয়সালের পরিবার কোনো রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত নয়। তারা মনে করেন, এই মেধাবী তরুণের ওপর যে অবিচার করা হয়েছে, তা বর্তমান সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ায় অবশ্যই সংশোধন করা উচিত। ইতিমধ্যেই ১৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়া তদন্ত জেলা পর্যায়ে গতি পেয়েছে। আশা করা হচ্ছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়লে ফয়সালের মতো বঞ্চিতদের নিয়োগের পথ সুগম হবে।
ফয়সাল ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন এবং ক্ষমতার অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক :