প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লা কাবিলা মিয়ামি রিসোর্টের সামনে মহাসড়ক মৃত্যুফাঁদে পরিণত

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন হোটেল–রেস্তোরাঁর সামনের অংশ এখন যেন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কাবিলা এলাকার মিয়ামি লেজার রিসোর্ট সংলগ্ন অংশটি সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত স্থানীয়দের কাছে। এখানে প্রায়ই ছোট–বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, যেখানে প্রাণহানি, গুরুতর আহত হওয়া এবং পঙ্গুত্ব বরণের মতো মর্মান্তিক ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, রেস্তোরাঁয় যাত্রাবিরতি শেষে সড়কে ওঠার সময়ই মূলত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা। বিশেষ করে মিয়ামি লেজার রিসোর্ট থেকে বের হয়ে উল্টো পথে গিয়ে ঢাকাগামী লেনে ওঠার সংযোগ সড়কটি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন ব্যক্তিগত যানবাহন এই বিপজ্জনক পথে উঠতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনায় পড়ছে।

 

সবশেষ বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রেস্তোরাঁর সামনে ঘটে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মিয়ামি লেজার রিসোর্টে খাওয়াদাওয়া শেষে ঢাকায় ফেরার পথে একটি প্রাইভেটকার ও স্টারলাইন পরিবহনের বাসের সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজন ও চালকসহ পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমাদের ভগ্নিপতি ও ঢাকার মোহাম্মদপুরের জামিয়া মোহাম্মদীয়া মাদ্রাসার প্রধান মুফতি আব্দুল মমিন, তার স্ত্রী ঝর্না বেগম, ছেলে আরশাদ, মেয়ে লাবিবা এবং গাড়িচালক জামাল হোসেন।

 

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু একটি সংযোগ সড়ক বন্ধ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন মহাসড়কের পাশে হোটেল–রেস্তোরাঁগুলোর সামনে যানবাহন প্রবেশ ও বের হওয়ার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

 

দৈনিক কুমিল্লা কাগজের সম্পাদক আবুল কাশেম হৃদয় সামাজিক মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, “মিয়ামি লেজার রিসোর্ট রেস্তোরাঁর সামনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: নিরাপত্তা নিশ্চিতে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।” তিনি আরও বলেন, ব্যবসা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানুষের জীবনের নিরাপত্তার চেয়ে বড় কিছু নয়।

 

কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ–বিভাগীয় প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিকুল ইসলাম ভূঁঞা জানান, দুর্ঘটনায় পাঁচজন নিহত হওয়ার পর স্থানটি পরিদর্শন করা হয়েছে। মিয়ামি রিসোর্ট থেকে উল্টো পথে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে ওঠার সংযোগ সড়কটি দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই ওই সড়কটি খুঁটি গেড়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ কারণগুলোও চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের ১ জুলাই একই স্থানে ভয়াবহ দুর্ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী ও তার পরিবার দুর্ঘটনায় পড়েন। ওই ঘটনায় ঢাকা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র আরহার নিহত হয়।

প্রিন্ট করুন