কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার চান্দিয়ারা গ্রামে সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন ও ফসলি জমি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী ও আমেরিকান প্রবাসী নাঈমুল হক নাঈম ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে। স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার করে খালের বিভিন্ন অংশ থেকে মাটি উত্তোলন করা হচ্ছে, যার ফলে পরিবেশ ও জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খালের মধ্যে শক্তিশালী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে মাটি কেটে পাইপের মাধ্যমে বিভিন্ন স্থানে নেওয়া হচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দিনের পাশাপাশি রাতেও ড্রেজার কার্যক্রম অব্যাহত থাকে। এতে খালের স্বাভাবিক গভীরতা ও পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা, খাল ভাঙন এবং কৃষিজমির ক্ষতির মতো বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ড্রেজার পরিচালনাকারী মিলন সাংবাদিকদের বলেন, “এই ড্রেজার নাঈম ভূঁইয়ার। তিনি এমপি সাহেব, ইউএনও সাহেব ও এসিল্যান্ড সাহেব থেকে অনুমোদন নিয়েছেন।” তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, খাল থেকে ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের জন্য আদৌ কোনো বৈধ অনুমতি রয়েছে কিনা এবং থাকলেও সেটি কোন কর্তৃপক্ষ দিয়েছে—তা প্রকাশ্যে জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে নাঈম ভূঁইয়ার সহযোগী জসিম সরকার বলেন, “ওসি সাহেব আমাকে নাম্বার দিয়েছেন। স্থানীয় এমপি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌখিকভাবে অনুমতি দিয়েছেন। আমরা গ্রামবাসী মিলে একটি ঈদগাঁ নির্মাণ করছি।”
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান জানান, বিষয়টি এমপি ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের অনুমতি নিয়ে হচ্ছে। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ আশরাফুল হক স্পষ্ট করে বলেন, সরকারি খাল থেকে ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে মাটি উত্তোলনের কোনো মৌখিক বা লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। তিনি তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের নির্দেশ সত্ত্বেও ড্রেজার কার্যক্রম বহাল রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ওসি আতিকুর রহমান সংবাদকর্মী ও স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন এবং তথ্যদাতাদের পরিচয় প্রকাশ করছেন। বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ধারা ১৬৬ ও ১৬৭ অনুযায়ী সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় তথ্যদাতার পরিচয় প্রকাশ করা ক্ষমতার অপব্যবহার ও শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ হিসেবে গণ্য হয়। এতে প্রতিবাদকারীরা হামলা-মামলার শিকার হতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সচেতন মহল বলছে, সরকারি খাল ও জলাশয় থেকে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। এতে খালের নাব্যতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভবিষ্যতে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশ জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০: সরকারি খাল, নদী ও জলাশয় ভরাট বা দখল করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫: পরিবেশের ক্ষতি করে এমন কার্যক্রম পরিচালনা করলে শাস্তি ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ ড্রেজার কার্যক্রম বন্ধ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। পাশাপাশি ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নিজস্ব প্রতিবেদক :