প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের পাঁচ মাসের মাথায় গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু, স্বামী পলাতক

ইলিয়াস সবুজ :

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বিয়ের মাত্র পাঁচ মাসের মাথায় মিতু আক্তার (২০) নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের সামুকসার গ্রামের একটি ভাড়া বাসার দরজা ভেঙে তার মরদেহ উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ।

নিহত মিতু আক্তার মুরাদনগর উপজেলার গোয়াশাল গ্রামের কবির হোসেনের মেয়ে।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর থেকে মিতুর স্বামী আনোয়ার হোসেন পলাতক রয়েছেন। তিনি একই ইউনিয়নের সমেশপুর গ্রামের ফরিদ উদ্দিনের ছেলে।

নিহতের ভাই নিহাদ অভিযোগ করেন, স্থানীয় একটি বিস্কুট কারখানায় কাজের সুবাদে তাদের পরিবার সামুকসার এলাকায় বসবাস করত। সে সময় আনোয়ার তার বোনের সঙ্গে জোরপূর্বক সম্পর্ক গড়ে তোলেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরবর্তীতে নানা ভয়ভীতি ও হয়রানির কারণে মিতু আনোয়ারকে বিয়ে করতে বাধ্য হন বলেও দাবি করেন নিহাদ।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের পর থেকে আনোয়ার নিয়মিত তার বোনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। সকালে ঘরে তালা দিয়ে বাইরে চলে যেতেন এবং রাতে ফিরে এসে মারধর করতেন। একপর্যায়ে মিতু জানতে পারেন, আনোয়ার আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার স্ত্রী-সন্তান রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছিল। এর আগেই তার বোনকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নিহাদ।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ঘটনার আগের রাতে আনোয়ার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে মিতুকে মারধর করেন এবং লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। পরে ঘরে তালা দিয়ে চলে যান। সকালে আনোয়ার বাড়ির মালিককে ডেকে জানান, তার স্ত্রী দরজা খুলছেন না। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।

ভাড়া বাসার মালিক নজির আহম্মেদ বলেন, গত মাসে আনোয়ার তার স্ত্রীকে নিয়ে তার বাসায় ভাড়া ওঠেন। সকালে আনোয়ার এসে জানান, তার স্ত্রী দরজা খুলছেন না। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে।

চৌদ্দগ্রাম থানার এসআই লিটন চাকমা বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে প্রাথমিক সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এ ঘটনায় তদন্ত চলছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

প্রিন্ট করুন