প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবরস্থানে আপত্তিকর অবস্থার প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত কিশোর গ্যাং সদস্য পলাতক

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :

কুমিল্লার দেবীদ্বারে কবরস্থানে এক কিশোরীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় থাকা দুই কিশোরকে দেখে প্রতিবাদ করায় মো. সফিকুল ইসলাম (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য পালিয়ে গেছে। আহত বৃদ্ধকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে দেবীদ্বার পৌর এলাকার ভূষণা গ্রামের মজিব কমিশনারের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও আহত ব্যক্তির ভাষ্য অনুযায়ী, স্বজনের দাফনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কবর খুঁড়তে কবরস্থানে যান সফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি রেড ৯৯৯ নামে পরিচিত কিশোর গ্যাংয়ের চিহ্নিত সদস্য রামিম (১৭) ও সায়মন (১৭)-কে স্থানীয় এক ১৬ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখতে পান।

অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় কিশোরীর স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিলে সে বাধা দেয়। এতে রামিম তাকে মারধর শুরু করে। কিশোরী চিৎকার করে স্থানীয়দের সহায়তা চাইলে সফিকুল ইসলাম এগিয়ে এসে বলেন, এটি কবরস্থান, এখানে এমন আচরণ করা ঠিক নয় এবং তাদের সেখান থেকে চলে যেতে বলেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রামিম দৌড়ে এসে সফিকুল ইসলামকে টানাহেঁচড়া করে মাটিতে ফেলে দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে উপর্যুপরি আঘাত করে। তিনি চারটি আঘাত প্রতিহত করলেও পঞ্চম আঘাতে বাম হাতের মাংসপেশিতে গুরুতর জখম হন।

তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে রামিম ও সায়মন পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা কিশোরীকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। আহত সফিকুল ইসলামকে দেবীদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে তার হাতে ৬টি সেলাই দিতে হয়।

স্থানীয়রা জানান, মজিব কমিশনারের বাড়ির প্রয়াত সিরাজুল ইসলামের মেয়ের জামাতা সহিদুর রহমান (৪৫) হৃদ্‌রোগে মারা যাওয়ার পর তাকে ওই কবরস্থানে দাফনের জন্য কবর খোঁড়া হচ্ছিল। সহিদুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় কর্মরত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মুরাদনগর উপজেলার বাতাপুকুরিয়া গ্রামে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সফিকুল ইসলাম বলেন, “আমি আত্মীয়ের কবর খুঁড়তে গিয়ে কবরস্থানের দেয়ালের পাশে একটি মেয়ে ও দুই ছেলেকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখি। তাদের চলে যেতে বলতেই একজন দৌড়ে এসে আমাকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।”

দেবীদ্বার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তানভির জানান, অভিযুক্ত রামিম দেবীদ্বার পৌর এলাকার বানিয়াপাড়া দুবাই হাউজের বাসিন্দা পারভেজের ছেলে এবং রেড ৯৯৯ কিশোর গ্যাংয়ের অন্যতম সদস্য। উদ্ধার হওয়া কিশোরী স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী।

তিনি আরও জানান, রামিমের বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং সংশ্লিষ্ট একাধিক আলোচিত ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এবং সে একাধিক মামলার আসামি। তাকে গ্রেপ্তারে আগেও অভিযান চালানো হয়েছে। সর্বশেষ অভিযানে তাকে না পাওয়া গেলেও তার সহযোগী আব্দুল্লাহ আল হাসানকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায়ও তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, আহত ব্যক্তি মামলা করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযুক্ত রামিমের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের একাধিক মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। স্থানীয়দের হাতে আটক কিশোরীকে উদ্ধার করে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

প্রিন্ট করুন