চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে একটি অসহায় পরিবারের ৩টি বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীর পরিবার বাধা দিলে তাদেরকেও ব্যাপক মারধর করে হামলাকারীরা। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদেরকে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার (২৫ জুলাই) বিকাল তিনটায় উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা গ্রামে। সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও এখনো ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে আব্দুল মতিন সাজু প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিনকে প্রধান আসামী করে ১৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জনের নামে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় একটি মামলা (মামলা নং-৪৭/২৬.০৭.২০২৬ইং) দায়ের করেন।
থানায় দায়েরকৃত মামলা সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবৎ উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের বাতিসা গ্রামের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আমিনুল হক তুহিন গংদের সাথে ভুক্তভোগি আব্দুল মতিন সাজুদের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিলো। এরই জেরে গত শনিবার বিকালে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী বহিরাগত সন্ত্রাসী এনে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আব্দুল মতিন সাজু ও তার অপর ভাইদের তিনটি টিনশেড ঘর, বাড়ীর টিনের সীমান প্রাচীর, ঘরে থাকা মূল্যবান আসবাবপত্র ভাংচুর, গুরুত্বপূর্ণ দলিল-দস্তাবেজ, নগদ অর্থ, দামী জিনিসপত্র ও মোবাইল ফোন ও স্বর্ণালঙ্কার (৪ ভরি ওজন) লুটপাট করেছে। এতে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার ঘটনায় নারী সহ অন্তত তিনজন আহত হয়েছে। আহতরা হলো: ভুক্তভোগি আব্দুল মমিন সুজন, আব্দুল মতিন সাজু ও সাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতের উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে গুরুতর আহত সুজন ও সাজুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লায় প্রেরণ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগিদের পক্ষে আব্দুল মতিন সাজু বাদী হয়ে একই ইউনিয়নের মৃত আব্দুল গণির ছেলে আমিনুল হক তুহিনকে প্রধান আসামী করে ১৫ জনের নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ৪০/৫০ জনের নামে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখনো ঘটনাস্থলে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
এদিকে আকষ্মিক সন্ত্রাসী হামলায় বাড়ীঘর ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনায় তিনটি পরিবার অসহায়ের মত খোলা আকাশের নীচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অবিলম্বে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন সহ সন্ত্রাসী হামলার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার।
এ ব্যাপারে ভুক্তভোগি আব্দুল মতিন এর বৃদ্ধ মা ছেনোয়ারা বেগম সাংবাদিকদের জানান, ঘটনারদিন আমরা দাওয়াতে গিয়েছিলাম। গত শনিবার মাদক ব্যবসায়ী তুহিনের নেতৃত্বে কমপক্ষে ১০০ জন সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোকজন আমার বাড়ীকে অতর্কিত হামলা করে আমার তিন ছেলের বসতঘরগুলো ভাংচুর করে। এ সময় হামলাকারীরা ঘরে থাকা আসবাবপত্র, নগদ অর্থ, মূল্যবান কাগজপত্র সহ ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। এতে ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। খবর পেয়ে আমরা বাড়ীতে আসলে তারা দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে আমাদের উপরও হামলা করে। এতে আমার দুই ছেলে আব্দুল মমিন, আব্দুল মতিন এবং পুত্রবধূ শারমিন গুরুতর আহত হয়। আমি অবিলম্বে এ ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
গুরুতর আহত শারমিন আক্তার বলেন, এ বাড়িতে বিয়ে হওয়ার পর থেকেই মাদক ব্যবসায়ী তুহিনের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। গত দেড় বছরে তুহিনের নেতৃত্বে আমাদের উপর অন্তত তিনবার হামলা হয়েছে। তাদের এমন অত্যাচার-অনাচারে আজ আমরা জর্জরিত। আমার স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে ওইদিন আমিও হামলার শিকার হয়েছি। আমার একটি হাত ভেঙে গেছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছি।
এ ব্যাপারে জখমী আব্দুল মমিন সুজন বলেন, আমার বাবা ১৯৯৬ সালে উক্ত জায়গা ক্রয় করেছেন। এরপর থেকে প্রায় ২০ বছর ধরে আমরা এ জায়গায় বাড়িঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছি। আমিনুল হক তুহিন, মতিন মেম্বারের ছেলে রকি, চাঁন্দিশকরার আরিফ ও রনি, আটগ্রামের নয়নের নেতৃত্বে অন্তত ৪০/৫০ জন সন্ত্রাসী গত শনিবার বিকালে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এ সময় তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ ঘটনায় আমি সহ আমার ছোট ভাই আব্দুল মতিন ও তার স্ত্রী শারমিন আহত হয়। আমরা এ ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করেছি। এর আগেও তারা একই কায়দায় আমাদের উপর হামলা ও বাড়িঘর ভাংচুর করেছিলো। এ ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে প্রশাসনের কাছে আমরা দোষীদের গ্রেফতার ও শাস্তির দাবি করছি।
এ বিষয়ে প্রধান অভিযুক্ত আমিনুল হক তুহিন জানান, মৃত আব্দুল খালেকের ছেলেরা দীর্ঘদিন যাবৎ জোরপূর্বক আমাদের জায়গা দখল করে রেখেছিলো। সেখানে তারা ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিলো। সামাজিকভাবে বারবার বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছি। তাই এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে আমার পৈতৃক সম্পত্তি উদ্ধার করে পুনরায় দখল নিয়েছি।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, বাতিসার হামলা ও ভাংচুরের ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন ডেস্ক