কক্সবাজারের উখিয়ায় দুই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ মঙ্গলবার ভোরে পালংখালী ইউনিয়নের মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ইয়াবাগুলোর আনুমানিক মূল্য ছয় কোটি টাকা।
উখিয়া থানার পুলিশ জানায়, আজ ভোরে কুতুপালং বাজার এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে ইয়াবার একটি চালান কক্সবাজারের দিকে নেওয়া হচ্ছে।
এরপর পুলিশ পালংখালী ইউনিয়নের থাইংখালী বাজারসংলগ্ন একটি তেলের পাম্পের সামনে অস্থায়ী চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহনে তল্লাশি শুরু করে। সকাল সোয়া ছয়টার দিকে পালংখালী বাজারের দিক থেকে একটি সিএনজি দ্রুতগতিতে চেকপোস্টের দিকে আসতে দেখে পুলিশ সেটিকে থামার সংকেত দেয়। তবে চালক সংকেত না মেনে সিএনজিটি দ্রুত উখিয়ার দিকে নিয়ে যেতে থাকেন।
পরে পুলিশের একটি দল সরকারি পিকআপ নিয়ে সিএনজিটির পিছু নেয়। একপর্যায়ে মরাগাছতলা রোহিঙ্গা মার্কেটের সামনে মহাসড়কের পশ্চিম পাশে সিএনজিতে থাকা চালকসহ দুই ব্যক্তি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা ফেলে পালিয়ে যান।
পুলিশ ঘটনাস্থল ঘেরাও করে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে। বস্তার ভেতর ২০টি কার্ডে মোট ১ হাজারটি বায়ুরোধক জিপার পলিপ্যাক পাওয়া যায়। প্রতিটি পলিপ্যাকে ২০০টি করে মোট দুই লাখ ইয়াবা ট্যাবলেট ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উখিয়া থানার পুলিশ বলেছে, জিপার পলিপ্যাক ও রাবার বাদ দিয়ে ডিজিটাল পরিমাপক যন্ত্রে ইয়াবাগুলোর ওজন ১৬ কেজি পাওয়া গেছে। এসব ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ছয় কোটি টাকা।
এ ঘটনায় পলাতক অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০(গ)/৪১ ধারায় মামলা করা হয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, পলাতক ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্ত ও তাঁদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত সিএনজিটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদকের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে অভিযান চালানো হচ্ছে। মাদক ব্যবসা, পরিবহন ও মজুদের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি: