কুমিল্লা মহানগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে আওয়ামী লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত দুই ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ পদে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে—এমন অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয় বিএনপির তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটিতে কাজী নজরুল নজিরকে সভাপতি এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা তুষার খান রাব্বিকে সাধারণ সম্পাদক করার জন্য একটি পক্ষ প্রস্তাব দিয়েছে। তবে কমিটিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়নি বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে জানা গেছে।
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিএনপির নেতাকর্মীদের হয়রানি এবং পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তারে সহযোগিতার সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তির সম্পৃক্ততা ছিল। তাদের দাবি, অতীতে যারা বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, তাদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা যাচাই না করে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনার উদ্যোগ গ্রহণযোগ্য নয়।
স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতাকর্মী আরও অভিযোগ করেন, কাজী নজরুল নজির ও তুষার খান রাব্বি সাবেক যুবলীগ নেতা জি এস শহীদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে, কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গঠনের আগেই তুষার খান রাব্বি নিজেকে ১৪ নম্বর ওয়ার্ড কমিউনিটি পুলিশিং কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে পরিচয় দিচ্ছেন—এমন অভিযোগও উঠেছে। তবে সংশ্লিষ্টদের দাবি, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন বা অনুমোদন করা হয়নি।
এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পক্ষে ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুর রহমান, সিনিয়র সহ-সভাপতি শাহাবুদ্দিন, সহ-সভাপতি দেলোয়ার হোসেন, মাসুম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম সুজন, মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক তোফায়েল হোসেন কাউছার এবং জেলা যুবদলের সদস্য আফজাল হোসেন নয়ন বলেন, “যারা ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমাদের বাড়িতে ঘুমাতে দেয়নি, সেই লোকগুলোকে এখন বিএনপির কিছু নামধারী নেতা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ার পাঁয়তারা করছেন। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।”
বিএনপি নেতা ফরিদ মিয়া ও নাদের আহমেদ বাপ্পি বলেন, “যখন দেখি আওয়ামী লীগের লোকেরা বিএনপির সঙ্গে আঁতাত করে কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্ব নিতে চায়, তখন বিষয়টি আমাদের জন্য লজ্জাকর। তৃণমূল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। আশা করি, শিগগিরই কুমিল্লা জেলা ও মহানগর কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।”
তৃণমূল বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও অতীত ভূমিকা যাচাই এবং এরপর কমিউনিটি পুলিশিং কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে কমিটি গঠনের আগে কেউ নিজেকে কোনো পদে অধিষ্ঠিত হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিএনপির কয়েকজন নেতা কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানা গেছে।
অভিযোগের বিষয়ে কাজী নজরুল নজির ও তুষার খান রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

আয়েশা আক্তার :