কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি কাঁচামালের আড়ৎ থেকে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে বিজন চন্দ্র সাহা (৪৯) নামে এক আড়ৎ ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গ্রেপ্তার বিজন চন্দ্র সাহা দেবিদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র চন্দ্র সাহার ছেলে। তিনি উপজেলার বরকামতা (কাঠেরপুল) এলাকার মেসার্স আনন্দ বাণিজ্যলয়-এ কাঁচামালের আড়ৎ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের কর্মচারী বিজন চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিভিন্ন কৌশলে আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় ছয় বছর ধরে তিনি প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকার সুযোগ নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। আত্মসাতের অর্থের একটি অংশ নিজের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি স্ত্রী ও মায়ের নামে এফডিআরসহ বিভিন্নভাবে জমা রাখার অভিযোগও করা হয়েছে।
আড়ৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, সম্প্রতি হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনার সময় প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিল ধরা পড়ে। পরবর্তীতে বিস্তারিত হিসাব যাচাই করে বিজন চন্দ্র সাহার বিরুদ্ধে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়ভাবে দেন-দরবারের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হয়। মামলার বাদীর দাবি, একপর্যায়ে বিজন চন্দ্র সাহা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে পরবর্তীতে মালিক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে তিনি আত্মগোপনে চলে যান।
পরে আড়ৎ কর্তৃপক্ষ দেবিদ্বার থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করে। মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিজন চন্দ্র সাহার অবস্থান শনাক্ত করে পুলিশ। পরে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মামলার বাদী আনিসুর রহমান বলেন, “চলতি মাসের ৩ তারিখ বিজন চন্দ্র সাহার টাকা আত্মসাতের বিষয়টি আমাদের কাছে প্রকাশ পায়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে বিষয়টি স্বীকার করে এবং টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে। সামাজিকভাবে বসার পরও পরবর্তীতে সে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে পালিয়ে যায়। এরপর আমরা থানায় মামলা দায়ের করি।”
বাদীর দাবি, ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আংশিকভাবে এবং ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অধিক পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে। তার হিসাবে, গত ছয় বছরে প্রায় ২ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় বিজন চন্দ্র সাহাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা অর্থের উৎস এবং আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ ও লেনদেনের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :