মাদক মামলায় পলাতক আসামি হিসেবে নাম এসেছে প্রবাসী ও ব্যবসায়ী আব্দুল আহাদের। তবে তার দাবি, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলেই ছিলেন না। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আহাদ বলেন, মাদক সেবন, কেনাবেচা কিংবা সংরক্ষণের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলায় তার নাম আসায় সামাজিকভাবে হয়রানি ও সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
আব্দুল আহাদের দাবি, ঘটনার সময় তিনি একটি দোকানে অবস্থান করছিলেন। সেখানে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ তার দাবির পক্ষে প্রমাণ হিসেবে রয়েছে। তিনি ওই ফুটেজ তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে দিতে প্রস্তুত বলেও জানান।
তবে মামলার এজাহারে ভিন্ন তথ্য উল্লেখ রয়েছে।
মনোহরগঞ্জ থানার নাথেরপেটুয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ পরিদর্শক মো. জাহাঙ্গীর আলমের দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিপুলাসার বাজার এলাকায় মাদক কেনাবেচার খবর পেয়ে পুলিশ অভিযান পরিচালনা করে। রাত ৯টা ১০ মিনিটের দিকে বিপুলাসার বাজারে মেসার্স বগু মিয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের সামনে থেকে মো. কাউসার হোসেনকে আটক করা হয়। এ সময় আব্দুল আহাদ পালিয়ে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আটক কাউসারের পরিহিত জিন্সের প্যান্টের পকেট থেকে ৫০টি ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়, যার ওজন ৫ গ্রাম। পরে কাউসারকে জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল আহাদের নাম-ঠিকানা পাওয়া যায় এবং তারা দুজন মিলে বিক্রির উদ্দেশ্যে ইয়াবা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে কাউসার স্বীকার করেছেন এমন দাবি করা হয়েছে এজাহারে।
এ ঘটনায় কাউসার হোসেন ও আব্দুল আহাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর ৩৬(১) সারণির ১০ (ক) ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল আহাদ বলেন, “কাউসার আমার পরিচিত ও বন্ধু। তার সঙ্গে পরিচয় থাকার কারণেই আমাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে আমি মনে করছি। আমি মাদক সেবন করি না এবং মাদক ব্যবসার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।”
তিনি ঘটনার সময়ের সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পরীক্ষা এবং স্বাধীন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে তদন্তের দাবি জানান। অভিযোগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়া গেলে মামলা থেকে অব্যাহতির প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

টিপু সুলতান, লাকসাম :