প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩

ফ্লাইওভারের নিচে বাঁশের বেড়া, ভাড়ায় পার্কিং—রেইসকোর্সে কার দখলে জনসাধারণের জায়গা?

নিজস্ব প্রতিবেদক :

জনসাধারণের চলাচলের জায়গা। অথচ সেই জায়গাই বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে তৈরি করা হয়েছে গাড়ি ও মোটরসাইকেল পার্কিং। অভিযোগ উঠেছে, পার্কিংয়ের নামে সেখান থেকে আদায় করা হচ্ছে নিয়মিত ভাড়াও। কুমিল্লা নগরীর রেইসকোর্স ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ঘিরে এমন অভিযোগে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে কার অনুমতিতে এবং কীভাবে দখলে গেল এই জায়গা?

স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্লাইওভারের নিচের একটি অংশ বাঁশ দিয়ে ঘিরে সেখানে মোটরসাইকেল ও গাড়ি রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এরপর বিভিন্ন যানবাহন থেকে পার্কিং বাবদ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন জনসাধারণের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি বা জনসাধারণের ব্যবহারের জায়গা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রেইসকোর্স এলাকার এই পথটি নিরাপদে চলাচলের জন্য অনেক পথচারী নিয়মিত ব্যবহার করেন। কিন্তু ফ্লাইওভারের নিচের অংশ ঘিরে পার্কিং তৈরি হওয়ায় স্বাভাবিক চলাচলে বিড়ম্বনায় পড়ছেন তারা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি দাবি করেন, ইষ্টার্ন প্লাজা কর্তৃপক্ষ ফ্লাইওভারের নিচের ওই অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করেছে এবং সেখান থেকে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি জায়গাটি জনসাধারণের চলাচলের অংশ হয়ে থাকে, তাহলে সেটি বাঁশের বেড়া দিয়ে ঘিরে পার্কিং বানানোর অনুমতি কে দিয়েছে? আর যদি কোনো কর্তৃপক্ষের অনুমতি থাকে, সেই অনুমতির ভিত্তি কী এ নিয়েও রয়েছে অস্পষ্টতা।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এভাবে জায়গাটি ব্যবহারের ফলে অনেকেই বিষয়টিকে যেন স্বাভাবিক হিসেবেই মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিবাদ করতে গেলেও নানা কারণে সাধারণ মানুষ পিছিয়ে আসছেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ইষ্টার্ন প্লাজা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।

এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে পরিদর্শন করে ফ্লাইওভারের নিচের জায়গাটির মালিকানা, ব্যবহার ও পার্কিং পরিচালনার বৈধতা যাচাই করুক। একই সঙ্গে জনসাধারণের চলাচলের জায়গা দখল হয়ে থাকলে তা দ্রুত উন্মুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এখন প্রশ্ন একটাই রেইসকোর্স ফ্লাইওভারের নিচের এই জায়গাটি আসলে কার, আর কার অনুমতিতে সেখানে চলছে পার্কিং?।

প্রিন্ট করুন