কুমিল্লার দেবীদ্বারে বাঁশ ঝারের মালিকানা নিয়ে ২ পক্ষের ঝগড়া চাকুর আঘাতে দিন মজুর খুন হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউপির বারুর গ্রামের এনু মেম্বারের বাড়ীর বাঁশঝারে উভয় পক্ষের মধ্যে এই ঝগড়াঝাটির ঘটনা ঘটে। নিহত সফিকুল ইসলাম(৪৫) বারুর গ্রামের মৃত মহাজ উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, নিহত সফিকুল ইসলাম একজন দিন মজুর। সে এলাকায় ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের কাজ করতেন বাঁশ ও বেতের তৈরি খাড়ি,চালনি,ওরা,জাবার,মোড়া,জুলাই,চুরিসহ বিভিন্ন রকমের আসবাবপত্র বানিয়ে বাজারে বিক্রি করে তার আয় দিয়ে সংসার চালাতেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়ীর পাশে নিজের বাঁশ ঝার থেকে বাঁশ কাটতে যান। এসময় ঐ বাড়ীর মৃত এনু মেম্বারের ছেলে এনামুল হক লিমন (৪৫) ও তার বড় ভাই নজরুল ইসলাম (৫২) ও তার ছেলে মো: নিশাদ (২২) তাদের বাঁশঝার থেকে বাঁশ কাটতে বাঁধা দেয়। এসময় সফিকুল ইসলাম তার নিজের বাঁশ ঝার থেকে বাঁশ কাটছে বলে জানালে প্রথমে তর্কাতর্কী পরে হাতা হাতির এক পর্যায়ে এনামুল হক লিমন, নজরুল ইসলাম ও নিশাদ হাতে ধারালো চাকু, হাতুরি ও হকিস্টিক নিয়ে সফিকুল ইসলামের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। নজরুল ইসলাম হকিস্টিক দিয়ে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করে আহত করে, নিশাদ হাতুরি দিয়ে মাথায় এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর আহত করে এ সময় এনামুল হক লিমন ধারালো চাকু দিয়ে আহত সফিকুল ইসলামের পেটে স্বজোরে পোচ দিলে পেটের ভুরি বেড়িয়ে যায়। স্থানীয়রা সফিকুল ইসলামের পেট থেকে বের হওয়া ভুরি পেটে ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের স্ত্রী নার্গিস আক্তার কান্না ও আহাজারি করে বলতে থাকেন, আমি বুঝতে পারিনি, আমার স্বামীকে আমার চোখের সামনে এনামুল হক লিমন,নিশাদ ও নজরুল ইসলাম চাকু, হাতুরি ও হকিস্টিক দিয়ে আঘাত করে পেট কেটে হত্যা করল, আমি কিছুই করতে পারলামনা।
এ ব্যপারে দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বাঁশ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের ঝগড়ায় সফিকুল ইসলাম নামে এক দিনমজুর ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তদন্তের পর বিস্তারিত বলা যাবে।

মো: বিল্লাল হোসেন: