কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ তুলে পুলিশের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি আবদুল হাই কায়সার। তাঁর অভিযোগ, পূর্ববিরোধের জেরে পুলিশের এক সোর্সের পরিকল্পনায় তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আটক এবং তাঁদের স্বীকারোক্তির পরিপ্রেক্ষিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর ২টায় দেবিদ্বার রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আবদুল হাই কায়সার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৯ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে দেবিদ্বার থানার এসআই মো. ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দেবিদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে তাঁর ফার্ম হাউসের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। ওই সময় তিনি কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তির সঙ্গে একটি সালিশি বিষয় নিয়ে আলোচনা করছিলেন। পুলিশের উপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তাঁকে জানানো হয়, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সেখানে গেছে।
আবদুল হাই কায়সারের অভিযোগ, তাঁর ছোট ভাই পুলিশের কার্যক্রমের ভিডিও ধারণ করতে গেলে এসআই ইসমাইল উপস্থিত ব্যক্তিদের মোবাইল ফোন নিয়ে নেন এবং দরজার ছিটকিনি আটকে দেন। দীর্ঘ সময় পর দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে তাঁদের সঙ্গে থাকা এক স্থানীয় বিএনপি নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যথাযথ কারণ ছাড়াই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাঁকে সাত দিনের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এরপর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ওসির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও পুলিশের সোর্স হিসেবে পরিচিত কাইয়ুমের সম্পৃক্ততার অভিযোগও করেন তিনি। আবদুল হাই কায়সারের দাবি, কাইয়ুমের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে তাঁকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
সাবেক এই যুবদল নেতা বলেন, পুলিশের অভিযানের ভিত্তিতে নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়াই তাঁকে দলীয় পদ ও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
সংবাদ সম্মেলনে আবদুল হাই কায়সার ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া দলীয় বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের আবেদন করেন। ভবিষ্যতে যেন অন্য কেউ এ ধরনের পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য সাংবাদিকদের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি। এ ঘটনায় দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের হেডকোয়ার্টার্সের অভিযোগ সেলে লিখিত অভিযোগ করবেন বলেও জানান তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
অভিযোগের বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শ্রীপুর গ্রামের একটি মুরগির খামার থেকে কাউছারসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁদের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতেই ভ্রাম্যমাণ আদালত শাস্তি প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ সেপ্টেম্বর মাদক সেবনের অভিযোগে আবদুল হাই কায়সারকে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাত দিনের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। তাঁকে কারাগারে পাঠানোর পর ওই রাতেই জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদসহ দল থেকে বহিষ্কারের ঘোষণা দেয়।

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি :