প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবনে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় আহত ২

অনলাইন ডেস্ক

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মাদক সেবন ও অপরাধমূলক কর্মকান্ডে বাধা দেওয়ায় কিশোর গ্যাং এর হামলায় মো. মোস্তফা (৬৫) এবং শাহআলম (৫০) নামের দুই ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম সওদাগর বাড়িতে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি মো. মোস্তফা বাদী হয়ে স্থানীয় মো. আলীর ছেলে মো. কাইয়ুম (২২), মীর হোসেনের ছেলে মো. নাঈম (২৪) এবং একই এলাকার মৃত আনা মিয়ার ছেলে মো. আলীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জনের নামে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

থানায় দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের নোয়াগ্রামের সওদাগর বাড়ির অভ্যন্তরের একটি পুকুর পাড়ে দীর্ঘদিন যাবৎ স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্য মো. কাইয়ুম এর নেতৃত্বে সংঘবদ্ধভাবে মাদক সেবন, কেরাম খেলা সহ উচ্চ শব্দে অশালীন গান-বাজনা বাজিয়ে এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট করে আসছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ করায় তারা আশেপাশের বাড়ির লোকজনকে দেখে নেওয়ার হুমকি-ধমকি অব্যাহত রাখে। ঘটনার দিন গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাত অনুমান সাড়ে এগারোটায় প্রধান অভিযুক্ত কাইয়ুম তার অপর বন্ধুদের নিয়ে মাদক সেবন করা সহ উচ্চ শব্দে অশালীন গান-বাজনা চালিয়ে আশেপাশের মানুষের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে তাদেরকে কয়েকবার নিষেধ করলেও তারা গান-বাজনা বন্ধ না করায় ওই বাড়ীর মুরুব্বি মোস্তফা ও অন্যান্য লোকজন তাদেরকে পুনরায় বাধা-নিষেধ করেন। এ সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে দেশিয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে মোস্তফা ও তার ভাই শাহআলমের উপর হামলা করে। হামলায় মোস্তফা ও শাহআলমের মাথায় রক্তাক্ত জখম সহ তারা উভয়ে গুরুতর আহত হন। তাৎক্ষণিক আশেপাশের বাড়ির লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা কৌশলে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে শাহআলম এর অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে দ্রুত কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। পরবর্তীতে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। এখনো তিনি সেখানে চিকিৎসাধিন রয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে চরম শঙ্কা। অবিলম্বে অভিযুক্ত মো. কাইয়ুম সহ অপরাপর অভিযুক্তদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগির পরিবার সহ সচেতন এলাকাবাসী। এক্ষেত্রে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।

প্রিন্ট করুন