প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের মাসিক পাঠক আড্ডা অনুষ্ঠিত

অন্ত মাহমুদ :

বই পড়া, সাহিত্যচর্চা ও মননশীল সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি ইউনিটের মাসিক পাঠক আড্ডা।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, কুমিল্লা ইউনিটের পাঠক ফোরামের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়। এতে বইপ্রেমী, সাহিত্যঅনুরাগী ও সংস্কৃতিমনা মানুষের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।

পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, তরুণ প্রজন্মকে সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং পাঠকদের মধ্যে পারস্পরিক ভাববিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যেই নিয়মিত এ পাঠক আড্ডার আয়োজন করা হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মালেকা মমতাজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাবিলা হালিম, দি মিরর টুডের সাব-এডিটর হোসেন মাহমুদ, কুমিল্লা গিটার একাডেমির পরিচালক ও প্রশিক্ষক ইকবাল হোসেন জুয়েল এবং ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম।

বক্তারা বলেন, বই মানুষের জ্ঞানের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি চিন্তা, মনন ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি আলোকিত ও মননশীল সমাজ গঠনে নিয়মিত বই পড়া ও সাহিত্যচর্চার বিকল্প নেই। এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের মধ্যে পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা এবং সৃজনশীল চিন্তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে গ্রন্থ আলোচনা করেন প্রীতম বণিক। তিনি আলোচ্য বইয়ের বিষয়বস্তু ও তাৎপর্য তুলে ধরার পাশাপাশি পাঠকদের সঙ্গে বইটির বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন। পরে শিশু-কিশোরদের কবিতা আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি, কুমিল্লা ইউনিটের লাইব্রেরি ইনচার্জ মো. মাসুদ আলম।

এ ছাড়া চিত্রাঙ্কন, গল্প বলা, আবৃত্তি, সংগীত ও পাঠ কার্যক্রমের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার হিসেবে বই তুলে দেওয়া হয়। পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন হুমায়রা আক্তার, নুরাইজ ইশফাক, নাফিজা আক্তার উর্মি, আয়াত, আফসারুল, হুমায়রা, স্পন্দন ও নাফিসা মেহেরিন।

আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার আন্দোলনকে আরও গতিশীল করতে পাঠক ফোরামের এ ধরনের নিয়মিত আয়োজন বই পড়ার আগ্রহ বৃদ্ধি, সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।

প্রিন্ট করুন