মহেশখালীর সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট ঘাটতি তৈরি হতে পারে। সাময়িক এ পরিস্থিতিতে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করার আশঙ্কা রয়েছে।
দেশে গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে কমতে যাচ্ছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী ৪ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এতে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ দেখা দিতে পারে।
বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ৪ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা থেকে ৭ নভেম্বর ২০২৬ তারিখ বিকেল ৪টা পর্যন্ত সামিট এলএনজি টার্মিনালের জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৯২০ মিলিয়ন ঘনফুট। সামিট এলএনজি টার্মিনালের রক্ষণাবেক্ষণকালীন এ সরবরাহ কমে প্রায় ১ হাজার ৩২০ মিলিয়ন ঘনফুটে নেমে আসতে পারে। অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমবে।
সরবরাহে এ ঘাটতির কারণে ওই সময় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করতে পারে। বিশেষ করে বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানসহ গ্যাসনির্ভর বিভিন্ন খাতে সাময়িক অসুবিধা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, গ্রাহকদের সাময়িক এ অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছে।
উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেও অনুরূপ রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছিল। দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে এলএনজি টার্মিনালের নিয়মিত ও জরুরি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে রক্ষণাবেক্ষণ কাজ শেষ হলে সামিট এলএনজি টার্মিনালের রিগ্যাসিফিকেশন কার্যক্রম পুনরায় চালুর মাধ্যমে স্বাভাবিক সরবরাহ পরিস্থিতি ফিরিয়ে আনার কথা রয়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হতে কত সময় লাগবে, সে বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নির্দিষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :