প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কুবির শিক্ষক ডরেটরিতে চুরি, আতঙ্কিত শিক্ষার্থীরা

কুবি প্রতিনিধি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকদের ডরমেটরি থেকে এক সহকারী প্রক্টরের মোবাইল চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (২৫ মে) মধ্যরাতে ডরমেটরি-১ এর ২য় তলায় এ ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ও ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শারমিন সুলতানার মোবাইল ফোনটি চুরি হয়ে যায়। তবে নগদ টাকা, ল্যাপটপসহ অন্যান্য জিনিসপত্র থাকলেও সেসব চুরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ডরমেটরিটির ২০২ নং কক্ষের দক্ষিণ দিকের বেলকনির গ্রিল ভাঙ্গা। এ অংশে কোন সিসিটিভি না থাকায় কে বা কারা করেছে সেটি জানা যায়নি। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষক বলছেন, মোবাইল ফোনের সাথে ল্যাপটপ এবং নগদ প্রায় ২০ হাজার টাকা থাকলেও সেটি চুরি হয়নি।
রাতে ডরমেটরিতে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আবুল কাশেম হাওলাদার বলেন, আমি তখন ডিউটিতে ছিলাম। কিন্তু ডরমেটরির পিছনের অংশে কোন আলো না থাকায় সেদিকে আমাদের যাওয়ার সুযোগ নেই।
ভুক্তভোগী শিক্ষক শারমিন সুলতানা বলেন, আমি রাত আড়াইটার দিকে ল্যাপটপে বসে কাজ করতেছিলাম। তখন ওয়াশরুমে গেলে ফিরে এসে দেখি মোবাইল ফোন নেই। কিন্তু সাথে ল্যাপটপ এবং নগদ ২০ হাজার টাকা থাকলেও চোর সেটা নেয়নি। বিষয়টি আমাকে হতবাক করেছে। শুধুমাত্র একটি মোবাইল ফোনের জন্য কিভাবে চোর আসে। এ ঘটনায় আমি আতঙ্কিত। থানায় এ বিষয়ে জিডি করেছি।
এদিকে ক্যাম্পাসে চুরির ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। একাধিক শিক্ষার্থী বলেন, ক্যাম্পাস এরিয়াতে সহকারী প্রক্টরের রুমে চুরি হওয়াটা অবশ্যই আতঙ্কের বিষয়। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমরা শঙ্কিত।
ডরমিটরিতে অবস্থানরত লোকপ্রশাসন বিভাগের প্রভাষক ফয়জুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ডরমিটরিতে এমন ঘটনা ঘটেনি। ডরমিটরিতে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষকদের নিরাপত্তা সমস্যাসহ বিভিন্ন সমস্যায় ভোগান্তি পোহাতে হয়। প্রশাসনের উচিত সমস্যা সমাধানে বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেয়া।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখার সহকারী রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ সাদেক হোসেন মজুমদার বলেন, ডরমিটরিতে চুরি হয়েছে শুনে আমরা সেখানে দেখতে গিয়েছি, গ্রিল কাটছে এমন কোন আলামত দেখতে পাইনি। তবে আগে থেকে গ্রিলটি ভাঙা ছিল। সেদিক দিয়ে চোর ঢুকতে পারে। আমাদের লোকবলের কোন গাফিলতি নেই। পেছনের অংশে দু’টি সিসি টিভি স্থাপনের জন্য প্রক্টর বরাবর বলা হয়েছে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, আমি এখনো জিডির কপি হাতে পাইনি। থানায় গিয়ে দেখবো। জিডি করা হলে সে অনুযায়ী তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) কাজী ওমর সিদ্দিকী বলেন, আমরা নিরাপত্তায় থাকা আনসার সদস্য এবং শিক্ষকের সাথে কথা বলেছি। ঘটনার তদন্ত হওয়া পর্যন্ত কে বা কারা চুরি করেছে সে বিষয়ে বলতে পারছি না।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৭ সালের ৪ মার্চ শিক্ষক ডরমেটরিতে চুরির ঘটনা ঘটে। সেসময় শিক্ষক মো: খলিলুর রহমান ও মো: আতিকুর রহমানের কক্ষ থেকে ২ ল্যাপটপসহ ২ লক্ষাধিক টাকা নিয়ে যায়।

প্রিন্ট করুন