প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

ফেমাস হাউজিং নামে প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি টাকা আত্মসাৎ, গ্রেফতার- ৪

আরিফ আজগর :

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ফেমাস হাউজিং নামক প্রতিষ্ঠান খুলে কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হওয়া চক্রের ৪ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ১১ সিপিসি ২ এর গোয়েন্দা দল। গত শুক্রবার (২৭ মে) জেলার বুড়িচংয়ে ব্যাপক অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, ফেমাস হাউজিং এর চেয়ারম্যান, বুড়িচং থানার কন্ঠ নগর গ্রামের সরাফত আলীর ছেলে মোঃ মামুনুল হক(৪৮), ফেমাস হাউজিং এর সহকারী পরিচালক, বুড়িচং থানার বুড়িচং গ্রামের মোঃ সিরাজুল ইসলাম এর ছেলে মোঃ গিয়াস উদ্দিন(৪৭), ফেমাস হাউজিং এর ম্যানেজার, বি-পাড়া থানার চারাধারী গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান এর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলাম(৪৮), এবং ফেমাস হাউজিং এর মাঠকর্মী একই থানার পরিহলপাড়া গ্রামের মৃত মজিবুর রহমান এর ছেলে মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন(৩৮)।

র‍্যাব জানায়, ফেমাস হাউজিং নামক প্রতিষ্ঠানে কুমিল্লার বুড়িচং থানার শতাধিক সাধারণ পেশাজীবি মানুষ একটি প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়ে ব্যবসায়ে লভ্যাংশ প্রাপ্তির আশায় প্রায় কোটি টাকা অর্থ বিনিয়োগ করে সর্বশান্ত হয়েছেন। বেশির ভাগ মানুষ তাদের সারাজীবনের কষ্টার্জিত জমানো অর্থ
হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগীদের মধ্যে এক লক্ষ টাকা হতে দশ লক্ষ টাকা পর্যন্ত
মুনাফার আশায় বিনিয়োগ করে সবাই সর্বশান্ত হয়েছেন। প্রতারক চক্রের সদস্যরা সাধারণ মানুষের প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী জনগন তাদের গচ্ছিত টাকা ফিরে পাবার আশায় বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ দাখিল করে। ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আইনি সহযোগিতা ও ন্যায় বিচার প্রাপ্তির আশায় র‌্যাবের হস্তক্ষেপ কামনা করে। বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী একটি লিখিত অভিযোগ র‌্যাব-১১ এর কার্যলয়ে এসে জমা দেয়। পরবর্তীতে তাদের প্রদত্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত অনুসন্ধান করে র‌্যাব এবং ভুক্তভোগীদের সর্বত্তক সহযোগিতা করার আশ্বাস প্রদান করে। এরই ধারাবাহিকতায় ভুক্তভোগী জনগনের ক্ষতি পুরনের লক্ষে র‌্যাবের চৌকস গোয়েন্দা দল বিষয়টি নিয়ে পলাতক অভিযুক্তদের খুঁজে বের করতে কাজ শুরু করে। স্থানীয়ভাবে ব্যাপক গোয়েন্দা নরজদারি ও তথ্য প্রযুক্তির সর্বাত্মক ব্যবহারের মাধ্যমে লাপাত্তা হয়ে যাওয়া প্রতারক চক্রের মূল হোতাসহ বেশ কয়েকজন সহযোগির অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয় র‌্যাব।
পরবর্তীতে র‌্যাবের চৌকস গোয়েন্দা দল গত ২৭ মে ২০২২ইং তারিখ রাতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রতারক চক্রের মূল হোতা মোঃ নজরুল ইসলাম (৪৮)সহ সহযোগী আরও ০৩ সদস্যকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০১৩ সালে জানুয়ারি মাসে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন বুড়িচং বাজার এলাকায় ফেমাস হাউজিং নামক একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান এর প্রধান কার্যালয় স্থাপন করে একটি প্রতারক চক্র। উক্ত চক্রের মূল হোতা মোঃ মামুনুল হক নিজে কোম্পানীর চেয়ারম্যান এবং মোঃ নজরুল ইসলামকে সহকারী পরিচালক হিসেবে একটি ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে এবং ০৮ জন জনবলের সমন্বয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করে, ০৩জন পরিচালক এবং মাঠ পর্যায়ে একাধিক কর্মী নিয়োগ দেয়। পরবর্তীতে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানার জনবহুল ও ব্যবসায়ীক এলাকায় কর্পোরেট অফিস : ইউ.পি রোড (বাজার মসজিদ সংলগ্ন) বুড়িচং, কুমিল্লা এবং পরিচালনায় : ফেয়ার গোল্ড রিয়েল এস্টেট এন্ড ডেভেলপমেনট লিঃ, ১১১৫, মৌলভী ভিলা (৩য় তলা), রেইসকোর্স, কুমিল্লা জাকজমকপূর্ণ শাখা অফিস স্থাপন করে। পরবর্তীতে প্রতারকচক্রটি অতি সুকৌশলে প্রলুব্ধ করে বিভিন্ন
পেশাজীবি মানুষের নিকট হতে আমানত সংগ্রহ করে। সহজ সরল সাধারণ জনগনকে ভুল বুঝিয়ে তাদের সংস্থার সদস্য করা হত। প্রতি মাসে তাদের সংস্থায় একটি নিদিষ্ট পরিমান টাকা করে ০৫ বছরে টাকা জমা করলে পরবর্তীতে ০৫ বছর মেয়াদ শেষে তাদেরকে দ্বিগুন টাকা প্রদান করবে বলে আসস্থ করে। ৫ বছর শেষে একজন গ্রাহক যত টাকা জমা করবে ০৫বছর শেষে লাভসহ সেই টাকার দ্বিগুন টাকা পরিশোধের কথা থাকলে ও তারা টাকা পরিশোধ না করে তাদের অফিস ও বিভিন্ন স্থাপনা গুটিয়ে উধাও হয়ে যায়।

র‍্যাব ১১ সিপিসি ২ এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাকিব হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উক্ত বিষয়ে গ্রেফতারকৃত প্রতারক চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতারক চক্র গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনতে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

প্রিন্ট করুন