প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

চান্দিনায় সাবেক মেম্বারকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করলেন ইউএনও

আনিস খান :

কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীরের বিরুদ্ধে আব্দুল খালেক ফেরদৌস নামে এক সাবেক ইউপি সদস্যকে গালিগালাজ ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

গত ২৭ জুন বিকেলে এ ঘটনা ঘটলেও এতদিন ভয়ে প্রকাশ করেননি বলে দাবি করেন নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি।
ইউএনও আমাকে অফিসে নিয়ে বাকি সবাইকে বাইরে থাকতে বলেন। সেখানে তিনি আমার মা-বাবা তুলে গালিগালাজ করেন এবং আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি কেন এমপি মহোদয়ের কাছে ফোন করলাম, এটা জানতে চান। এসময় তিনি আমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে ২ মাস জেল খাটানোর ভয়ও দেখান।

ভুক্তভোগী আব্দুল খালেক ফেরদৌস কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ১০ নম্বর গল্লাই ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য। তিনি জানান, গত ২৭ জুন তিনি এবং তার ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার চান্দিনার সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের নির্দেশে গল্লাই আবেদা নূর গার্লস স্কুলের সমস্যা সমাধানের জন্য ইউএনও অফিসে যান। কক্ষে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গে ইউএনও জিয়াউল হক গালিগালাজ করে তাদের বের করে দেন এবং ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেন। এক ঘণ্টার জায়গায় ৩ ঘণ্টা হয়ে গেলেও ইউএনও তাদের আর ডাকেননি।

এরপর তারা ইউএনওর কক্ষে আবার যান এবং বলেন, ‘স্যার আমাদের ১ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে বলেছিলেন এখন তো ৩ ঘণ্টা হয়ে গেল।’

এ কথা বলার পর ইউএনও আবারও গালিগালাজ করে তাদের বের হয়ে যেতে বলেন বলে জানান আব্দুল খালেক।

 

বিষয়টি সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্তকে ফোন করে জানান তারা।

আব্দুল খালেক বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর ইউএনও আমাকে অফিসে নিয়ে বাকি সবাইকে বাইরে থাকতে বলেন। সেখানে তিনি আমার মা-বাবা তুলে গালিগালাজ করেন এবং আমার গায়ে হাত তোলেন। আমি কেন এমপি মহোদয়ের কাছে ফোন করলাম, এটা জানতে চান। এসময় তিনি আমাকে ভ্রাম্যমাণ আদালত দিয়ে ২ মাস জেল খাটানোর ভয়ও দেখান।’

 

তিনি বলেন, আমি জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, কিন্তু কয়েকজন চেয়ারম্যান এবং এমপি মহোদয়ের বিচারের আশ্বাসে বিরত থাকি। গত শুক্রবার এমপি মহোদয় আমার বাড়িতে এসে আমার হাত ধরে বলেন, মনে করো এটা আমি করেছি। আমাকে বিষয়টা ভুলে যেতে বলেন।

এ বিষয়ে গল্লাই আবেদা নূর গার্লস উচ্চ বিদ্যালের প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারব না। আমার সমস্যা আছে। ঘটনার সময় ওখানে অন্তত ৩০ জন মানুষ ছিলেন। আমি কারও পক্ষেই বলতে পারব না। আপনারা অন্য কারও কাছে জিজ্ঞেস করুন।’

ঘটনাস্থলে গল্লাই আবেদা নূর গার্লস স্কুলের প্রধান শিক্ষক গুলশান আরা এবং ইউএনওর দেহরক্ষী উপস্থিত ছিলেন বলে জানান আব্দুল খালেক ফেরদৌস। ইউএনও অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করলে পুরো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যাবে বলেও জানান তিনি।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) কুমিল্লার সাবেক সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, ‘যেহেতু তিনি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, সেহেতু তার কাছে যে কেউ যেতে পারেন। তিনি পারলে হ্যাঁ বলবেন, না পারলে না বলবেন। কিন্তু কাউকে লাঞ্ছিত করার অধিকার রাষ্ট্র তাকে দেয়নি। ইউএনও যদি এমন কাণ্ড করে থাকেন, তবে তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। এটা তার ক্ষমতার অপব্যবহার।’

অভিযুক্ত চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জিয়াউল হক মীর বলেন, ‘তিনি যে অভিযোগটি করেছেন সেটা সম্পূর্ণ মিথ্যা। ওই মেম্বারের সঙ্গে আনসারদের একটু কথা কাটাকাটি ও ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা পরে বিষয়টিকে সমাধান করে দিয়েছি। আমার সঙ্গে মেম্বারের কিছু হয়নি।’

এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক কামরুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই প্রথম শুনলাম। এমন কিছু ঘটে থাকলে সাবেক ওই মেম্বার আমার কাছে অভিযোগ দিলেন না কেন? তারপরও যদি লিখিত অভিযোগ দেন আমি তদন্ত করে দেখব। ইউএনওর দোষ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনের সংসদ সদস্য ডা. প্রাণ গোপাল দত্তের মুঠোফোনে কল দিলে, ‘বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে’ বলেই কল কেটে দেন তিনি।

এ ব্যাপারে চট্টগ্রাম বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার মো. আশরাফ উদ্দিনকে একাধিক বার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে তার মোবাইলে একটি ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

প্রিন্ট করুন