প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

হলের সরঞ্জামাদি চুরি করেন শিশুরা

এবিএস ফরহাদ, কুবি :

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( কুবি) বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের সম্প্রসারিত অংশে নিরাপত্তাকর্মীর অভাবে নিয়মিত চুরির ঘটনা ঘটছে। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) বিকেলে চুরি করতে গিয়ে আটক হয় ৩ শিশু। জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, শিশুদের একটি চক্র হল, ক্যাফেটেরিয়াসহ বিভিন্ন ভবন থেকে পানির কল, মোবাইল, মানিব্যাগসহ স্যানিটারি সরঞ্জামাদি চুরি করে। এদিকে হলে একাধিক চুরির ঘটনার পরও নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
জানা যায়, বৃহস্পতিবার বিকেলে হলে পানির কল চুরি করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের হাতে আটক হয় আপন (১৩), সাব্বির (১৪), সবুজ ( ৯) নামের তিন শিশু। শিক্ষার্থীরা প্রক্টর অফিসে নিয়ে আসে তাদের। পরে বয়স বিবেচনায় পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে প্রক্টরিয়াল বডি।
আটককৃতরা জানান, ৬ থেকে ৭ জনের একটি চক্র বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলো থেকে মোবাইল, মানিব্যাগ, হল ও ক্যাফেটেরিয়ার ওয়াশরুম থেকে পানির ট্যাপ চুরি করে হান্নান নামের এক ফেরিওয়ালার কাছে বিক্রি করে। পরে হান্নান এসব পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে বড় ভাঙ্গারির দোকানে বিক্রি করে দেয়।
এবিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ফয়জুল ইসলাম বলেন, আটককৃতরা চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। কিন্তু তাদের বয়স কম হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তবে পুলিশের উপস্তিতিতে তাদের অভিভাবক থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট ড. মোকাদ্দেস-উল ইসলাম বলেন, পানির কল চুরির সত্যতা পেয়েছি আমরা। একটি পানির কল উদ্ধারও করা হয়েছে। অভিযুক্তরা শিশু হওয়ায় পুলিশের উপস্তিতিতে মুচলেকা নিয়ে তাদের অভিভাবকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া আগামী পাচঁ দিনের মধ্যে মানি ব্যাগ ও মোবাইল ফেরত দিতে বলা হয়েছে, তা না হলে পুলিশ প্রশানের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এদিকে গত ৯ আগস্ট রাতে হলের ৪১২ নম্বর রুম থেকে শাকিল আহমেদের মোবাইল চুরি হয়। এর আগে আরো কয়েকজনের মানিব্যাগসহ হল ও ক্যাফেটেরিয়ার ২৭ টি পানির কল ও বিভিন্ন স্যানিটারি সরঞ্জাম চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
হলে বারবার চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা বলেন, একটি হলের সম্প্রসারিত অংশ কয়েকমাস ধরে অরক্ষিত। এতিদনেও কোন নিরাপত্তাকর্মী দিতে পারেনি প্রশাসন। বারবার চুরির বিষয়ে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের ভ্রুক্ষেপ না হওয়াটা দুঃখজনক।
এবিষয়ে হলটির প্রভোস্ট প্রভোস্ট ড. মোকাদ্দেস-উল ইসলাম বলেন, হলে নিরাপত্তাকর্মীর জন্য সপ্তাহখানিক আগে আমরা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি। উপাচার্য মহোদয় ভর্তি পরীক্ষার পরে বিষয়টি দেখবেন বলে আশ্বাস্ত করেছেন। নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ হলে চুরি নির্মূল করা সম্ভব হবে।

প্রিন্ট করুন