কুমিল্লার তিতাসে পূর্ব বিরোধের জেরে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে প্রাণ গেলো মুন্সিগঞ্জ পলিটেকনিক্যাল কলেজ ছাত্রের।
ঘটনাটি ঘটে উপজেলার গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টার দিকে।
নিহত সিয়াম (১৭) তিতাসের মজিদপুর ইউনিয়নের চর-মোহনপুর গ্রামের প্রবাসী হেলাল উদ্দিন প্রকাশ বাঁক্কা মিয়ার ছেলে ও মুন্সীগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন ৮জনকে থানায় নিয়ে ঘটনা উদঘাটনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে থানা সূত্রে জানা যায়, তবে তদন্তের স্বার্থে কারো নাম প্রকাশ করতে নিষেধ করে পুলিশ এবং দায়িত্বশীল কোন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের নিকট কোন বক্তব্য দেননি।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত (সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত) নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। আগামীকাল শুক্রবার সকালে লাশের ময়না তদন্তের জন্য কুমেক হাসপাতালে প্রেরণ করা হবে।
পরিবার ও থানা সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় গাজীপুর আজিজিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার সামনে হোমনা-গৌরীপুর আঞ্চলিক সড়কে দাড়িয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করে সিয়াম। মাদ্রাসার দাখিল পরিক্ষা শেষে পরিক্ষার্থীসহ ৭/৮ জনের একদল কিশোর দৌড়ে গিয়ে তার উপর অতর্কিতে হামলা চালায় এবং এক পর্যায়ে তাকে ছুরিকাঘাত করে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
এসময় অন্য পরীক্ষার্থীরা তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নেয়ার পর তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পরই সিয়ামের মৃত্যু হয় বলে জরুরী বিভাগে কর্তব্যরত ডাক্তার নিশ্চিত করেন। ডাক্তার জানান, তার পিঠের নিচের অংশে ছুড়ির দু’টি আঘাত রয়েছে এবং শরীরে বেশ কিছু নিলাফুলা যখম রয়েছে। তারা ধারণা করছেন অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মৃত্যু হয়েছে সিয়ামের।
নিহতের মা তাহমিনা আক্তার জানান, আমার ছেলে সিয়াম সকাল ১১টার দিকে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা মোবাইলে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে ছুড়ি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করেছে। আমার ছেলে এভাবে ঘুমাবে আমি বুঝতেই পারিনি। আমি আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই। কোন টাকার কাছে যেনো আমার ছেলে হত্যার বিচার আটকে না যায়। নিহতের মা আরো জানায়, ফেসবুকে একটা গ্রুপের সাথে তার বিরোধ ছিলো। গতকাল (বুধবার) রাতে বিষয়টি মিমাংসার জন্য উভয়ের পরিবারের লোকজন বসে ছিলো। এর বেশি তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান।
নিহতের মামা দাউদকান্দির গলিয়ারচর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড মেম্বার ইমন মিয়া বলেন, আমার ভাগিনাকে তারা যারা হত্যা করেছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের যেনো বিচার করা হয়। আমার ভাগিনার মত যেনো আর কাউকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।
এ বিষয়ে জানতে তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুধীন চন্দ্র দাসের সরকারী মোবাইলে একাধিক ফোন দিলে তিনি রিসিভ না করায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। থানায় একাধিক কর্মকর্তার সাথে আলাপ করেও কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরে জানাবে বলে সাংবাদিকদের জানান।

এমএ কাশেম ভূঁইয়া :