ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটির পদ ধরে রাখতে এবং আল জামেয়াতুল ইসলামীয়া মাদ্রাসা কমিটিতে পদ পেতে মেয়েকে একই সঙ্গে মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি করেছেন এক বাবা।
এ ব্যাপারে বুধবার বিদ্যালয়ের সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে একটি অভিযোগ করেন। বৃহস্পতিবার উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম অভিযোগের তদন্ত করে সত্যতা পান বলে জানান।
জানা যায় , সোনাগাজীর দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নাজমুল হাসান তার মেয়েকে একই বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণিতে ও আল-জামেয়াতুল ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় দ্বিতীয় শ্রেণিতে ভর্তি করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় সেপ্টেম্বর মাসে প্রতি সপ্তাহে দু’দিন উপস্থিতি দেখানো হয়েছে। অপরদিকে মাদ্রাসায় রয়েছে নিয়মিত হাজিরা।
অভিযোগকারি দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহসভাপতি সালাহ উদ্দিন বলেন, ওই ছাত্রী মূলত মাদ্রাসায় নিয়মিত। তার বাবা নাজমুল হাসান বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে আবার প্রার্থী হতে বিদ্যালয়ে তাকে ভর্তি দেখিয়েছেন। তবে সে বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস করে না।
এ ব্যাপারে নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনার সময়ে সব বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি। বিদ্যালয়ে ও তার ভর্তি রয়েছে ও সপ্তাহে ২/১ দিন ক্লাস করে।
দক্ষিণ পূর্ব চর চান্দিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অনাথ চন্দ্র দাস বলেন, করোনায় বন্ধের পর স্কুল চালু হলে স্বাভাবিকভাবে সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়। তবে নিয়মিত ক্লাস করে না।
মাদ্রাসায় ভর্তি থাকার কথা জানি না।
সোনাগাজী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবরে দেয়া অভিযোগটি তদন্ত চলছে ।প্রাথমিক তদন্তে দুটি বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় তার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। অনিয়ম হলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেনি প্রতিনিধি :