গত ২০২১ সালের ১৮ ডিসেম্বর শিক্ষক কর্মচারী নিয়োগে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর নিয়োগ পরীক্ষায় সাইফুল হাসান প্রথম হওয়ার পরও এবং সদস্যদের সুপারিশ উপেক্ষা করে তার একক সিদ্ধান্তে নিয়োগ দেয়নি। তখন থেকেই কমিটির সদস্যদের সাথে মতবিরোধ শুরু হয়। অতঃপর কমিটির মিটিং না করেই রেজুলেশন লেখার জন্য অধ্যক্ষকে বলেন। অধ্যক্ষ তার কথা মত অনৈতিক কাজে রাজি না হওয়ায় তিনি অধ্যক্ষের সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে।
১৮/১২/২০২১ ইং তারিখ নিয়োগ বোর্ডে সুপারিশ প্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের রেজুলেশন ও নম্বর পত্রে স্বাক্ষর না করার জন্য ডিজির প্রতিনিধিকে বলে দেয়। যার কারণে অধ্যক্ষ দুই দিন মিলিয়ে ডিজির কার্যালয়ে ১৪ ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় এবং সারাদিন ফোন দেয়ার পরও তার কোনো সারা পাওয়া যায়নি। সন্ধ্যার দিকে ফোন রিসিভ করে বলে কাগজপত্র নিয়ে তার বাসায় যাওয়ার জন্য। পরবর্তীতে ডিজির প্রতিনিধি অধ্যক্ষের অসহায়ত্ব দেখে তার চাটুকারিতার সব কথা খুলে বলেন এবং স্বাক্ষর করেন।
চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মোহাম্মদ আইয়ুব আলী মানিককে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ১ বছর পর্যন্ত নিয়োগ দেয়নি। পরবর্তীতে নিয়োগ দিতে বাধ্য হয়েছে। এইসব ঘটনাবলী মাননীয় এমপি মহোদয়কে জানানো হয়েছে।
দ্বিতীয় মেয়াদে গভর্নিং বডির সভাপতি হওয়ার জন্য অধ্যক্ষ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও মাননীয় এমপি মহোদয়কে বারবার অনুরোধ করে এবং পূর্বের বিষয়গুলির জন্য ক্ষমা চেয়ে সুপারিশ পত্র গ্রহণ করে। পরবর্তীতে বোর্ডের চিঠি আসার পর গভর্নিং বডির প্রথম সভা করার জন্য অধ্যক্ষ তাকে বারবার অনুরোধ করে। অবশেষে ২২/০২/২০২২ ইং তারিখ প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিদ্যুৎসাহী সদস্য নিয়োগ নিয়ে কমিটির সদস্যদের সাথে ঝগড়া লেগে যায় এবং তাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করে। অতঃপর সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আবুল কাশেমকে নিয়োগ দেয়া হয়। সভাপতি বলেন কাজী আবুল কাশেমকে দেয়া যাবে না। আমি যে সিদ্ধান্ত দেই সেটা সকলকে মানতে হবে। অধ্যক্ষ বলেন আপনারা সকলে যে সিদ্ধান্ত দিবেন সেটাই হবে, একক সিদ্ধান্ত মানা আবশ্যক হলে কমিটি কিসের জন্য? পরবর্তীতে উনি ঢাকায় গিয়ে অধ্যক্ষকে ফোন করে বলেন কাজী আবুল কাশেমকে বাদ দিতে হবে, না হয় তিনি মাদ্রাসায় কোন সভা করবেন না এবং বলে আমার কথা আপনাকে (অধ্যক্ষকে) শুনতে হবে।
২২/০২/২০২২ ইং তারিখ থেকে আর কোন সভা করেন নাই। অধ্যক্ষ বারবার অনুরোধ করার পরও তার একই কথা কাজী আবুল কাশেমকে বিদ্যুৎসাহী সদস্য থেকে বাদ দিতে হবে, না হয় কিছু করবো না। মাননীয় এমপি মহোদয়কে এ বিষয়ে সবিস্তারে জানানো হয়েছে এবং সভাপতি এমপি মহোদয়কে জানায় আমি পদত্যাগ করব। এমপি মহোদয় বলেছেন তাহলে পদত্যাগ পত্র অধ্যক্ষের নিকেট জমা দাও। এমপি মহোদয় অধ্যক্ষকে বলেছেন সে পদত্যাগ পত্র দিলে তা গ্রহণ করে পরবর্তীতে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। কিন্তু সে পদত্যাগ পত্র না দিয়ে ঢাকায় বসে প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টির অপপ্রয়াস চালায়।
শিক্ষকগন ও ছাত্র-ছাত্রীরা অনেক পরিশ্রম করে ১৮/০৩/২০২২ ইং তারিখ কক্সবাজার শিক্ষা সফরে যাওয়ার দিন ধার্য করা হয়। তিনি অনুমতি না দিয়ে একক সিদ্ধান্তে শিক্ষা সফর বাতিল করে দেন।
মাদ্রাসার বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ২৬/০৩/২০২২ ইং তারিখ ধার্য করা হয়, এই অনুষ্ঠানটিকেও তিনি একক সিদ্ধান্তে বাতিল করে দেন। উল্লেখ্য যে, তখন তিনি ফকির বাজার স্কুল এন্ড কলেজের সভাপতি হওয়ার জন্য তদবির করছে উল্লেখ করে অধ্যক্ষ প্রিন্সিপাল কাজী আবুল বাশারকে তার পক্ষে জনমত তৈরি করার জন্য বলে। অধ্যক্ষ এলাকার প্রতিষ্ঠানের মঙ্গলের কথা চিন্তা করে তার পক্ষে কোন কথা না বলায় সে অধ্যক্ষের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়।
৩১/০৫/২০২২ ইং তারিখ রাতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষের কক্ষ, অফিস কক্ষ ও শিক্ষকদের কক্ষ চুরি হয়। মাদ্রাসার অফিস কক্ষের আলমারি এবং শিক্ষকদের ব্যক্তিগত ড্রয়ার ভেঙ্গে সেখান থেকে কিছু টাকা নিয়ে যায় এবং মূল্যবান কাগজপত্র নষ্ট করে ফেলে। পরদিন ০১/০৬/২০২২ ইং তারিখ সকালে অধ্যক্ষ মাদ্রাসায় এসে এই অবস্থা দেখে তৎক্ষণাৎ তাকে ফোন করে, কয়েকবার ফোন করার পরও রিসিভ না করায় তাকে মেসেজ পাঠায়। তার কোনো সারা না পেয়ে অধ্যক্ষ চুরির ঘটনা বুড়িচং থানার ওসি, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার, কমিটির সদস্য, স্থানীয় চেয়ারম্যান, মেম্বার এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে জানায়। থানা থেকে ওসি, এলাকার চেয়ারম্যান, মেম্বার, কমিটির সদস্যবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এসে বিষয়টি সরজমিনে প্রত্যক্ষ করেন। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার অধ্যক্ষকে বলেন দ্রুত কমিটির সভা করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ তাকে ফোন করে বলেন জরুরি কমিটির সভা করা দরকার। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ০২/০৬/২০২২ ইং তারিখ বিকাল ৩ টায় আসবেন প্রতিশ্রুতি দিয়ে সময় নির্ধারণ করে দেন এবং অধ্যক্ষ যথারীতি কমিটির সভা আহ্বান করেন। সভাপতির দেয়া নির্ধারিত তারিখে কমিটির অন্যান্য সদস্যরা বেলা ৩ টা থেকে ৫ টা পর্যন্ত তার জন্য অপেক্ষা করেও তার সারা মেলেনি, অধ্যক্ষ বিকেল পাঁচটায় ফোন করায় তিনি জানান আসতে পারবো না, ওবায়দুল কাদের ভাইয়ের সাথে মিটিং আছে। তখন প্রবিধান মোতাবেক দাতা সদস্যকে সভাপতি করে সভার কাজ সম্পন্ন করা হয়। অনুরূপভাবে সে না আসায় ১৩/০৬/২০২২ ইং চুরির ঘটনায় একটি সভা করা হয়। তারপর NTRCA তে শিক্ষকদের শূন্য পদের তালিকা দেয়ার জন্য ২১/০৭/২০২২ ইং তারিখে আরো একটি সভা করা হয়। প্রকাশ থাকে যে, কমিটির সভা না করার কারণে উপাধ্যক্ষের তিন মাসের বকেয়া প্রায় ১১০০০০/= (এক লক্ষ দশ হাজার টাকা) এবং সহকারি মৌলভীদের উচ্চতর স্কেল পায়নি।
মাঝেমধ্যে হঠাৎ করে মাদ্রাসায় এসে অধ্যক্ষকে না জানিয়ে শিক্ষকদের নিয়ে মিটিং করে তার পক্ষে দল গঠন করার চেষ্টা করে। এমনিভাবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ৩০/০৭/২০২২ ইং তারিখে তিনি অধ্যক্ষকে না জানিয়ে মাদ্রাসায় এসে শিক্ষক রুমে গিয়ে উপস্থিত শিক্ষকদেরকে নিয়ে সভা করে এবং বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তা বলে শিক্ষকদের মধ্যে কোন্দল তৈরির প্রয়াস চালায়। তারপর অধ্যক্ষের কার্যালয়ে এসে তার নিকট রেজুলেশন খাতা চায় এবং রেজুলেশন খাতাটি নিয়ে উক্ত ৩টি রেজুলেশন ছিড়ে নিয়ে যায়। উপস্থিত সকলে এমন কাজ না করার অনুরোধ করার পরও কারো কথা শুনেননি।
উপরোক্ত সভা না করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাজে অসহযোগিতার বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য গোপনে অফিস সহকারীদেরকে চাপ দিয়ে পূর্বের তারিখ উল্লেখ করে সভাপতি কর্তৃক গভর্নিং বডির মিটিং ডেকেছে মর্মে ৪টি চিঠি রিসিভ করিয়ে নেয়। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ বিষয়টি অবগত হয়ে অফিস সহকারীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিলে তারা বিস্তারিত লিখে জবাব দাখিল করে। উল্লেখিত ঘটনাবলী প্রমাণাদিসহ মাননীয় এমপি মহোদয়কে দেখানো হয়েছে।
০৩/০৯/২০২২ ইং তারিখ ০৩ জন শিক্ষক তাদের উচ্চতর স্কেল প্রাপ্তির কাগজ পত্র, উপাধ্যক্ষের বকেয়া বেতন ভাতার কাগজপত্র ও শিক্ষক-কর্মচারীদের সরকারী বেতন-ভাতার বিল আগস্ট/২০২২ নিয়ে কুমিল্লা থেকে সভাপতির ঢাকার বাসায় যান। তিনি স্বাক্ষর না করে শিক্ষকদের ফেরৎ পাঠিয়ে দেন।
তার এহেন কর্মকান্ডের কারণে বিশেষত একক আধিপত্য বিস্তার, স্বেচ্ছাচারিতা এবং অন্যান্য সদস্যদের অপমান করায় কমিটির ০৯ জন সদস্য পদত্যাগ করেন। তাদের পদত্যাগ পত্রসহ মাদ্রাসা বোর্ডে আবেদন করা হলে মাদ্রাসা বোর্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত করে প্রমাণিত হওয়ায় কমিটি ভেঙ্গে দেয় এবং এড-হক কমিটি গঠনের অনুরোধ করে। তারপর থেকে পদ হারিয়ে তার মাথা খারাপ হয়ে যায়, তখন সে আবোল তাবোল কথাবার্তা বলা শুরু করে এবং মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে প্রতিষ্ঠান ও অধ্যক্ষের ব্যাপারে নাম সর্বস্ব কিছু পত্রিকায় লেখালেখি শুরু করে, যেগুলোর প্রতিবাদ ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে পত্রিকায় ছাপা হয়েছে। অচিরেই প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিশেষ প্রতিবেদক :