কুমিল্লা মহানগরীতে প্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে ব্যাটারিচালিত মিশুক, অটোরিকশা, ইজিবাইক চোর এবং ছিনতাইকারী চক্রের সক্রিয় সদস্যরা। নগরীতে ৮/১০ জনের কয়েকটি চক্র যাত্রী সেজে, দারোয়ান সেজে, নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে কিংবা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ও কুপিয়ে মিশুক, অটোরিক্সা, ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছে সংঘবদ্ধ ওই চক্রটি। এ সময় কোন ভাবেই চালক প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে কখনো গাড়িটি রক্ষা করতে পারলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রেই প্রান হারাতে হচ্ছে সাধারন চালকদের।
অপ্রতিরোধ্যভাবে এমন ঘটনা অহরহ ঘটনার কারণে অনেক চালক ও মালিকরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে হচ্ছে। অন্যদিকে শুধু ইজিবাইক ও মিশুকই নয়, এসব গাড়ি ব্যাটারীও চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ছিতাইকারীরা। এ অবস্থায় সড়কে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।
জানা যায়, কুমিল্লা কোটবাড়ি বিশ^রোড, দৌলতপুর, গোবিন্দপুর, বলরামপুর চিশতিয়া মিলস, ঠাকুরপাড়া, চর্থা থিরাপুকুর পাড়, বড় পুকুর, ঢুলিপাড়া, রাজাপাড়া, ধর্মপুর, নেউরা, চকবাজার, চর্থা মহিলা কলেজ রোড, শাকতলা, দৌলতপুর, দিদার সমিতি, অশোকতলা, গোমতীর পাড়, হাউজিং এষ্ট্রেট, মুরাদপুর, বাখরাবাদ, বালুতুপা-লক্ষ্মীপুর সড়ক, জগন্নাথপুর, ইয়াসিন মার্কেট, চৌয়ারাসহ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারী বেড়ে গেছে। তবে সবচেয়ে বেশি ছিনতাই হচ্ছে শাকতলা, দৌলতপুর, দিদার সমিতি, বলরামপুর চিশতিয়া মিলস, টমছমব্রীজ-কোটবাড়ী সড়কে। প্রতিদিনই এ সড়ক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে।
এদিকে কুমিল্লায় একর পর এক মিশুক, ইজিবাইক, অটোরিকশা ছিনতাই ও চুরি হওয়াতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে ওইসব পেশার সাথে জড়িত চালক এবং মালিকরা। ঘন ঘন মিশুক, ইজিবাইক, অটোরিকশা চুরি হওয়ায় ভয়তে অনেকে এসব পেশা ছেড়ে নিয়ে বিকল্প কর্মসংস্থানের পিছনে ছুটছে। একের পর এক ঘটনায় তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। সাধারনত মিশুক, ইজিবাইক, অটোরিকশা ব্যবসার সাথে যারাই জড়িত বিভিন্ন এনজিও সংস্থা থেকে লোন দিয়ে পরিবারের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে একটি অটোরিকশা কিনে জীবিকার নির্বাহ করে থাকেন। এমতবস্থায় চোর কিংবা ছিনতাইকারীরা যদি জীবিকা নির্বাহের জন্য একমাত্র সম্বল টুকু ছিনিয়ে নিয়ে যায় তাহলে ভোক্তভোগী ঐ পরিবারটির অবস্থা কেমন হয় তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জানুয়ারী চর্থা বড় পুকুর পাড় এলাকার মোবারক হোসেনের মিশুকটি কোটবাড়ি রোডের চিশতিয়া মিলস এলাকা যাত্রী সেজে পরে চালকের গলায় চুরি ধরে মিশুকটি চুরি করে নিয়ে যায়। এ রকম চিশতিয়া মিলস এলাকায় একটি সিন্ডিকেট রয়েছে। রাতের আধারে ওই রোডে যাত্রী সেজে মিশুক, ইজিবাইক চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। মিশুক ও ইজিবাইকের কাগজপত্র না থাকায় কেহই পুলিশ প্রশাসনের ধারস্ত হচ্ছে না। মোবারক হোসেন পরে চোরকে চিহ্নিত করলে স্থানীয় রাজন মেম্বারের মাধ্যমে বৈঠক বসলে তারা চোর শাওনকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করে। পরে মিশুকটি আর উদ্ধার হওয়া সম্ভব হয়নি।
এছাড়াও ২ জানুয়ারী চর্থার নজরুল ইসলাম (বগা) দেড় লাখ টাকায় ঋণ নিয়ে একটি ইজিবাইক ক্রয় করে। নিজেই গাড়িটিকে চালাতো। একদিন এক নিকটাত্মীয় তার নিকট গাড়ি চালানোর জন্য অনুরোধ করলে তিনি তাকে চালাতে দিলে ওই ব্যক্তি গাড়িটি চুরি করে অন্যত্র বিক্রি করে। পরে লাকসাম গিয়ে গাড়িটির খোঁজ পেলে লাকসাম থানার পুলিশের দারস্ত হলে তার নিকট মোটা অংকের টাকা দাবি করেন ওই থানা পুলিশ। টাকা না দিলে গাড়িটি উদ্ধার করা সম্ভব নয় বলেও জানিয়ে দেয়া হয়। পরে ওই গাড়িটি পাওয়া গেলেও ওই এলকার মেম্বার মাতব্বরা নজরুল ইসলামকে গাড়ি না দিয়ে উল্টো ১০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু তিনি তা না নিয়ে চলে আসেন। এ রকম অহরহ ঘটনা ঘটছে কুমিল্লাসহ বিভিন্ন উপজেলায়। এছাড়াও থিরাপুকুর পাড়ের মামুনের একটি মিশুক গত ২৫ জানুয়ারী টমছমব্রীজ থেকে ছিনতাইকারী করে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মোবারক হোসেন জানান- চিশতিয়া মিলস এলাকা থেকে আমার মিশুকের চালককে গলায় ছুরি ধরে ছিনতাই করে নিয়ে যায়। পরে জানতে পারে ছিনতাইকারী শাওন আমার মিশুকটি করেছে। কিন্তু তাকে পেলেও পরে প্রভাবশালী একটি মহল তাকে পালাতে সাহায্য করে। মিশুক ছুরি সাথে ওই এলাকার কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।
এ বিষয়ে গ্যারেজ মালিক সোহাগ, অপুসহ এলাকার লোকজন জানান, কুমিল্লা শহরে ইতিমধ্যে মিশুক, অটোরিক্সা, ইজিবাইক চুরি বেড়ে গেছে। যার ফলে কেহই এ পদে আসতে চাচ্ছে না। গাড়ির পাশাপাশি গাড়ির ব্যাটারীগুলোও কৌশলে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে ছিনতাইকারীরা। আমরা প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

নিজস্ব প্রতিবেদক :