মাদারীপুরের শিবচরে এক্সপ্রেসওয়েতে বাস খাদে পড়ে ১৯ জন নিহতের ঘটনায় করা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বেরিয়ে এলো ভয়াবহ কারণ।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমাদ পরিবহনটি ফিটনেসহীন, চালকের নেই লাইসেন্স এবং বৃষ্টিভেজা সড়কে বেপরোয়া গতি।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরেন তদন্ত কমিটির প্রধান পল্লব কুমার হাজরা।
এ সময় ওই এক্সপ্রেসওয়ে দুর্ঘটনা রোধে ১৪টি সুপারিশও তুলে ধরা হয়। তবে কাগজে-কলমেই তদন্ত প্রতিবেদন না রেখে বাস্তবায়নের দাবি যাত্রী-চালকদের। দুর্ঘটনারোধে কঠোর ভূমিকার আশ্বাস দিচ্ছে প্রশাসনও।
তদন্ত কমিটির প্রধান ও মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরা বলেন, ‘বেপরোয়া গতির কারণে গত বছরের ১৭ নভেম্বর ইমাদ পরিবহনটির রেজিস্ট্রেশন স্থগিত করেন গোপালগঞ্জ বিআরটিএ অফিস। শুধু তাই নয়, পরিবহনটির মেয়াদোত্তীর্ণ হয় এ বছরের ১৮ জানুয়ারি। তারপরেও সদর্পে চলছিল ইমাদ পরিবহন। ফলে গত ১৯ মার্চ সকাল ৮টার দিকে মাদারীপুরের কুতুবপুরে এক্সপ্রেসওয়েতে ঘটে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা।
এছাড়া চালকের পেশাদার লাইসেন্স মধ্যম থাকলেও চালিয়েছেন ভারী যান। অন্যদিকে দুর্ঘটনার দিন বৃষ্টিভেজা রাস্তা থাকার কারণে চালকের অসচেতনার কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরো বলেন, সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে তদন্ত প্রতিবেদনে ১৪টি সুপারিশ দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে, চালক ও সংশ্লিষ্ট সকলের লাইসেন্স এবং একটি গাড়ির সব বৈধ কাগজপত্র নিশ্চিত করে মহাসড়কে গাড়ি চালানো নিশ্চিত করতে হবে, এক্সপ্রেসওয়েতে চলাচলকারী দ্রুতগতিসম্পূর্ণ গাড়ির চালক ও যাত্রীদের সিটবেল্ট পরিধান করতে হবে, গাড়ির ইন্টেরিয়র নরম বস্তু দিয়ে করা, এক্সপ্রেসওয়ের উভয়াপাশে গার্ড রেইল স্থাপন করতে হবে। এই রাস্তায় কমপক্ষে তিন লেন ব্যবস্থা রাখা জরুরি।

এছাড়াও মহাসড়কে চলাচলকারী সব পরিবহনের হালনাগাদ তথ্য সম্বলিত ডেটাবেইজ রাখতে হবে।
মাদারীপুর জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির আরেক সদস্য ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুজ্জামান ফকির বলেন, ‘এক্সপ্রেসওয়ে চলাচলকারী গাড়ির গতিসীমা নিয়ন্ত্রণের জন্যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যক্রম বৃদ্ধির জন্যে লোকবল ও টহল গাড়ি আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করতে হবে। দিনের নির্দিষ্ট সময়ে বিশেষ করে রাতে, ভোরে, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় গাড়ির গতি অপেক্ষাকৃত কম রাখতে হবে। দুর্ঘটনা কমাতে সড়ক ও মহাসড়কের সিটি টিভি, ট্র্যাকর, অনলইন মনিটরিং জোরদার করতে হবে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক হলেন, মাদারীপুর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিএম) পল্লব কুমার হাজরা, কমিটির সদস্য মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) মনিরুজ্জামান ফকির, বুয়েটের সহকারী অধ্যাপক শাহনেওয়াজ হাসানাত-ই-রাব্বি, মাদারীপুর বিআরটিএর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নুরুল হোসেন।
প্রসঙ্গত, খুলনা থেকে রাজধানী ঢাকাগামী ইমাদ পরিবহনের যাত্রীবাহী বাস রোববার (১৯ মার্চ) সকালে শিবচরের এক্সপ্রেসওয়েতে আসলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিচে পড়ে গিয়ে ১৯ জন নিহত হন। এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পল্লব কুমার হাজরাকে প্রধান করে চার সদস্যদের তদন্ত কমিটি গঠন করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক।

অনলাইন ডেস্ক :