মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

জামিন পেয়েই গ্যাং গোছাতে ব্যস্ত মিশু ও জিসান

সাইফুর রহমান আবির : প্রকাশিত: শুক্রবার, ১২ আগস্ট, ২০২২, ৭:৫১ এএম
জামিন পেয়েই গ্যাং গোছাতে ব্যস্ত মিশু ও জিসান
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বেশিদিন আগের কথা নয়, গতবছরের ৩ আগস্ট শরফুল হাসান ওরফে মিশু হাসান ও মাসুদুল ইসলাম ওরফে জিসান নামে দুই যুবককে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, মাদক ও ভারতীয় জাল রুপিসহ গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর র‌্যাব জানায়, ঢাকার অভিজাত এলাকায় রাতে পার্টি আয়োজনের নামে মাদক ব্যবসাসহ বিভিন্ন ধরণের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনায় ১০-১২ জনের একটি চক্র গড়ে তুলেছেন মিশু ও জিসান। পরে মিশুর বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ও পর্নোগ্রাফি আইনে পৃথক তিনটি এবং জিসানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি ও পর্নোগ্রাফি আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু যাদের বিরুদ্ধে খোদ র‌্যাবের এত অভিযোগ সেই মিশু ও জিসান গ্রেপ্তারের ৪ মাসের মধ্যেই আইনের ফাঁক গলে জামিনে বেরিয়ে এসেছেন। এরপর একজন পালিয়ে বিদেশে গিয়ে আরেকজন দেশেই অবস্থান নিয়েই নিজেদের চক্রের সদস্যদের সক্রিয় করতে উঠেপড়ে লেগেছেন। ফারিয়া মাহবুব পিয়াসাসহ চক্রের পুরাতন কয়েকজনের পরিচয় ফাঁস হয়ে যাওয়ায় নতুন সদস্যও সংগ্রহ করছেন তারা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছরের শুরুতে জামিন পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চোখকে ফাঁকি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের একটি দেশে চলে যান জিসান। আর শরফুল হাসান ওরফে ছোট মিশু অবস্থান করছেন দেশেই। মিশু দেশে থেকে মাদক এবং অস্ত্র চোরাচালানের নেটওয়ার্কটি আবারও সক্রিয় করতে কাজ করছেন। এক্ষেত্রে কাজে লাগাচ্ছেন জিসানের মালিকানাধীন ডেইরি সান এগ্রো নামে একটি ফার্মকে। বিদেশ থেকে উন্নতজাতের গরু আমদামির নামে গরুর পেটে করে হীরা, সোনার পাশাপাশি ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান ফের শুরু করেছেন তিনি। আর জিসান বিদেশে বসে চোরাইপথে বিলাসবহুল গাড়ি বাংলাদেশে পাঠাচ্ছেন। সেসব গাড়ি প্রভাবশালীদের কাছে বিক্রির করছেন মিশু। গতমাসেই ঢাকার বারিধারায় জব্দকৃত একটি বিলাসবহুল রোলসরয়েস মিশু-জিসান সিন্ডিকেটের সহায়তাতেই বাংলাদেশে এসেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও পলাতক জিসান বিদেশে বসে নিয়মিতই ডিজে পার্টির নামে অশ্লীল পার্টির আয়োজন করছেন। মাদক ও যৌনতায় ভরা ওসব পার্টিতে অংশগ্রহণ জন্য কৌশলে বাংলাদেশের প্রভাবশালীদের প্রলুব্ধ করছেন মিশু।
জানা গেছে, শরফুল হাসান ওরফে ছোট মিশু ঢাকার মোহাম্মদপুরের তাজমহল রোডের নেয়ামত উল্লাহ ও ফরিদা বেগমের ছেলে।কৈশর বয়সেই ছিনতাইসহ নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন তিনি, গড়ে তোলেন কিশোর গ্যাং। মাদক ব্যবসা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২০০৩ সালে প্রথমবারের মতো পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হন মিশু। কয়েক মাস জেলে খেটে বেরিয়ে অবৈধ পথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি জমান তিনি।সেখানে বসেই বাংলাদেশী-তালিকাভুক্ত অপরাধীদের সাথে একটি বিশ্বব্যাপী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন মিশু। এরপর ‘ইয়াবা’ (মেথামফেটামিন) ব্যবসা, সোনা-হীরা চোরাচালান এবং নকল ডলার উৎপাদন ও চোরাচালান করে অল্পসময়েই বিপুল অর্থের মালিক মনে যান। কয়েকবছর পর বাংলাদেশে ফিরে ব্যক্তিগত লেট নাইট পার্টি (ডিজে পার্টি) আয়োজন শুরু করেন।পার্টির আড়ালে দেশ-বিদেশে নারী ও মাদক সরবরাহ করতেন তিনি। শুধু তাই নয়, পার্টিতে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন অন্তরঙ্গ মূহুর্তের গোপন ভিডিও ধারণ করে বিত্তবানদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন মিশু।এত অপরাধ করেও দীর্ঘদিন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখে পড়েননি তিনি। অবশেষে গত বছরের ৩ আগস্ট কুখ্যাত মডেল পিয়াসাকে গ্রেপ্তারের পর তার জবানবন্দিতে উঠে আসে মিশু ও জিসানের নানা কুকীর্তি। পরে ওই দিন রাতেই মিশু ও জিসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এসময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি আগ্নেয়াস্ত্র, ৬ রাউন্ড গোলাবারুদ, ১৩ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা, একটি ফেরারি গাড়ি, সিসার সরঞ্জামাদি, ২টি ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকবই ও এটিএম কার্ড, পাসপোর্ট এবং জাল ভারতীয় রুপি। পরে র‌্যাবের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মিশু তার সব অপরাধ স্বীকার করে।
অন্যদিকে মিশুর সহযোগী জিসান পাবনা সদর উপজেলার রফিকুল ইসলামের সন্তান। মিশুর ঘনিষ্ঠ সহযোগী জিসান নিজের পরিচয় দেন ডেইরি সান এগ্রো নামে একটি খামারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে। মূলত এই খামারই জিসান ও মিশু গংয়ের মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের মূল কেন্দ্র। থামারের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করার নামে গরুর পেটে করে হীরা-সোনা, মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের রমরমা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন তারা।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×