রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৫, ৫:৪০ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিবন্ধী নারীর জমি দখল ও মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রতারণার মাধ্যমে ইদুনি বেগম নামের প্রতিবন্ধী (বোবা) এক নারীর স্বামীর মৃত্যুর পরে রেখে যাওয়া প্রাপ্ত সম্পদের ন্যায্য হিস্যার ৭.৮৩ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করার অভিযোগ উঠেছে নিজ সন্তান আবিদ আলী ও তার ছেলে শামীম এর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলা কাশিনগর ইউনিয়নের বালিমুড়ি গ্রামে। বিষয়টি নিয়ে ভুক্তভোগিরা প্রতিবাদ করলে দখলকারীরা আদালতে নারী নির্যাতনের মিথ্যা মামলা দিয়ে ব্যাপক হয়রানি করে আসছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগি একই গ্রামের মৃত ছায়েদ আলীর ছোট ছেলে আব্দুল আলী চৌদ্দগ্রাম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ঘটনাটি জানাজালি হলে এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাশিনগর ইউনিয়নের বালিমুড়ি গ্রামের মো. ছায়েদ আলী বেশ কিছু জমি রেখে বার্ধক্যজনিত কারণে ২০২৩ সালের ২৩ এপ্রিল নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র ও দুই কন্যা সন্তান রেখে যান। দেশের প্রচলিত আইন ও ইসলামী ফারায়েজ অনুযায়ী মৃত ছায়েদ আলীর রেখে যাওয়া সম্পত্তিগুলো তার স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েদের মধ্যে স্ব-স্ব হিস্যা অনুযায়ী বন্টন হওয়ার কথা। কিন্তু মৃত ছায়েদ আলীর বড় ছেলে আবিদ আলী তার পিতার মৃত্যুর মাত্র ছয়মাসের মাথায় পিতার রেখে যাওয়া জমির তার প্রতিবন্ধী মায়ের হিস্যার অংশটুকু (৭.৮৩ শতক) কোনোরূপ আপোষ-বন্টন ছাড়া প্রতারণার মাধ্যমে নিজের বড় ছেলে শামীম ও ছোট ভাইয়ের বড় ছেলে উসমানের মধ্যে সমান হিস্যা দেখিয়ে বসতবাড়ির জমি থেকে হেবা কবলা করে নেন। মৃত ছায়ের আলীর অন্য ওয়ারিশগণ বিষয়টি জানতেন না। ঘটনার একমাস পরে মৃত ছায়েদ আলীর ছোট ছেলে আব্দুল আলী বিষয়টি জানতে পেরে বড় ভাই আবিদ আলীকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি কোনো সদুত্তর দেননি। বিষয়টির সমাধানকল্পে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস অনুষ্ঠিত হয়। সমাধান না হওয়ায় উভয় পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন যাবৎ ঝগড়া বিবাদ লেগেই আছে। এরমধ্যে কয়েকবার মারামারির ঘটনা ঘটে তাদের মধ্যে। মারামারির ঘটনায় ভুক্তভোগি আব্দুল আলী, তার ছোট ছেলে মামুন, স্ত্রী ও বোন সহ কয়েকজন আহত হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত মামুন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধিন অবস্থায় সপ্তাহ খানেক ভর্তি ছিল বলে স্থানীয়রা নিশ্চিত করেছেন। এরমধ্যে অভিযুক্তরা আব্দুল আলীর চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়া সহ নানান হয়রানি করে। একপর্যায়ে আবিদ আলী ছোট ভাইকে শায়েস্তা করতে তার ভাতিজা বউ ফাতেমাকে ফুসলিয়ে তাকে দিয়ে আদালতে নারী নির্যাতনের একটি মিথ্যা মামলা (নং-২৭১/২০২৪) দায়ের করেন। মামলায় নথি হিসেবে যে সকল কাগজপত্র আরজির সাথে উপস্থাপন করা হয়েছে, সে সূত্র থেকে বুঝা যায় মামলাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো। উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবেই এ মামলাটি করা হয়েছে। এ ঘটনায় পারিবারিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন আব্দুল আলী। ন্যাক্কারজনক এ ঘটনার বিচার চেয়ে এখন ধারে ধারে ঘুরছেন ভুক্তভোগির পরিবার। চলাচলে বাধাগ্রস্থ হওয়া, আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সহ নানান সমস্যায় জর্জরিত এখন তিনি।

ভুক্তভোগি আব্দুল আলী, তার বোন হালিমা বেগম ও জায়েদা বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমাদের গ্রামের আওয়ামীলীগ নেতা আলী আশ্রাফের ছেলে খোরশেদ ও আম্বর আলী মুন্সীর ছেলে তাজুল ইসলাম এর কারণে আজ আমাদের পরিবারে জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলমান। গ্রামবাসীকে নিয়ে আমরা সমস্যা সমাধানে একাধিকবার বসলেও এদের কারণে সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তারা বিগত সরকারের আমলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে আমাদের মধ্যে বিবাদ বাড়িয়ে দেয়। মারামারির ঘটনায় তারা প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলো। আমাদের প্রতিবন্ধী মাকে দিয়ে তাদের সহযোগিতায় আমার ভাই একটি প্রতারণামূলক কবলা সৃষ্টি করে জোরপূর্বক জমি দখলে নিয়েছে। আমাদের ভাই-বোনের মধ্যে আগে মিল-মহব্বত ছিল। খোরশেদ আর তাজুল ইসলামের কারণেই আমাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে। আমি আমার পৈতৃক সম্পদের ন্যায্য হিস্যা চাই। বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। আশা করছি পুলিশি সহযোগিতায় সমস্যাটির সমাধান সম্ভব হবে।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আবিদ আলীর ছেলে মো. ফারুক বলেন, আমার চাচা থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছে। পুলিশ এসে আমাদেরকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় যেতে বলেছে। আমরা আইনীভাবে বিষয়টি মোকাবেলা করবো।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক নিমাই চন্দ্রনাথ বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উভয়পক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসতে বলেছি। স্থানীয় সামাজিক লোকজনকে নিয়ে শীঘ্রই সমস্যাটির সমাধান করা হবে।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

×