শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩

কুমিল্লার ৭০ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের প্রধান কান্দিখাল ভরাট : ভোগান্তিতে নগরবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১, ৭:৪৪ পিএম
কুমিল্লার ৭০ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের প্রধান কান্দিখাল ভরাট : ভোগান্তিতে নগরবাসী

ছবি সংগৃহিত।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার ৭০ শতাংশ পানি নিষ্কাশনের প্রধান কান্দিখালটি টমছমব্রীজ থেকে কচুয়া চৌমুহনী পর্যন্ত ভরাট করে কুমিল্লা-নোয়াখালি ৪ লেন রাস্তা নির্মানের কারনেই পানিবন্দি নগরবাসী। এর ফলে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা কাজে আসছে না জলাবদ্ধতা নিরসনে। মাত্র তিন ঘন্টার টানা বৃষ্টির পানিতে জনজীবন হয়ে পড়েছে বিপর্যস্ত।

ছবি সংগৃহিত।

তলিয়ে গেছে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সড়কসহ অলি-গলির রাস্তাঘাট। নগরীর অধিকাংশ সড়ক ডুবে গেছে হাঁটু পরিমাণ পানির নিচে আবার কোথাও তারও বেশি। বাড়িঘর-দোকানপাটের ভিতরেও ঢুকে পড়েছে পানি। নষ্ট হচ্ছে আসবাবপত্র। জলাবদ্ধতার কারণে নগরের রাস্তায় চলাচল করার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন কর্মজীবি নারী-পুরুষ, রোগী ও বিভিন্ন শ্রেণীপেশার লোকজন। রোববার (৪ এপ্রিল) নগরীর অধিকাংশ সড়কের চিত্র ছিল এমন। বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ এলাকার বাড়ি-ঘরে এবং অলিগলির দোকানপাটেও পানি ঢুকে পড়েছে এবং অনেকের আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিষপত্র নষ্ট হয়ে গেছে পানিতে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা এবং নোংরা দুষিত পানি এখন রাস্তার উপর থৈ থৈ করছে।

 

বেহাল অবস্থার মধ্যে পড়েছেন নগরীর গুরুত্বপূর্ণ লাকসাম সড়কের মনোহরপুর, দক্ষিণ চর্থা, উত্তর চর্থা, টমছমব্রিজ, শাকতলা, গোবিন্দপুর, বিসিক শিল্পনগরী, ঝাউতলা, রেইসকোর্স, কাঠেরপুল, কান্দিরপাড় টাউন হল মাঠ, স্টেডিয়াম, বজ্রপুর রোড, ছাতিপট্টি, চকবাজার, থিরাপুকুর পাড়, নজরুল এভিনিউ, ডিসি রোড, ছায়াবিতান, মুরাদপুর, বাগিচাগাঁও, ইপিজেড রোড, সরকারি মহিলা কলেজ রোড, ঠাকুরপাড়া বৌদ্ধমন্দির রোড, কালিয়াজুরিসহ বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা। নগরীর কুচাইতলী এলাকার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাম্পাস ও ভেতরের নিচতলায় পানি ঢুকে পড়ে রোগী ও সংশ্লিষ্টরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

ছবি সংগৃহিত।

নগরীর অধিকাংশ এলাকার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নগরীর অত্যন্ত ব্যস্ততম মনোহরপুর শিক্ষাবোর্ড এলাকা থেকে শাকতলা পানি উন্নয়ন বোর্ড, সড়ক ও জনপথ (সওজ) কার্যালয়ের সামনে দিয়ে জাঙ্গালিয়া কেন্দ্রীয় বাস টার্মিটাল পর্যন্ত প্রায় আড়াই কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের অবস্থা একেবারে নাজুক হয়ে পড়েছে। এ সড়কের পাশের খালের ময়লা আবর্জনা মিশ্রিত দূষিত পানিতে সড়কটি একাকার হয়ে গেছে। নগরীর বিভিন্ন সড়কে যানবাহন সংকটে পড়ে অনেকে হাঁটু পানি মাড়িয়ে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

 

এছাড়া নগরীর বিভিন্ন ভাঙ্গা রাস্তার গর্তে পড়ে ইজিবাইক, অটোরিকশাসহ ছোট ছোট যানবাহন উল্টে যেতে দেখা গেছে। এতে নগরবাসীর জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নগরীর ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, কুমিল্লা-নোয়াথালি ৪ লেন রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে টমছমব্রীজ থেকে কচুয়া চৌমুহনী পর্যন্ত কান্দিখাল ভরাট অপরিকল্পিত রাস্তাঘাট, নকশা বহির্ভূত বহুতল ভবন ও বাড়িঘর নির্মাণ, রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা অবৈধভাবে দখল করে দোকানপাট ও স্থাপনা নির্মাণ, সরু পরিসরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে একেবারে ধীরগতিতে পানি নিষ্কাষন হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা অনেকটা স্থায়ী রুপ নিয়েছে।

 

এক্ষেত্রে নগর কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব রয়েছে বলে দাবি করেন অনেকে। কুমিল্লা সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি বদরুল হুদা জেনু বলেন, জলাবদ্ধতা নগরবাসীর নিয়তি হয়ে দাঁড়িয়েছে। দুর্ভোগের যেনো শেষ নেই। জলাবদ্ধতা নিরসনে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা না হলে এ অভিশাপ থেকে নগরবাসীর মুক্তির কোনো উপায় নাই বলে মনে করেন তিনি। কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদফতরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ইসমাইল ভূঁইয়া কুমিল্লার ডাককে জানান, ভোর (রবিবার) ৬টা থেকে ৩ ঘন্টায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. মনিরুল হক সাক্কু কুমিল্লার ডাককে বলেন, নগরীতে পর্যাপ্ত ড্রেন রয়েছে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে পানি নিষ্কাষনের প্রধান খালটিতে পানি বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ধীরগতিতে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, কুমিল্লা-নোয়াখালি ৪ লেন রাস্তা নির্মান করতে গিয়ে কুমিল্লার ৭০ শতাংশ পানি নিস্কাশনের প্রধান খাল টমছমব্রীজ থেকে কচুয়া চৌমুহনী পর্যন্ত কান্দিখালটি ভরাটই বড় সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। তবু নগরবানীর কথা চিন্তা করে দ্রুত পানি নিষ্কাষনের জন্য ১৩০ জন কর্মী কাজ করছে।

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৫৮ পিএম
কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হ-ত্যা : সন্দেহভাজন সিএনজিচালক চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার

Oplus_131072

কুমিল্লার লালমাইয়ে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক সুমনকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার দুপুরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. লুৎফর রহমান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনা হচ্ছে। এ ঘটনায় তিনি একাই জড়িত, নাকি অন্য কেউ জড়িত, তা জিজ্ঞাসাবাদের পর বিস্তারিত জানানো হবে।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জব্দ করা অটোরিকশার নিবন্ধনের সূত্র ধরে এর মালিককে শনাক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার রাতে অটোরিকশার মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি জানান, সুমন গাড়িটি ভাড়ায় চালাতেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের বাড়ি চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায়। কয়েক বছর আগে বিয়ে করে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জয়নগর গ্রামে ঘরজামাই হিসেবে বসবাস শুরু করেন তিনি। পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রায় এক মাস আগে শ্বশুরবাড়ি ছেড়ে চলে যান বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগৎপুর গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে সপ্তম শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীর মুঠোফোনের কললিস্ট ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তার চলাচলের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাসায় যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল সে। তবে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সেদিন সে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যায়। পরদিন ৫ অক্টোবর কুমিল্লায় ফিরে ভোররাতে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়।

পুলিশের ভাষ্য, ৭ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কক্সবাজার থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ১০টার দিকে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের সামনে নামে ওই শিক্ষার্থী। সিসিটিভি ফুটেজে তাকে একটি গাড়ি থেকে একা নামতে দেখা যায়। আশপাশের কয়েকটি ক্যামেরার ফুটেজে মুঠোফোন হাতে ও কাঁধে ব্যাগ নিয়ে তাকে চলাফেরা করতেও দেখা গেছে। পরে সড়কের দিকে চলে যাওয়ার পর আর তার চলাচল ক্যামেরায় ধরা পড়েনি।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিহত শিক্ষার্থীর বাবা সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, বুধবার গভীর রাতে মেয়ে তাকে মুঠোফোনে বার্তা ও লাইভ লোকেশন পাঠিয়ে আটকে রাখার কথা জানায় এবং উদ্ধারের অনুরোধ করে। তবে তিনি তখন ঘুমিয়ে থাকায় বার্তাটি দেখতে পারেননি। ভোরে বার্তা দেখে লাইভ লোকেশন অনুসরণ করে সেখানে গিয়ে মেয়ের মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি জানতে পারেন।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিজানুর রহমান জানান, এ ঘটনায় নিহত শিক্ষার্থীর বাবা অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার সুমনকে কুমিল্লায় আনার পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হবে।

৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:৩৫ পিএম
৩২ বছরের ইমামতির অধ্যায় শেষ, আবেগঘন বিদায়ে মাওলানা আঃ রব

একটি মসজিদ, অসংখ্য স্মৃতি, আর দীর্ঘ ৩২ বছরের এক আত্মিক বন্ধন—বিদায়বেলায় আবেগ আর ভালোবাসায় সিক্ত হলেন থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আঃ রব সাহেব। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর কণ্ঠে আজান, নামাজে ইমামতি, ধর্মীয় শিক্ষা ও মানুষের সঙ্গে গড়ে ওঠা আন্তরিক সম্পর্কের স্মৃতি মসজিদপ্রাঙ্গণে রেখে গেল এক আবেগঘন অধ্যায়।

তাঁর দীর্ঘদিনের সেবার প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানিয়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী সংবর্ধনার। এ সময় একই সঙ্গে থিরাপুকুর পাড় জামে মসজিদের নতুন ইমাম হিসেবে মাওলানা সাইফুল ইসলামকে বরণ করে নেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মসজিদ, মার্কেট ও মাদ্রাসা উন্নয়ন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও সাবেক কাউন্সিলর রাজিউর রহমান রাজিব, কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম, সিনিয়র সহসভাপতি হাজী আব্দুস সালাম মাসুক, সাধারণ সম্পাদক বদরুল হাসান রাব্বু, কমিটির অন্যান্য সম্মানিত সদস্য এবং স্থানীয় মুসল্লিরা।

দীর্ঘ ৩২ বছরের ইমামতির দায়িত্ব পালন শেষে মাওলানা আঃ রব সাহেবের বিদায় কেবল একজন ইমামের বিদায় নয়; এটি একটি এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা একজন মানুষের কাছ থেকে সাময়িক বিচ্ছেদের মুহূর্ত। তাঁর নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও ধর্মীয় সেবার স্মৃতি স্থানীয় মুসল্লিদের হৃদয়ে দীর্ঘদিন অমলিন হয়ে থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

অন্যদিকে, নতুন ইমাম মাওলানা সাইফুল ইসলামের আগমনে মসজিদের ধর্মীয় কার্যক্রম আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হবে—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন উপস্থিত মুসল্লি ও কমিটির সদস্যরা। বিদায়ী ইমামের সুস্থতা ও কল্যাণ কামনার পাশাপাশি নতুন ইমামের দায়িত্ব পালনে মহান আল্লাহর রহমত ও সহযোগিতা কামনা করা হয়।

নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ২:৪৪ পিএম
নানিকে দেখতে এসে সড়কে মৃত্যু, অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে রেখে গেলেন আরমান

নানিকে দেখতে সুদূর সিলেট থেকে কুমিল্লার দেবিদ্বারে এসেছিলেন ২৪ বছর বয়সী আরমান হোসেন। ট্রেন থেকে নেমে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে রওনা হয়েছিলেন নানাবাড়ির উদ্দেশে। কিন্তু প্রিয় নানির কাছে পৌঁছানো হলো না তাঁর। গন্তব্যে যাওয়ার আগেই দ্রুতগতির ট্রাকের ধাক্কায় সড়কে ঝরে গেল তরুণ এই প্রাণ। নাতির মরদেহের পাশে বসে ৭০ বছর বয়সী নানি রাবেয়া খাতুনের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে দুর্ঘটনাস্থলের পরিবেশ।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার চরবাকর বাসস্ট্যান্ডসংলগ্ন অটো ব্রিকস ফিল্ডের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জগামী যাত্রীবাহী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে কুমিল্লামুখী একটি দ্রুতগতির ট্রাক ধাক্কা দেয়। এতে অটোরিকশাটি সড়কে ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আরমান। এ ঘটনায় অটোরিকশার চালকও আহত হন।

নিহত আরমান হোসেন সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার ফতেহপুর গ্রামের ফখরুল ইসলামের ছেলে। পেশায় তিনি ছিলেন মোটরসাইকেল মেকানিক। তাঁর নানাবাড়ি কুমিল্লার দেবিদ্বার পৌর এলাকার ভিংলাবাড়ি গ্রামে।

স্বজনদের বরাত দিয়ে জানা যায়, স্বামী ও ছেলেকে হারানোর পর দুই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় নাতি আরমানই ছিলেন বৃদ্ধা রাবেয়া খাতুনের প্রধান ভরসা। নানির ভরণপোষণের দায়িত্বও পালন করতেন তিনি। নাতিকে হারিয়ে এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন ৭০ বছর বয়সী এই নারী।

আরমানের পরিবারেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর তিন বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে, নাম আরিয়ান। স্ত্রী স্বপ্না সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে স্ত্রী, ছোট সন্তান ও অনাগত শিশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। সড়ক অবরোধের কারণে মহাসড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। পরে সকাল ১০টার দিকে দেবিদ্বার থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

মীরপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনাস্থল থেকে আরমানের মরদেহ ও দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নানিকে দেখতে এসে আরমানের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবারের স্বজনদের মধ্যে। পেছনে রয়ে গেলেন অসহায় নানি, স্ত্রী, ছোট্ট সন্তান ও পৃথিবীর আলো দেখার অপেক্ষায় থাকা আরেকটি প্রাণ।

×