সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লা ডায়বেটিস হাসপাতালে  ভুল চিকিৎসায় প্রবাস ফেরত ব্যক্তির মৃ’ত্যুর অ’ভিযোগ, রফাদফার আশ্বাস

স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৫, ১২:৫২ এএম
কুমিল্লা ডায়বেটিস হাসপাতালে  ভুল চিকিৎসায় প্রবাস ফেরত ব্যক্তির মৃ’ত্যুর অ’ভিযোগ, রফাদফার আশ্বাস
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

 

কুমিল্লা নগরীতে ভুল চিকিৎসার কারণে এক প্রবাস ফেরত ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজনেরা। শনিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় নগরীর পশ্চিম বাগিচাগাঁও এলাকায় কুমিল্লা ডায়বেটিক হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং স্বজনরা ভাঙচুরের চেষ্টা করলে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত মো. ইয়াছিন বরুড়া উপজেলার আগানগর এলাকার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি শনিবার সকালে বিদেশ থেকে বাড়িতে ফেরেন। তিন মাস আগে একই হাসপাতালে তার পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে অস্ত্রোপচার হয়েছিলো। দেশে ফিরে পায়ের ওই স্থানে পুনরায় ব্যথা অনুভব করলে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান।

স্বজনদের অভিযোগ, সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মিঠুকে দেখানোর পর তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আরেক দফা অপারেশন প্রয়োজন বলে জানান এবং এর জন্য বিশ হাজার টাকা দাবি করেন। পরিবারের সম্মতিতে দুপুর তিনটায় অপারেশন সম্পন্ন হয়। পরে মো. ইয়াছিনকে অপারেশন থিয়েটার থেকে হাসপাতালের কেবিনে পাঠানো হয়।

স্বজনরা জানান, কেবিনে আনার পর ইয়াছিন অস্বস্থি বোধ করতে থাকেন। বিষয়টি স্বজনেরা ডিউটিরত নার্সকে জানালে তিনি দুই শত টাকা দাবি করেন এবং এর বিনিময়ে একটি ব্যাথানাশক ‘প্যাথিডিন মরফিন’ ইনজেকশন ও এর আগে রোগীর স্বজনদের নিয়ে আসা ঘুমের ইনজেকশন একসঙ্গে রোগীর শরীরে প্রয়োগ করেন। ইনজেকশন পুশ করার পর মুহূর্তের মধ্যেই রোগী নিস্তেজ হয়ে পড়েন। স্বজনরা ডাকাডাকি করলে নার্সরা রোগীর অবস্থা বুঝতে পেরে তার সব নথিপত্র নিয়ে সরে পড়েন। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হলে সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, রোগী অনেক আগেই মারা গেছেন।

নিহতের স্ত্রী মোসা. রহিমা বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, আমার স্বামী দেশে ফিরেই দেরী না করে হাসপাতালে আসে। তারা কোনো পরীক্ষা নিরীক্ষা ছাড়াই অপারেশনের সিদ্ধান্ত দেয়। অপারেশনের পরও ব্যথা কমেনি। পরে নার্সরা আমাদের দিয়ে ওষুধ আনিয়ে ও নিজেরা ২০০ টাকা নিয়ে একটি ব্যাথানাশক ইনজেকশন পুশ করে। সেটাই আমার স্বামীর মৃত্যু ঘটিয়েছে। আমি এর বিচার চাই।

মো. ইয়াছিনের চাচাতো ভাই নূর নবী বলেন, বিদেশ থেকে ফিরেই তাকে হাসপাতালে আনা হয়। কোনো ধরনের শারীরিক পরীক্ষা ছাড়াই তাকে অপারেশন করানো হয়েছে। এরপর ভুল ইনজেকশন দেওয়ার কারণে তিনি মারা যান। এটি সুস্পষ্ট চিকিৎসাগত গাফিলতি।

এদিকে, সরেজমিনে দেখা যায়, স্বজনরা হাসপাতালে উত্তেজনা সৃষ্টি করে এবং ভাঙচুরে তেড়ে যায়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তিকে স্বজনদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করতে দেখা যায় ও একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। আলোচনায় সিদ্ধান্ত হয়, আগামী সোমবার দুই পক্ষ বসবে, সেখানে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পরে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের রফাদফার আশ্বাসে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরে যায় স্বজনেরা।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে জানতে চাইলে, কুমিল্লা ডায়াবেটিক হাসপাতালে ট্রেজারার নূরে আলম ভূঁইয়া বলেন, আমরা রোগী পক্ষকে নিয়ে বসেছি। রোগীর পক্ষকে আমরা বলেছি তাদের যেটা ইচ্ছা সেটাই হবে। পরে রোগীর স্বজনরা ময়নাতদন্ত করতে রাজি হয় নি, তারা ইনসাফ চেয়েছেন। তাই আমরা রোগীর স্বজনদের বলেছি সোমবার তাদেরকে নিয়ে বসবো। প্রশাসনের লোকজন থাকবেন। সেখানে সিদ্ধান্ত হবে।

কুমিল্লা ডায়বেডিক হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, আমি দূরে আছি। তবে শুনেছি, আমাদের কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের সাথে আলাপ করলে তারা বলেছে পোস্টমর্টেমের প্রয়োজন নেই। আমরা এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। এতে ডাক্তার যদি দোষী হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কোতওয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মহিনুল ইসলাম বলেন, আমরা খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠিয়েছি। পুরো বিষয়টি যাচাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন রেজা মো. সারওয়ার আকবর বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কিন্তু, অফিশিয়ালি কোনো লিখিত অভিযোগ পাই নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আমি তদন্ত সাপেক্ষে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-রেফারি কমিশনে কুমিল্লার সেন্‌সি জুবায়ের ইসলাম খালিদ

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৫৫ এএম
চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-রেফারি কমিশনে কুমিল্লার সেন্‌সি জুবায়ের ইসলাম খালিদ

বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের (BKF) উদ্যোগে চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-রেফারি কমিশন গঠন করা হয়েছে। নবগঠিত এ কমিশনে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন কুমিল্লার কারাতে প্রশিক্ষক ও সংগঠক সেন্‌সি মো: জুবায়ের ইসলাম খালিদ।
চট্টগ্রাম বিভাগের কারাতে অঙ্গনে দায়িত্বশীল এ কমিশনে কুমিল্লার একজন কারাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অন্তর্ভুক্তিকে জেলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ও সম্মানের বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেন্‌সি মো: জুবায়ের ইসলাম খালিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি কুমিল্লার জন্য এবং চট্টগ্রাম বিভাগের জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও দায়িত্বের একটি বিষয়। মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি এবং বাংলাদেশ কারাতে ফেডারেশনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।”
তিনি আরও বলেন, অর্পিত দায়িত্ব সততা, নিষ্ঠা, নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন। পাশাপাশি কারাতে অঙ্গনের সিনিয়র, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করেন।
কারাতে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় উপ-রেফারি কমিশনে সেন্‌সি মো: জুবায়ের ইসলাম খালিদের অন্তর্ভুক্তি কুমিল্লার কারাতে অঙ্গনের জন্য একটি ইতিবাচক স্বীকৃতি এবং ভবিষ্যতে এ অঞ্চলের কারাতে কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আজম মেম্বারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপির নির্বাচিত এমপির কাছে মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির আবেদন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৪৫ পিএম
আজম মেম্বারের গ্রেফতারের প্রতিবাদে মানববন্ধন, বিএনপির নির্বাচিত এমপির কাছে মামলা প্রত্যাহার ও মুক্তির আবেদন

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির মনোনীত নির্বাচিত এমপিআবুল কালামের কাছে সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও তাঁর মুক্তির দাবিতে আবেদন জানিয়েছেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা কথিত মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২ নম্বর সরসপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রপুর গ্রামে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাহাব উদ্দিন আজম মেম্বার ২ নম্বর সরসপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রুদ্রপুর গ্রামের সন্তান। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাজনৈতিক কারণে তাঁকে বিভিন্ন সময় নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে। বক্তাদের দাবি, রাজনৈতিক হয়রানির কারণে আজম মেম্বার ও তাঁর পরিবার দীর্ঘদিন স্বাভাবিকভাবে বসবাস করতেও পারেননি।

বক্তারা আরও বলেন, কালাম ভাইয়ের নেতৃত্বে রাজনীতি করতে গিয়ে আজম মেম্বারকে বহু প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। এমনকি রাজনৈতিক কারণে তাঁকে নিজের বাড়িতেও নিয়মিত থাকতে পারেননি বলে দাবি করেন তারা। বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটিকেও তারা ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করছেন।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপির নির্বাচিত এমপির প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আজম মেম্বারের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁর পাশে দাঁড়াতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

এ সময় বক্তারা অবিলম্বে আজম মেম্বারের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার নিরপেক্ষ তদন্ত, হয়রানি বন্ধ এবং তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হলে দ্রুত মুক্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

মানববন্ধন শেষে স্থানীয় নেতাকর্মী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা এমপির কাছে লিখিত আবেদন জানান এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

রাত আড়াইটায় হোটেল নুরজাহানের সামনে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

কুমিল্লায় স্লিপার কোচে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৯ পিএম
কুমিল্লায় স্লিপার কোচে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা যাত্রীরা

Oplus_131072

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি স্লিপার নাইট কোচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার হোটেল নুরজাহানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাকিবুল ইসলাম।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কক্সবাজার থেকে নওগাঁগামী ‘শাহ ফাতিহা স্লিপার কোচ’ বাসটি রাত আড়াইটার দিকে পদুয়ার বাজার এলাকার হোটেল নুরজাহানের সামনে যাত্রাবিরতি দেয়। বাসটি থামার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ আগুন জ্বলে ওঠে।

মুহূর্তের মধ্যেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।

কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার ফাইটাররা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এ ঘটনায় কোনো যাত্রী হতাহত হননি।

অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। বিষয়টি সংশ্লিষ্টরা খতিয়ে দেখছেন।

×