কুমিল্লায় শতবর্ষী পুকুর ভরাটে দুই মাসেও নেই ব্যবস্থা,জনমনে ক্ষোভ
কুমিল্লা নগরীর সুজানগর এলাকায় শতবর্ষী একটি ঐতিহ্যবাহী পুকুর রাতের আঁধারে ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। গত ১ জানুয়ারি স্থানীয় বাসিন্দারা কুমিল্লা পরিবেশ অধিদপ্তরে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান এবং পুকুর ভরাটকারী ১৭ নম্বর ওয়ার্ড সুজানগর এলাকার মৃত আবদুল কাদেরের ছেলে মোঃ আবুল কালাম আজাদকে ভরাট কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভরাটকৃত মাটি অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।
কিন্তু অভিযোগের দুই মাস পার হলেও এখনো পুকুর থেকে মাটি সরানো হয়নি। এতে এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের সুন্নিয়া জামে মসজিদের পশ্চিম পাশে অবস্থিত পুকুরটি প্রায় এক শতাব্দী ধরে ওযু, গোসল ও দৈনন্দিন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পুকুরটির খতিয়ান নম্বর ২৪, বি এস দাগ ৪০৭, মৌজা সোজাগঞ্জ, জে এল নম্বর ১৫৯। এলাকাবাসী ও ওয়ারিশগণ পরিবেশ অধিদপ্তর কুমিল্লা জোনে অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের দাবি, এটি এলাকার একমাত্র প্রাকৃতিক জলাধার। দীর্ঘদিন ধরে পুকুরটি পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং অগ্নিকাণ্ডের সময় ফায়ার সার্ভিসের পানির উৎস হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পুকুরটি ভরাট হলে বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাবে এবং অগ্নিনির্বাপণে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।
আইন অনুযায়ী, বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সংশোধিত ২০২৩ এর ধারা ৬(১) অনুযায়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের পূর্বানুমতি ছাড়া ভূমির প্রকৃতি পরিবর্তন করা যায় না। প্রাকৃতিক জলাধার ভরাটের অপরাধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।
এছাড়া প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন ২০০০ এর ধারা ৫ অনুযায়ী জলাশয়ের শ্রেণি পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। এই আইনে দোষী ব্যক্তিকে ৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যেতে পারে।
আইন অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব অবৈধভাবে পুকুর ভরাট রোধে তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করা এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
এবিষয়ে, পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোসাব্বের হোসেন রাজিব বলেন, আমরা শীঘ্রই এর ব্যবস্থা নিচ্ছি।
এলাকাবাসীর জোর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে পুকুর ভরাট কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ করে ভরাটকৃত মাটি অপসারণ করে শতবর্ষী পুকুরটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হোক।











