শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

আওয়ামী রাজনীতিতে ভয়ংকর তৎপরতা স্বপ্নার!

বদরুল আমীন, ময়মনসিংহঃ প্রকাশিত: সোমবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২২, ২:৪৬ পিএম
আওয়ামী রাজনীতিতে ভয়ংকর তৎপরতা স্বপ্নার!
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

রাজনীতি করতে নেমেছি! ডোন্ট মাইন্ড, ফ্রিলিই বলতেছি, রাজনীতি করতে হলে কাপড় খুলেই রাজনীতিতে নামতে হয়। তাহলে মুখ আবার ডাকা কি? যখন আমরা ঢাকা যাই। যখন আমরা ভুল করি তখন আমাদের বড় নেত্রী কুত্তার বাচ্চা শুয়োরের বাচ্চা মা বাপ তুলেই গালি দেয়। তখন তো আমরা কষ্ট পাই না। রবিবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যার দিকে ময়মনসিংহ জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সপ্না খন্দকারের এমন বক্তব্যের ৩১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপরেই শুরু হয় নানা আলোচনা সমালোচনা। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল স্বপ্না খন্দকার তার ফেসবুক আইডি থেকে ৪০ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের একটি লাইভে আওয়ামীলীগ সমর্থক ও ফেসবুক এক্টিভিস্ট উৎপল কর নামে একজনকে অকথ্য ভাষায় গালাগালি করেন। ওই ভিডিও থেকে সেই উৎপল কর ৩১ সেকেন্টের একটি ভিডিও তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার দেন। এরপরই ভিডিওটি কয়েকটি পেজ ও আইডিতে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ৪০ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের ভিডিও’র প্রথম ৭ মিনিটের লাউভে স্বপ্না খন্দকার বলেন, আজকে ঘুম থেকেই উঠলাম এক ঘন্টা পর। উঠেই দেখলাম উৎকল কর পাগলা (মাদারচুদের বাচ্চা-প্রকাশ করার মত না)। আপনার সবাই আমার ফ্রেসবুক ফ্রেন্ড ফলোয়ার তাই একটু ফ্রি মাইন্ডে বললাম। সে একটা পাগলা (মাদারচুদের বাচ্চা-প্রকাশ করার মত না) সে বলেছে তার বিরুদ্ধে (ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা) সে যে কুর্কমটা করেছে, ওই মামলাটি তুলে না নিলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি সিআইডি অফিসে গিয়েছিলাম। তার নামে রেজিস্ট্রেশন ছাড়া একটা সিম আছে। সেই সিম দিয়ে তার লোকেশন শনাক্ত করেছে। তার একটা ছেলে আছে, ছেলে কোন স্কুলে পড়ে। তার স্ত্রী কোন স্কুলে মাস্টারী করে। তার শ্বশুর পল্লী কিচিৎসক, হোমিও প্যাথিক ওষুধ বিক্রি করে, তার কাছে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, পরে ভাবলাম পাগলে কি না করে, ছাগলে কি না খায়। সে তো টাকলা মুরাদ হয়ে গেছে। আমরা রাজনীতি করি। যার সাথে যে ভাষা ব্যবহার করা লাগে। সেই ভাষাই ব্যবহার করি। কিন্তু, আমরা যদি ভুল করি, আমাদেরও বকা শুনতে হয়। সে আল্টিমেটাম (মাদারচুদের বাচ্চা-প্রকাশ করার মত না) দিয়েছে, আজ ১২ টার মামলা তুলে না নিলে আমাকে মেরে ফেলবে। কে তথ্য প্রযুক্ত আইনে মামলা খায়, যে অন্যায় করে সেইতো তথ্য প্রযুক্ত আইনে মামলা খায়। সে ফেসবুকে সরকারকে কটুক্তি করে, এই কারণে সরকার তার আইডি বার বার ব্যান করে দিয়েছে। এই (মাদারচুদের বাচ্চা-প্রকাশ করার মত না) সরকার কি তোকে এগুলো করার দায়িত্ব দিছে। আমার স্বামী কি আমাকে দেখার জন্য তোকে দায়িত্ব দিছে। উৎপল করের বাচ্চা, মদ খোড়, নিজের ফেসবুকে লিখে রাখছছ নাস্তিক (মাদারচুদের বাচ্চা-প্রকাশ করার মত না)। আমি ফেসবুকে কখনো কারো সাথে রাগ করে কথা বলি না। আজকেই ফাস্ট আমি ফেসবুক লাইভে এসে কারোর সাথে রাগ করে কথা বলেছি। তার বিরুদ্ধে আইসিটি মামলার জন্য বিভিন্ন মানুষের পায়ে ধরে, দরজায় দরজায় ঘুরছে, আমার কাছে আসে না। বিভিন্নভাবে আমাকে রাগান্বিত করে। আমি গালাগালি করলে কেটে কেটে সে ফেসবুকে শেয়ার দেয়। ওই ভিডিও স্বপ্না খন্দকার আরও বলেন, রাজনীতি করতে নেমেছি! ডোন্ট মাইন্ড, ফ্রিলিই বলতেছি, রাজনীতি করতে হলে কাপড় খুলেই রাজনীতিতে নামতে হয়। তাহলে মুখ আবার ডাকা কি? যখন আমরা ঢাকা যাই। যখন আমরা ভুল করি তখন আমাদের বড় নেত্রী কুত্তার বাচ্চা শুয়োরের বাচ্চা মা বাপ তুলেই গালি দেয়। তখন তো আমরা কষ্ট পাই না। (এরপর উৎপল করের স্ত্রীসহ পরিবারের সবাইকে কথায় কথায় গালাগালি করে। যা প্রকাশ করার মত না) এ বিষয়ে জানতে উৎপল করের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জাগো নিউজকে বলেন, স্বপ্না খন্দকারের সাথে পরিচয় হওয়ার আগে তার বোন লাকির সাথে আমার পরিচয় হয়। সে বিভিন্ন সময় ফেসবুকে আমার লেখার প্রশংসা করতেন। এর কিছুদিন পরে জানতে পারি, তারা দুই বোন দলের নাম ভাঙিয়ে মানুষের সাথে ভয়াবহ প্রতারণা করে আসছে। সরকারী চাকরী পাইয়ে দেয়ার কথা বলে টাকা নেয়া, মানুষের কাছ থেকে হুমকি দিয়ে টাকা নেয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে তারা জড়িত। তাদের প্রতারণার বিষয়ে ফেসবুকে লেখালেখি ও স্থানীয় কিছু পত্রিকায় প্রকাশিত হলে দুই বোন আমার নামে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে। তবে, পরে তার বোন লাকি মামলা তুলে নিলেও স্বপ্না খন্দকার মামলা তুলে নেয়নি। মামলাটি এখন সিআইডিতে তদন্তাধীন আছে। ওই বিরোধ থেকে ফেসবুক লাইভে এসে আমাকে, আমার পরিবার, এমনি আমার শ্বশুরকেও অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে। আপনি কি তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আগামী দুই দিনের মাঝে যদি আমার সাথে এসব বিষয় মিমাংসা না করে। তাহলে অবশ্যই আমি আইনগত ব্যবস্থা নেব। এ বিষয়ে জেলা মহিলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সপ্না খন্দকার বলেন, যে ভিডিওটি শেয়ার দিয়েছে। সে আমার একটি ফেসবুক লাইভের খন্ডিত অংশ প্রকাশ করেছে। সে সব সময় শেখ হাসিনা আপা, কাদের ভাই তাদের নিয়ে ফেসবুকে ট্রল করে। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শ্রদ্ধা করি, তার রাজনীতি। বড় নেত্রী কুত্তার বাচ্চা, শুয়োরের বাচ্চা, মা বাপ তুলে গালি দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, বিষয়টা এমন না। যখন ৫ বছরের ছেলেকে ২০ বছরের ছেলেকে বলাৎকার করে তখন আমরা বড় বড় নেত্রীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পঁচা ভাষা ইউজ করতে হয়। সে এই বক্তটা কেটে বড় নেত্রী গালাগালি করার বিষয়টি হাইলাইট করেছে। তবে, পুরো লাইভ আমার আইডিতে শেয়ার দেয়া আছে। আপনার যদি মনে হয়। আমি বেশি বলে ফেলছি, তাহলে নিউজ করে দেন। এ বিষয়ে জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সেলিনা রহমান বলেন, আমি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করব না। কেউ তো অন্যায়ের উর্দ্ধে নয়। তবে, সে যদি কোন দুর্নীতি বা অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×