বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

একই মঞ্চে হাসনাত আব্দুল্লাহ

একটি দল দেশ শাসনের জন্যে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায় : ডা. তাহের

সাইদুল হক, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯:২৬ পিএম
একটি দল দেশ শাসনের জন্যে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায় : ডা. তাহের
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, আজ দেশ দুইভাগে বিভক্ত হয়ে আছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নির্ধারণ করবে, জুলাই বিপ্লবের যে চেতনা, স্বাধীন বাংলাদেশের সে চেতনা, সেটি টিকে থাকবে, নাকি আবার আমরা পেছনে, অন্ধকারে, স্বৈরাচার-ফ্যাসিবাদের দিকে চলে যাব। এটি নির্ধারণের জন্য মোক্ষম সময় হচ্ছে আগামী নির্বাচন। আমরা মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই। একটি দল নতুন করে ভারতের সাথে আপোস করে আবার দেশ শাসনের জন্যে বাংলাদেশকে বিক্রি করে দিতে চায়। এদেশের মানুষ, চার কোটি যুবক, এটি হতে দিবে না ইনশাআল্লাহ।

ডা. তাহের বলেন, আপনারা জানেন, আমরা একটি বৃহৎ রাজনৈতিক জোটের মাধ্যমে নির্বাচন করছি। এ জোটে দেশের সমস্ত ইসলামী দলগুলো আছে। ৭১ এর বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, তিনি আমাদের জোটে আছেন। আর জুলাই বিপ্লবের অগ্রসেনানী যারা ছিল, সে বিপ্লবীরা আমাদের জোটের সাথে আছে। ইনশাআল্লাহ, ১২ ফেব্রæয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা সরকার গঠন করবো। আমাদের সরকার হবে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। এক পক্ষ ফ্যাসিবাদ, দুর্নীতিবাজ ও চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে আমরা যারা লড়াই করছি। আর অপর পক্ষ হচ্ছে যারা এসকল অপরাধকে পুনর্বাসনে মরিয়া হয়ে কাজ করছে। এবার কোনো দুর্নীতিবাজ দেশের শাসন ক্ষমতায় থাকবে না। এদেশের মানুষ, চাঁদাবাজদেরকে আর ভোট দেবে না। দুর্নীতিবাজদেরকে আর ভোট দেবে না।

তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারের পতনের পর গত দুই বছরে চাঁদাবাজির জায়গাগুলো দখল করেছে আরেকটি দল। আপনারা জানেন সে দলটির নাম। আমাকে অনেক ব্যবসায়ী বলে, আগে যদি ১০ টাকা চাঁদা দিতাম, এখন আমাদেরকে ২০ টাকা চাঁদা দিতে হয়। চাঁদার শিকার হচ্ছে, এদেশের রিকশাওয়ালা, ছোট দোকানদার, বাসস্ট্যান্ড, বালুর ব্যবসায়ীরা। সকল মানুষ এ চাঁদাবাজিতে পিষ্ট হয়ে আছে।

দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার করে ডা, তাহের আরও বলেন, আমরা এমন এক দেশ গড়বো। যে দেশে চাঁদাবাজি থাকবে না। দুর্নীতি থাকবে না। উচ্চ শিক্ষা থাকবে। সকল নাগরিকের সম্মান-মর্যাদা থাকবে। বাংলাদেশ স্বাধীনভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে ইনশাআল্লাহ। দেখুন, তারা নাকি ভোটারদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করছে। এগুলো ভুয়া। আমি এ কার্ডের ব্যাপারে প্রধান নির্বাচন কমিশনের সাথে কথা বলেছিলাম। তিনি বলেছেন, এটি বেআইনী। এটি নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘণ। আজ চৌদ্দগ্রামের সকল মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে মুখিয়ে আছে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ আমাদের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন। আমরা তাদেরকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। এ চৌদ্দগ্রামে আমি ম্যাজোরিটি ভোটে পাস করতে চাই না। আমি আশা করি, এ চৌদ্দগ্রামে মানুষ একশত ভাগ ভোট দিয়ে আমাকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী করবে ইনআল্লাহ।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের চিওড়া ইউনিয়নের ধোড়করা হাইস্কুল মাঠে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনসবায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি’র) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক ও কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্ধার) আসনের ১০ দলীয় জোটের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. জাহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, গত ১৭ বছর  আমাদের টুটি চেপে ধরা হয়েছিল। যারা ভিন্নমত পোষণ করতো, তাদের সামনে থেকে মাইক কেড়ে নেওয়া হতো। বাংলাদেশ তখন একটা উন্মুক্ত কারাগারে পরিণত হয়েছিল। ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম করা হতো, আয়না ঘরে নেওয়া হতো, ক্রসফায়ারে দেওয়া হতো। ভিন্ন মত ও চিন্তার মানুষগুলোকে বলা হতো পিন্ডি বা দিল্লি চলে যেতে। এই ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে তা আর হবে না, ২৪ পরবর্তী বাংলাদেশে আমরাই বাংলাদেশ। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, তেমনভাবে ভিন্নমত প্রকাশেরও স্বাধীনতা থাকবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, যে বাংলাদেশে আপনি হিন্দু হোন বা মুসলমান হন, পাহাড়ী হোন কিংবা সমতলের মানুষ হোন, খ্রিস্টান হোন বা সাঁওতাল হোন। আপনার এমন কোন পৃথক পরিচয় থাকবে না বরং আপনি বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে সমমর্যাদা নিয়ে শান্তিতে বসবাস করতে পারবেন।

হাসনাত আব্দুল্লাহ আরও বলেন, ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে আমাদের যে জোট রয়েছে, সে জোটের অধীনে কে বাংলাদেশী  বা কে বাঙালি, এই ধরনের কটু তর্কের মধ্য দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি আর জিইয়ে রাখা হবে না। বরং একতা ও সমতার রাজনীতির মধ্য দিয়ে আগামী নির্বাচনে আমরা একটি ফরওয়ার্ড লুকিং বাংলাদেশ গড়ে তুলবো।

দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের চিওড়া ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট শিল্পপতি মহিউদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া নঈমের সভাপতিত্বে এবং ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ ইউসুফের সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কুমিল্লা জেলা উত্তরের সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের আমীর মাহফুজুর রহমান, সাবেক আমীর ভিপি মু. সাহাব উদ্দিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া, জাতীয় যুব শক্তির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহবায়ক মো. আবু সুফিয়ান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের শুরা সদস্য আইয়ুব আলী ফরায়েজী, চৌদ্দগ্রাম পৌর জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, খেলাফত মজলিশের উপজেলা আমীর মাওলানা শাহজালাল, চিওড়া ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক শাহনেওয়াজ কাজল, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মেশকাত উদ্দিন সেলিম, বরুড়া উপজেলার আড্ডা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর হারুনুর রশীদ, চৌদ্দগ্রাম সদর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম, জগন্নাথদীঘি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মজিবুর রহমান, কালিকাপুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. রুহুল আমিন, বাতিসা ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান রেজাউল হক মজুমদার খোকন, কনকাপৈত ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, চৌদ্দগ্রাম সদর ইউপির সাবেক (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান আবুল খায়ের, ছাত্রশিবিরের কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি নুরুল ইসলাম মোল্লা, উপজেলা জামায়াতের যুব বিভাগের সভাপতি জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, চিওড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর শাহজালাল টিপু, সেক্রেটারি হুমায়ুন কবির সুজন, জামায়াত নেতা শাহনেওয়াজ কাজল প্রমুখ। এ সময় উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×