মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় ডাক্তারের নামে মামলা ২ লাখ টাকায় আপোষ! আরো ৪ অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: রবিবার, ৩০ অক্টোবর, ২০২২, ৭:০৮ পিএম
কুমিল্লায় ডাক্তারের নামে মামলা ২ লাখ টাকায় আপোষ! আরো ৪ অভিযোগ বিভিন্ন দপ্তরে
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা সদর উপজেলার শঙ্করপুর এলাকায় অবস্থিত জাতীয় অন্ধকল্যান সমিতির চক্ষু চিকিৎসক সার্জন ডাঃ এম এ মোস্তফা হোসেনের বিরুদ্ধে বিনা রশিদে টাকা নেয়া ও ত্রুটিপূর্ণ অপারেশনের কারনে এক বীর মুক্তি যোদ্ধার চিরতরে দৃষ্টি হারানো এবং মাত্র দুই লাখ টাকায় দফা-রফার খবর পাওয়া গেছে।

এছাড়াও আরো বহু রোগী তার নিকট চোখ অপারেশন করে ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার না পেয়ে উল্টো হুমকির মুখে রয়েছেন।

আদালতে দায়ের করা মামলা সূত্রে জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্থ রোগী এক জন বীর মুক্তি যোদ্ধা ও সেনা বাহিনীর অবসর প্রাপ্ত হাবিলদার আশ্রাফ আলী গত ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারী সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে কুমিল্লার আদালতে মামলা করেন।

মামলার বিবরণে দেখা যায়, কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভূলুইন ইউনিয়নের পরতী গ্রামের বসিন্দা আশ্রাফ আলী বিগত ২০১৯ সালের ২৮ অক্টোবর চোখের সমস্যা নিয়ে কুমিল্লা সদর উপজেলার শঙ্করপুরে অবস্থিত জাতীয় অন্ধকল্যান সমিতি ও চক্ষু হাসপাতালে ভর্তি হন। এ সময় হাসপাতাল থেকে আলী আশ্রাফকে চক্ষু পরীক্ষা করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা পত্রসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরিক্ষা করেন। এজন্য ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত সার্জন ডাঃ এম এ মোস্তফা হোসেন (চক্ষু বিশেষজ্ঞ) রোগীর কাছ থেকে অপারেশনের কথা বলে প্রথমে ৮ হাজার টাকা বিনা রশিদে গ্রহণ করেন। এরপর চোখের নালীর অপারেশন করে ২৯ অক্টোবর তাকে ছাড়পত্র দিয়ে ছুটি দেয়। অপারেশন পরবর্তীতে রোগী চোখে না দেখার কারনে একই বছেরের ১ ডিসেম্বর ওই হাসপাতালে একই চিকিৎসকের কাছে আবারো চিকিৎসা সেবা নিতে আসলে তখন ওই চিকিৎসক চোখে আমেরিকার তৈরী ল্যান্স লাগানোর কথা বলে আবারো রশিদ ছাড়াই ১০ হাজার টাকা নিয়ে নেন। পরের দিন ২ ডিসেম্বর রোগীর ডান চোখে ল্যান্স প্রতিস্থাপনের অপারেশন করেন সার্জন মোস্তফা হোসেন। ৩ ডিসেম্বর তাকে ছাড়পত্র দিয়ে বাড়ি চলে যেতে বলেন চিকিৎসক। এ সময় রোগী ডান চোখে কোন কিছু দেখে না বলে জানালে তখন সার্জন ডাঃ এম এ মোস্তফা হোসেন বলেন, আপাতত বাড়ি যান ২/৩ দিন পরে সব ঠিক হয়ে যাবে। পরবর্তীতে বেশ কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও চোখে দেখার কোন উন্নতি না হওয়ায় ৮ ডিসেম্বর পুনরায় রোগী চিকিৎসকের কাছে চোখে না দেখার কারণ জানতে হাসপাতালে ছুটে আসেন। চোখে একেবারেই না দেখার বিষয়টি তখন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে জানালে তিনি উত্তেজিত হয়ে হাসপাতালের ১০৩ নং কক্ষ থেকে রোগীকে লাঞ্ছিত করে বের করে দেয় এবং একই সাথে অভিযুক্ত চিকিৎসক ভবিষ্যতে আবারো আসলে পুলিশে দেয়ার হুমকী দেয়। মামলার বিবরণে আরো বলা হয়, ক্ষতিগ্রস্থ রোগী তার অপচিকিৎসার প্রতিকার চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারী দফতরে লিখিত আবেদন করলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় বাধ্য হয়ে বাদী হয়ে গত ২২ জানুয়ারী ২০২০ ইং কুমিল্লার আদালতে চিকিৎসক এম এ মোস্তফা হোসেনকে বিববাদী করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ভুক্ত ভোগী পরিবারের দায়ের করা মামলাটি আদালত আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য জেলা সিভিল সার্জনের নিকট পাঠায়। সিভিল সার্জনের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটির মাধ্যমে রোগীকে পরীক্ষা করায় এবং উক্ত তদন্ত কমিটি আশ্রাফ আলীর দৃষ্টি হারানোর জন্য অভিযুক্ত সার্জন ডা. এম এ মোস্তফা হোসেনকে দোষী সাব্যস্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে ডাক্তার এমএ মোস্তফা দোষী সাবস্ত হওয়ার পর বাদীকে বিভিন্ন ভাবে চাপ প্রয়োগ করে মাত্র দুই লাখ টাকায় মামলা তুলে নিতে বাধ্য করেন।

এ বিষয়ে মামলার প্রধান স্বাক্ষী ও বাদির পুত্র বধু রিনা বেগম জানান, আমার শ্বশুরকে গোপনে খবর দিয়ে নিয়ে ঐ এলাকার স্থানীয় প্রভাবশালী আয়েত আলী একটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নেয় আর পরবর্তীতে তারা মাত্র ২ লাখ টাকার বিনিময়ে মামলা তুলতে বাধ্য করে।

তাছাড়াও কুমিল্লার দেবীদ্বারের ঘোষগড় গ্রামের আরমান হোসেন নামে এক রোগী অনুরুপ ডা. এম এ মোস্তফা হোসেনের নিকট অপারেশন করে ক্ষতি গ্রস্থ হয়ে সরকারের বিভিন্ন অধিদপ্তরে অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায় নি বলে জানায়। আরমান হোসেনের লিখিত অভিযোগে সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার মোস্তফা হোসেন বিনা রশিদে তার নিকট হতে ১০ হাজার টাকা নিয়ে চোখের মাংশ অপারেশনে করে, কিন্তু অপারেশনের পর সে আর চোখে না দেখে আবারো ঐ চিকিৎসকের নিকট ফিরে গেলে সে চিকিৎসক তাকে দূর্ব্যবহার করে রুম থেকে বের করে দেন। একই জেলার মুরাদ নগরের ছালিয়া কান্দির নিলুফা বেগমও চোখে পানি পড়ার কারনে এই মোস্তফা হোসেনের নিকট অপারেশন হয়ে সুস্থ হয় নি, পরে ঐ চিকিৎসকের নিকট জানতে গেলে তার সাথেও খারাপ ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ করেন। পরে তিনিও সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করে কোন প্রতিকার পায় নি। বর্তমানে আলেখরচর চক্ষু হাসপাতালে কর্তব্যরত ডাঃ মাঈনুদ্দিন নামে এক মেডিকেল অফিসারের একটি লিখিত অভিযোগও আশ্রাফ আলীর মামলার নথির সাথে পাওয়া যায়। সেখানে বিবরনে দেখা যায় এই সার্জন মোস্তফা হোসেন শুধু খারাপ অপারেশন করে রোগীদের সাথেই প্রতারনা করে এমন নয়, সে বহিঃবিভাগে ফার্মেসীর ইনচার্জ হওয়ার সুবাধে বিভিন্ন বেনামী কোম্পানীর নিষিদ্ধ ঔষধ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্রয় করে জুনিয়র চিকিৎসকদের মাধ্যমে ব্যবস্থা পত্রে লিখতে বাধ্য করে এবং নিজেও লিখে।

এই মোস্তফা হোসেনের উপরিউক্ত অপরাধের বিষয় গুলো নিয়ে গত দুই বছর আগে কুমিল্লার বিভিন্ন স্থানীয় পত্রিকায় খবরও প্রকাশ হয়, কিন্তু তিনি এতই ক্ষমতাধর যে তার কোন বিচার আজ পর্যন্ত হয় নি এবং এ বিষয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহসও পায় না।

এ সকল ঘটনা বিএমডিসি এ্যাক্ট ২০১০ অনুযায়ী সুষ্পষ্ট প্রফেশনাল ইসফেমাস কন্ডাক্ট যা সংশ্লীষ্ট চিকিৎসকের রেজিষ্ট্রেশন বাতিল করার মত অপরাধের সামীল বলে চিকিৎসক সমাজ জানান।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×