কুমিল্লায় ডিবি পুলিশের দুঃসাহসিক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৪ সদস্য গ্রেফতার
কুমিল্লায় জেলা ডিবি পুলিশের নেতৃত্বে চান্দিনা, লাকসাম, লালমাই ও সদর দক্ষিণ থানা পুলিশের সমন্বিত অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উদ্ধার করা হয়েছে ডাকাতদের ব্যবহৃত দুটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন পিকআপ, দেশীয় অস্ত্র এবং সাম্প্রতিক ডাকাতিতে লুট হওয়া তিনটি গরু ও দুইটি বাছুর।
সম্প্রতি কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় পুলিশ সুপার জেলাজুড়ে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদারের নির্দেশ দেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৫ নভেম্বর ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে, চান্দিনা উপজেলার বরকরই নাথের বাড়ি এলাকায় দুইটি পিকআপে ১৫–১৬ জনের ডাকাত দল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে।
পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস)–এর নেতৃত্বে বিশেষ টিম এলাকায় মোতায়েন হয়। ভোর ৪টা ৩৫ মিনিটে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে নীল রংয়ের একটি পিকআপ থেকে কয়েকজন পালিয়ে গেলেও চারজনকে ঘটনাস্থলেই আটক করা হয়। একই সময় হলুদ রংয়ের আরেকটি পিকআপ ধাওয়া করে পুলিশ আটকানোর চেষ্টা করলে ডাকাত নয়ন গাড়ি ঘুরিয়ে দুই ডিবি সদস্যকে ধাক্কা দেওয়ার চেষ্টা করে। এতে দুই সদস্য আহত হন।
ডিবির দুইটি টিম প্রায় দেড় ঘণ্টা লাকসাম–লালমাই–সদর দক্ষিণের ফিডার রুটজুড়ে পিকআপটিকে ধাওয়া করে। পরে গাড়িটি সদর দক্ষিণ থানার ফিরিঙ্গিরহাট এলাকায় ঢোকার পর ডাকাত নয়ন ও তার সহযোগী গাড়ি থেকে নেমে দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। প্রায় ৩০ মিনিট ধাওয়ার পর নয়ন একটি পুকুরে লাফ দেয়। ডিবির পাঁচ সদস্য সাঁতরে পুকুরে নেমে তাকে আটক করে। তার সহযোগী পালিয়ে যায়।
এসময় মো. রায়হান (২০), মো. নয়ন (৩৪),মো. শাহাদাত হোসেন (২৪),মো. নাছির (২৫), সজীব রানা (২৮) কে আটক করা হয়।
এদের মধ্যে নয়নের বিরুদ্ধে ১১টি এবং সজীবের বিরুদ্ধে ৫টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযানে রেজিস্ট্রেশনবিহীন দুইটি পিকআপ, লোহার চাপাতি, ছুরি, বোল্ট কাটার, ব্লেড কাটারসহ ৯টি দেশীয় অস্ত্র, লাকসামে ডাকাতি হওয়া তিনটি গরু ও দুইটি বাছুর উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃতরা সাম্প্রতিক কুমিল্লার লাকসাম ও চান্দিনা এলাকায় সংঘটিত গরু ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন,
“এই ডাকাত দলটি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মহাসড়কে ডাকাতি করে আসছিল। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অবশেষে আমরা তাদের গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি।”
এ ঘটনায় আরও জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।














