শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২, ৮:০৯ পিএম
কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

অনলাইন থেকে সংগৃহিত ছবি।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আবারো বেড়েছে মাদকের আগ্রাসন। ভারত সীমান্তবর্তী এ জেলার ৫টি উপজেলার ১০৫ কিলােমিটার অংশই ভারত সীমান্তবর্তী। আর এই সীমান্তের শতাধিক অরক্ষিত রুট দিয়ে দেদারসে মাদক প্রবেশ করছে দেশে। কুমিল্লা হয়ে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। এ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। আগে শুধুমাত্র মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এলেও এখন ভারত সীমান্ত দিয়েও ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ, বিয়ার সহ ইয়াবাও। কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকার পরিবহন সুবিধার কারনে মাদক পাচার ও কারবারের ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে কুমিল্লা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিমানে ইয়াবা ও মাদকের চালান যাচ্ছে বিদেশেও। আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে প্রতিদিনই মাদক কারবারি আটক এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করা হলেও দেশে প্রবেশকৃত মাদকের তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। মাদকের সহজ লভ্যতার ফলে সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগােনা বেড়েছে পূর্বের চেয়ে। অপরদিকে চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতাও বেড়েছে। পুরনো চিহ্নিত ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ হয়েছে নতুন কারবারি। কাঁচা টাকার লোভ ও বেকারত্বের কারনে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় বিপথগামী হচ্ছে কিশোর, তরুণ ও যুবক সহ বিভিন্ন বয়স ও নানা শ্রেণী পেশার লোকজন। নারী মাদক কারবারিদের সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়। শুধু মাদকই নয়, সীমান্তের স্পটগুলো দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্রোতের মতই আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাইপণ্যও। জেলা আইনশৃংখলা কমিটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে জেলায় মােট ৪৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫টি মামলা হয়েছে
মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত। চোরাচালান মামলা হয়েছে ১২টি। এ ছাড়াও একই সময়ে র‌্যাব-বিজিবি- পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত এক মাসে আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাইপণ্য জব্দ করেছে। আর চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনের প্রতিদিনই জেলার কোনাে না কোনাে এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ী আটকের খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ছােটখাটো মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকে বাহনকারী আটক হলেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় দেশী ও আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়ারা। বড় কোনাে অভিযানের পর কিছুদিন নিরব থাকলেও অল্প কদিন পরই আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মাদকের বড় ডিলাররা। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের আগ্রাসন আবারো বেড়ে যাওয়ায় বিপথগামী হয়ে পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজ। সমাজের অধিকাংশ অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় কোন না কোন ভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অপরাধ কান্ডের পেছনে। এদেকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ও মাদকসেবীদের আনাগােনা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায় সর্বশেষ ঘটে যাওয়া দুই বহুল আলােচিত ঘটনা থেকে। গত ৭ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী- লালবাগ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গােলাগুলির ঘটনা ঘটে ‌র‌্যাবের সাথে। এতে গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাব সদস্যসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী। পরে এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ এপ্রিল রাতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হায়দ্রাবাদ এলাকায়। সাংবাদিকতা করতেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি নিয়ে মাদক নির্মূলের ইচ্ছে পোষণকারী যুবক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম। মাদক পাচারের তথ্যা দেয়ার কথা বলে বুড়িচং সীমান্ত এলাকায় নিয়ে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলােচনা সমালোচনা চলছে বাংলাদেশ এমনকি ওপার বাংলায়ও। ইতােমধ্যেই প্রধান হত্যাকারী কুমিল্লার সীমান্ত এলাকার অস্ত্র ও মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত রাজু র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গোলাবাড়ি সীমান্তে নিহত হয়েছে। সাংবাদিক হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযােগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সচেতন মহল বলছে, মাদকের আগ্রাসন ও সীমান্তে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কতটা বেড়েছে সর্বশেষ ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনাই তার প্রমাণ। সাংবাদিক হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও গুলি করা যেন একটি সহজ বিষয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। বিষয়টি সচেতন নাগরিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে যেমন উদ্বেগ ও শঙ্কার তেমনি তা ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও।

সীমান্তের বড় বড় মাদকের ডিলারদের বেশির ভাগই ভারত বাংলাদেশের দৈত নাগরিক হওয়ায় অপরাধ কর্মের পর সুবিধামত যে কোন দেশে অবস্থান করা সহজ হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে পরেছে অপরাধী ও চোরাকারবারিরা।
মাদকের প্রধান বাজার বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হচ্ছে গাঁজার চাষ, গড়ে উঠেছে ফেন্সিডিল ও ইয়াবার কারখানা। শুধু মাত্র বুড়িচং উপজেলার সীমান্ত এলাকায় রয়েছে ২শতাধিক মাদকের ডিলার যাদের মাঝে শতাধিক মাদক কারবারি ভারত বাংলাদেশের দৈত নাগরিক। বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশের নাগরিক সনদও রয়েছে তাদের। অভিযোগ রয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করে মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আন্তর্জাতিক সীমানা জটিলতায় হত্যা, ডাকাতি, স্মাগলিং সহ গুরুতর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের অভয়ারণ্য অরক্ষিত এসব সীমান্ত এলাকাগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় মাদকের আবহতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে একমত পােষণ করে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। গােটা কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক প্রতিরােধে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও প্রতিরােধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকরাও সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তা খেয়াল রাখতে হবে’। কেবল মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয় সামাজিক সচেতনতা না বাড়লে মাদকের প্রসার কমবে না বলেই মনে করেন তিনি।

জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুমিল্লায় মাদকের প্রভাব তুলনামূলক বেশী। সীমান্তে আরো কড়া নজরদারি প্রয়োজন। মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সভা সেমিনার করা হচ্ছে। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি এ থেকে রক্ষা পেতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ নাগরিক সহ সকলের সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের উচিৎ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকার ইউপি সদস্য লিটন রেজা বলেন, ‘সীমান্তে দিন দিন মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। আনাগােনা বেড়েছে মাদকসেবীদেরও। প্রতিদিনই শহর থেকে মােটরসাইকেলের বহর নিয়ে মাদক সেবন করতে এদিকে আসছে যুবক ও তরুণরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের মাথাপিছু ১০০-২০০ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সীমান্ত টপকে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সেবন করে আসে। তাদের এ প্রবণতা রুখতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে’।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, মাদক নির্মূলে কুমিল্লায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে, তা আরও জোরদার করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরাে টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যাদের মাদক কারবারিদের সাথে সম্প্রক্ততা রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের তালিকাও রয়েছে। হয় মাদক ছাড়তে হবে নয় কুমিল্লা ছাড়তে হবে। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার আহ্বানও জানান তিনি।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×