সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩

কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন : প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২২, ৮:০৯ পিএম
কুমিল্লায় মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে

অনলাইন থেকে সংগৃহিত ছবি।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় আবারো বেড়েছে মাদকের আগ্রাসন। ভারত সীমান্তবর্তী এ জেলার ৫টি উপজেলার ১০৫ কিলােমিটার অংশই ভারত সীমান্তবর্তী। আর এই সীমান্তের শতাধিক অরক্ষিত রুট দিয়ে দেদারসে মাদক প্রবেশ করছে দেশে। কুমিল্লা হয়ে রাজধানী ঢাকা সহ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে মাদক। এ ছাড়াও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে কক্সবাজার হয়ে মিয়ানমার থেকে আসছে ইয়াবার বড় বড় চালান। আগে শুধুমাত্র মিয়ানমার থেকে ইয়াবার চালান এলেও এখন ভারত সীমান্ত দিয়েও ফেন্সিডিল, গাঁজা, মদ, বিয়ার সহ ইয়াবাও। কুমিল্লা থেকে রাজধানী ঢাকার পরিবহন সুবিধার কারনে মাদক পাচার ও কারবারের ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে কুমিল্লা। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিমানে ইয়াবা ও মাদকের চালান যাচ্ছে বিদেশেও। আইনশৃংখলা বাহিনীর বিভিন্ন সংস্থার অভিযানে প্রতিদিনই মাদক কারবারি আটক এবং মাদকদ্রব্য জব্দ করা হলেও দেশে প্রবেশকৃত মাদকের তুলনায় তা একেবারেই অপ্রতুল। মাদকের সহজ লভ্যতার ফলে সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদকসেবীদের আনাগােনা বেড়েছে পূর্বের চেয়ে। অপরদিকে চাহিদার সাথে পাল্লা দিয়ে মাদক কারবারিদের তৎপরতাও বেড়েছে। পুরনো চিহ্নিত ব্যবসায়ীদের সাথে যোগ হয়েছে নতুন কারবারি। কাঁচা টাকার লোভ ও বেকারত্বের কারনে রাতারাতি বড়লোক হওয়ার নেশায় বিপথগামী হচ্ছে কিশোর, তরুণ ও যুবক সহ বিভিন্ন বয়স ও নানা শ্রেণী পেশার লোকজন। নারী মাদক কারবারিদের সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়। শুধু মাদকই নয়, সীমান্তের স্পটগুলো দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে স্রোতের মতই আসছে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও চোরাইপণ্যও। জেলা আইনশৃংখলা কমিটি সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে জেলায় মােট ৪৬৩টি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে ২৭৫টি মামলা হয়েছে
মাদকদ্রব্য সংক্রান্ত। চোরাচালান মামলা হয়েছে ১২টি। এ ছাড়াও একই সময়ে র‌্যাব-বিজিবি- পুলিশ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর গত এক মাসে আনুমানিক প্রায় ৫ কোটি টাকার মাদক ও চোরাইপণ্য জব্দ করেছে। আর চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনের প্রতিদিনই জেলার কোনাে না কোনাে এলাকা থেকে মাদক উদ্ধার ও মাদক ব্যবসায়ী আটকের খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ছােটখাটো মাদক ব্যবসায়ী কিংবা মাদকে বাহনকারী আটক হলেও বরাবরই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় দেশী ও আন্তর্জাতিক মাদক মাফিয়ারা। বড় কোনাে অভিযানের পর কিছুদিন নিরব থাকলেও অল্প কদিন পরই আবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে মাদকের বড় ডিলাররা। সাম্প্রতিক সময়ে মাদকের আগ্রাসন আবারো বেড়ে যাওয়ায় বিপথগামী হয়ে পড়ছে তরুণ ও যুবসমাজ। সমাজের অধিকাংশ অপরাধ বিশ্লেষণ করে দেখা যায় কোন না কোন ভাবে মাদকের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে অপরাধ কান্ডের পেছনে। এদেকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা ও মাদকসেবীদের আনাগােনা বেড়ে যাওয়ার প্রমাণও পাওয়া যায় সর্বশেষ ঘটে যাওয়া দুই বহুল আলােচিত ঘটনা থেকে। গত ৭ এপ্রিল রাতে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী- লালবাগ এলাকায় মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে গােলাগুলির ঘটনা ঘটে ‌র‌্যাবের সাথে। এতে গুলিবিদ্ধ হন র‌্যাব সদস্যসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী। পরে এ ঘটনায় আটজনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে গত ১৩ এপ্রিল রাতে। কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় হায়দ্রাবাদ এলাকায়। সাংবাদিকতা করতেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে চাকরি নিয়ে মাদক নির্মূলের ইচ্ছে পোষণকারী যুবক মহিউদ্দিন সরকার নাঈম। মাদক পাচারের তথ্যা দেয়ার কথা বলে বুড়িচং সীমান্ত এলাকায় নিয়ে নির্মম ভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ব্যাপক আলােচনা সমালোচনা চলছে বাংলাদেশ এমনকি ওপার বাংলায়ও। ইতােমধ্যেই প্রধান হত্যাকারী কুমিল্লার সীমান্ত এলাকার অস্ত্র ও মাদকের ডন হিসেবে পরিচিত রাজু র‌্যাবের সাথে বন্দুকযুদ্ধে গোলাবাড়ি সীমান্তে নিহত হয়েছে। সাংবাদিক হত্যাকান্ডের এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযােগে চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সচেতন মহল বলছে, মাদকের আগ্রাসন ও সীমান্তে মাদক কারবারিদের দৌরাত্ম্য কতটা বেড়েছে সর্বশেষ ঘটে যাওয়া দুটো ঘটনাই তার প্রমাণ। সাংবাদিক হত্যা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলা ও গুলি করা যেন একটি সহজ বিষয় হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে। বিষয়টি সচেতন নাগরিক এবং সাধারণ মানুষের কাছে যেমন উদ্বেগ ও শঙ্কার তেমনি তা ভাবিয়ে তুলছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও।

সীমান্তের বড় বড় মাদকের ডিলারদের বেশির ভাগই ভারত বাংলাদেশের দৈত নাগরিক হওয়ায় অপরাধ কর্মের পর সুবিধামত যে কোন দেশে অবস্থান করা সহজ হওয়ায় বেপরোয়া হয়ে পরেছে অপরাধী ও চোরাকারবারিরা।
মাদকের প্রধান বাজার বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারে ত্রিপুরার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হচ্ছে গাঁজার চাষ, গড়ে উঠেছে ফেন্সিডিল ও ইয়াবার কারখানা। শুধু মাত্র বুড়িচং উপজেলার সীমান্ত এলাকায় রয়েছে ২শতাধিক মাদকের ডিলার যাদের মাঝে শতাধিক মাদক কারবারি ভারত বাংলাদেশের দৈত নাগরিক। বাংলাদেশ এবং ভারত উভয় দেশের নাগরিক সনদও রয়েছে তাদের। অভিযোগ রয়েছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষি বাহিনীর কতিপয় অসাধু সদস্যদের ম্যানেজ করে মাদকের রমরমা কারবার চালিয়ে যাচ্ছে তারা। আন্তর্জাতিক সীমানা জটিলতায় হত্যা, ডাকাতি, স্মাগলিং সহ গুরুতর অপরাধে জড়িত অপরাধীদের অভয়ারণ্য অরক্ষিত এসব সীমান্ত এলাকাগুলো।

সাম্প্রতিক সময়ে কুমিল্লায় মাদকের আবহতা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির সঙ্গে একমত পােষণ করে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) এম তানভীর আহমেদ বলেন, ‘প্রতিদিনই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হাতে মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার হচ্ছে। গােটা কুমিল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। মাদক প্রতিরােধে পুলিশের পাশাপাশি সামাজিকভাবেও প্রতিরােধ গড়ে তুলতে হবে। অভিভাবকরাও সন্তানদের প্রতি নজর রাখতে হবে। তারা কোথায় যাচ্ছে, কী করছে তা খেয়াল রাখতে হবে’। কেবল মাত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয় সামাজিক সচেতনতা না বাড়লে মাদকের প্রসার কমবে না বলেই মনে করেন তিনি।

জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক চৌধুরী ইমরুল হাসান বলেন, মাদক নির্মূলে প্রতিনিয়ত কাজ করছে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় কুমিল্লায় মাদকের প্রভাব তুলনামূলক বেশী। সীমান্তে আরো কড়া নজরদারি প্রয়োজন। মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন সভা সেমিনার করা হচ্ছে। মাদক একটি সামাজিক ব্যাধি এ থেকে রক্ষা পেতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কে সুস্থ স্বাভাবিক রাখতে সাধারণ নাগরিক সহ সকলের সমন্বিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সচেতন নাগরিকদের উচিৎ মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান একটি চলমান প্রক্রিয়া, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অবৈধ মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সবসময় সচেষ্ট রয়েছে।

কুমিল্লার সীমান্তবর্তী বুড়িচং উপজেলার বাকশিমুল ইউনিয়নের আনন্দপুর এলাকার ইউপি সদস্য লিটন রেজা বলেন, ‘সীমান্তে দিন দিন মাদক ব্যবসায়ীদের তৎপরতা বেড়েই চলেছে। আনাগােনা বেড়েছে মাদকসেবীদেরও। প্রতিদিনই শহর থেকে মােটরসাইকেলের বহর নিয়ে মাদক সেবন করতে এদিকে আসছে যুবক ও তরুণরা। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অসাধু কর্মকর্তাদের মাথাপিছু ১০০-২০০ টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে সীমান্ত টপকে ভারতে প্রবেশ করে মাদক সেবন করে আসে। তাদের এ প্রবণতা রুখতে হবে। মাদক ব্যবসায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে’।

এ বিষয়ে কুমিল্লার পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, মাদক নির্মূলে কুমিল্লায় পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে, তা আরও জোরদার করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ জিরাে টলারেন্স অবস্থানে রয়েছে। মাদক সংশ্লিষ্ট কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। যাদের মাদক কারবারিদের সাথে সম্প্রক্ততা রয়েছে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে তাদের তালিকাও রয়েছে। হয় মাদক ছাড়তে হবে নয় কুমিল্লা ছাড়তে হবে। পাশাপাশি মাদক কারবারিদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহায়তার আহ্বানও জানান তিনি।

হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক)। প্রকাশিত: রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পিএম
হোমনায় এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

এম কে আনোয়ার ছিলেন রাজনীতির তারকা পুরুষ, তাঁর অসমাপ্ত উন্নয়নকাজ সম্পন্ন করব-মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি

কুমিল্লার হোমনায় বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সাবেক সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং হোমনা-তিতাস আসনের পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য মরহুম এম কে আনোয়ারের নবম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে এ উপলক্ষে মরহুমের কবর জিয়ারত, পুষ্পস্তবক অর্পণ, স্মৃতিচারণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া।

মরহুম এম কে আনোয়ারের জ্যেষ্ঠ সন্তান মাহমুদ আনোয়ার কাইজার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও দোয়া করেন। পরে বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা মরহুমের কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়ায় অংশ নেন।

স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্যে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া এমপি বলেন, এম কে আনোয়ার শুধু হোমনা কিংবা কুমিল্লার ছিলেন না, তিনি ছিলেন জাতীয় রাজনীতির একজন তারকা পুরুষ। সততা, দৃঢ়তা ও আপসহীন নেতৃত্বের কারণে তিনি রাজনীতিতে স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছিলেন। তাঁর মতো অভিজ্ঞ, সৎ ও নীতিনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ দেশের সম্পদ।

তিনি বলেন, এম কে আনোয়ার হোমনা, তিতাসসহ বৃহত্তর এলাকার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর হাত ধরে এ অঞ্চলের উন্নয়নের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা এগিয়ে নেওয়া বর্তমান নেতৃত্বের দায়িত্ব। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণে তাঁর রেখে যাওয়া উন্নয়ন-ভাবনা ও অসমাপ্ত কাজগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

সেলিম ভুঁইয়া এমপি আরও বলেন, এম কে আনোয়ারের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানাতে হলে তাঁর সততা, দেশপ্রেম ও জনকল্যাণের রাজনীতি থেকে শিক্ষা নিতে হবে। তিনি এলাকার মানুষের জন্য যে কাজ করে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। হোমনা-তিতাসের উন্নয়নে তাঁর যেসব স্বপ্ন ও কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়েছে, সেগুলো বাস্তবায়নে আমি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাব।

এ সময় তিনি মরহুমের রাজনৈতিক জীবন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডের স্মৃতিচারণ করেন এবং তাঁর রুহের মাগফেরাত কামনায় আয়োজিত দোয়ায় অংশ নেন।

মরহুম এম কে আনোয়ার ছিলেন বাংলাদেশের রাজনীতি ও প্রশাসনের এক পরিচিত ব্যক্তিত্ব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করেন। মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় থেকে দলটির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যের দায়িত্ব পালন করেন।

হোমনা-তিতাস ও মেঘনা অঞ্চলের মানুষের কাছে তিনি ছিলেন একজন প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও পাঁচবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য। জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নিজ নির্বাচনী এলাকার উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার অগ্রগতি এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন স্থানীয় নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সাংগঠনিক ভূমিকার সমন্বয়ে তিনি দেশের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা ঘটনা, নেতৃত্বের দৃঢ়তা এবং এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা তাঁকে হোমনার রাজনৈতিক ইতিহাসে স্মরণীয় করে রেখেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মাহফুজুল ইসলাম, হোমনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক মো. মোজাম্মেল হক (ভিপি মুকুল), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান মোল্লা, সহসভাপতি মো. শাহ আলম হিমেল, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শাহজাহান মোল্লা (চেয়ারম্যান) ও মো. সাইফুল ইসলাম (ভিপি রাজা)।

পৌর বিএনপির সভাপতি ছানাউল্লাহ সরকার, সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আলহাজ আবদুল লতিফ, উপজেলা বিএনপির নির্বাহী সদস্য মো. আলমগীর সরকার, কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোমনা উপজেলা আহ্বায়ক মো. অহিদুজ্জামান মোল্লা এবং উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক সাইজুদ্দিন (শাজু)।

এ ছাড়া মরহুমের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন, গুণগ্রাহী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত থেকে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২২ পিএম
অস্তিত্ব সংকটে ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিটেশ্বর ইউনিয়নের বিরবাগ গোয়ালী ও দুর্গাপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খিড়াই নদী কচুরিপানা ও আবর্জনায় প্রায় সম্পূর্ণ ঢেকে গেছে। নদীর বিস্তীর্ণ অংশজুড়ে কচুরিপানা ও বর্জ্য জমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে স্থানীয় পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। নদীটি দূষণমুক্ত করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় জনগণ, প্রশাসন ও পরিবেশকর্মীদের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার খিড়াই নদীর বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। নদী ও জলাধারকে কচুরিপানা ও বর্জ্যমুক্ত করে পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সুধী সমাবেশ ও আলোচনা সভা আয়োজনের স্থান নির্ধারণ করতেই এ পরিদর্শন করা হয়।

বাপা কেন্দ্রীয় কমিটির আজীবন সদস্য, কুমিল্লা জেলা কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও দাউদকান্দি উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা পরিবেশবিদ অধ্যাপক মতিন সৈকত এবং উপজেলা শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম স্বপনের পরামর্শক্রমে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

পরিদর্শনকালে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দা, নৈয়াইর সাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক এবং বাপা দাউদকান্দি শাখার উপদেষ্টা ইঞ্জিনিয়ার হেলাল উদ্দিন সিকদারের সঙ্গে বাপা নেতৃবৃন্দ মতবিনিময় করেন। এ সময় নদীর বর্তমান অবস্থা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং দ্রুত কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়।

বাপা দাউদকান্দি উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান তালুকদার বলেন, নদী শুধু জলপ্রবাহ নয়; এটি প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িত। খিড়াই নদীকে বাঁচাতে নিয়মিত পরিচর্যা, নদীতে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ এবং দ্রুত কচুরিপানা পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

তিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য ও নির্মল পরিবেশ গড়ে তুলতে দল-মতনির্বিশেষে স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মীরা আশা করছেন, প্রশাসনিক সহায়তা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে খিড়াই নদী থেকে কচুরিপানা ও আবর্জনা অপসারণ করে এর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে।

পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৯ পিএম
পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধ, বসতবাড়ি ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে বসতবাড়ির টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর, ভবনের পাশে মাটি কেটে ঝুঁকি তৈরি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম থানায় দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন। উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের জগমোহনপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার শীতলিয়া মৌজায় আব্দুল কুদ্দুছের বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি উত্তরাধিকারীদের মধ্যে ভাগ-বণ্টনের পর তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে নিজ নিজ অংশ ভোগদখল করে আসছেন। তবে সম্পত্তির একটি অংশ নিয়ে তাঁর সৎ ভাই আব্দুল ওয়াদুদের সঙ্গে বিরোধ চলে আসছে। এ নিয়ে আদালতে একটি মামলাও চলমান রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে আব্দুল ওয়াদুদসহ কয়েকজন ব্যক্তি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন বিরোধপূর্ণ সম্পত্তিতে গিয়ে আব্দুল কুদ্দুছের বসতবাড়ির চারপাশের টিনের বেড়া ও জানালার থাই গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় পাকা বসতঘরের পূর্ব পাশে মাটি কেটে নেওয়া হয়। এতে দোতলা ভবনটি ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অভিযোগকারী। বাধা দিতে গেলে তাঁকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আব্দুল কুদ্দুছ বলেন, বিরোধপূর্ণ সম্পত্তি সুষ্ঠুভাবে ভাগ-বণ্টন করে যার যার অংশ বুঝে নেওয়ার জন্য তিনি একাধিকবার অনুরোধ করেছেন। তাঁর দাবি, সৎ ভাই নিজের অংশ অন্য মৌজায় নিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে বিক্রি করেছেন। অন্যদিকে, তিনি প্রায় ৪০ বছর ধরে এই জমি ভোগদখল করে আসছেন। তাঁর অভিযোগ, তাঁকে নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, তিনি তাঁর বাবার প্রথম সংসানের ছেলে। তাঁর দাদা মারা যাওয়ার আগেই বাবা মারা যান। এরপর সৎ ভাই-বোনসহ ১০ জনের সংসারের খরচ তিনি কষ্ট করে চালিয়েছেন। বণ্টন অনুযায়ী ওই জমিতে তাঁর অংশ রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, ভাইয়েরা নিজেদের অংশে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ২০২৩ সালে আর্থিক সংকটের কারণে নিজের অংশের জমি খারিজ খতিয়ান করে বিক্রি করেছেন। জমি নিয়ে তাঁর ভাইয়েরাই ঝামেলা করছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভেকু দিয়ে মাটি কাটার বিষয়ে ফারুক বলেন, নিজের পৈতৃক সম্পত্তিতে বসতবাড়ি নির্মাণের জন্য মাটি কেটে ভরাট করছেন তিনি। কুদ্দুছের ঘরের পেছনে প্রায় ১০ ফুট জায়গা রেখে মাটি কাটা হচ্ছে। ভবনের ক্ষতি করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য তাঁর নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ওসি মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, উজিরপুর ইউনিয়নের শীতলিয়া এলাকায় জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×