মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

কুমিল্লা মহানগরী ভাসছে পানিতে স্বস্তির বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২০, ৯:১৫ এএম
কুমিল্লা মহানগরী ভাসছে পানিতে স্বস্তির বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় জনদুর্ভোগ চরমে

ছবিটি নগরীর স্টেডিয়াম সংলগ্ন পুলিশ সুপারের বাসভবনের সামনে থেকে তোলা।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লা মহানগরী যখন পৌরসভা নামে পরিচিত ছিল তখনকার প্রধান সমস্যা ছিল জলাবদ্ধতা, তেমনি সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পরও প্রধান সমস্যা জলাবদ্ধতা। এই যখন অবস্থা তখন নির্বাচন আসলেও প্রার্থীদের প্রধান নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল জলাবদ্ধতা নিরসনের প্রতিশ্রুতি। আর এভাবেই দেশের অন্যতম প্রাচীন পৌরশহর কুমিল্লা ২০১১ সালে সিটিকরপোরেশনে উন্নীত হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০১২ সালে প্রথম ও ২০১৭ সালে দ্বিতীয় দফায় মেয়র নির্বাচন হয়। দু’টি নির্বাচনে বিজয়ী ও বিজিত প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি জলাবদ্ধতা নিরসনের থাকলেও দিন দিন বাড়ছে এসমস্যা। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর প্রায় সর্বত্রই সৃষ্ট হচ্ছে জলাবদ্ধতার। আর বাড়ছে নাগরিক দুর্ভোগ। ডুবে যাচ্ছে রাস্তা-ঘাট, হাট-বাজার, দোকান-পাটসহ বাসা-বাড়ি। বর্ষার আগেই চৈত্রের সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর এই জলাবদ্ধতায় নগরবাসীর মনে আসন্ন বর্ষার বৃষ্টির আশঙ্কা চরম দুর্ভোগের কথা স্মরণ করে দিচ্ছে। এই চিত্র পুরো নগরীর। অভিযোগ রয়েছে অপরিকল্পিতভাবে মাইলের পর মাইল নগরীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত ড্রেন নির্মান করলেও সেগুলো পানি নিস্কাশনে কোন ভূমিকাই রাখছেনা। মঙ্গলবার বিকেলে এমনি দু’ঘন্টার বৃষ্টিতে নগরীর প্রান কেন্দ্র কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউসহ অধিকাংশ প্রধান প্রধান সড়ক ডুবে যায়।
একদা ব্যাংক ও ট্যাঙ্কের শহর কুমিল্লায় ব্যাংক সংখ্যা বাড়লেও প্রতিনিয়ত কমছে ট্যাঙ্ক বা পুকুর। এতে জলাধার কমায় বৃষ্টির পানিতে বিগত প্রায় দু’দশক ধরে কুমিল্লা শহরের বিভিন্নস্থানে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছে। এই যখন অবস্থা তখন ২০১২ সালে প্রথম দফা সিটিকরপোরেশন নির্বাচন’এ প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে জলাবদ্ধতাকে প্রধান সমস্যা চিহ্নিত করে এর সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু এরপর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি মেলেনি নগরবাসীর। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর অধিকাংশ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। মঙ্গলবার বিকেলে চৈত্রের প্রচন্ড তাপদাহের পর যখন স্বস্তির বৃষ্টি শুরু হয় তখন নগরবাসী সেটাকে আশির্বাদ মনে করলেও অল্পকিছু সময় পরে ধারনা বদলে যেতে থাকে। একে একে তলিয়ে যায় নগরীর অধিকাংশ এলাকা। এতালিকায় রয়েছে নগরীর প্রানকেন্দ্র কান্দিরপাড় লাকসাম রোড, কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ, বাদুরতলা ডাক্তারপাড়া, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেছা স্কুল রোড, শিক্ষাবোর্ড এলাকা, টমসমব্রীজ এলাকা, সদর হাসপাতাল রোড, সরকারী মহিলা কলেজ রোড, উত্তর চর্থা, দক্ষিণ চর্থা, ঢুলিপাড়া, থিরাপুকুর পাড়, জিলা স্কুল-ষ্টেডিয়াম রোড, নুরপুর হাউজিং, নতুন চৌধুরীপাড়া, ডিসি রোড, মুরাদপুর, পার্ক রোড, রেসকোর্স, ইশ্বরপাঠশালা, সিটিকরপোরেশনের পিছনের সড়কসহ নগরীর বিভিন্নস্থান। অনেকস্থানে বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়ে অসংখ্য মানুষ। বৃষ্টিতে রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছুটির পর হাজার হাজার ঘর ফেরা শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। দায়িত্বশীল নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সুত্র জানায়, বিগত দু’বছর ধরে জাপানী উন্নয়ন সংস্থা (জাইকার) অর্থায়নে নগরীর শাসনগাছা, রেসকোর্স, বাগিচাগাঁও, ফায়ার সার্ভিস রোড, কান্দিরপাড় নজরুল এভিনিউ, রানীরবাজার, অশোকতলা, ষ্টেশন রোড, পুলিশ লাইন, জেল রোড, ধর্মসাগরের পশ্চিমপাড়, ঝাউতলা, বাদুরতলা, মনোহরপুর, সার্কিটহাউজ রোড, আদালতের মোড়, তালপুকুর রোড, ফয়জুন্নেসা স্কুল রোড, ডাক্তার পাড়া, সদরহ্সাপাতাল রোড, ছাতিপট্টি, রাজগঞ্জ, মোগলটুলীসহ প্রায় একশ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জলাবদ্ধতা নিরশনে সিটিকরপোরেশন বক্স ড্রেন নির্মান করলেও অজ্ঞাত কারণে এসব ড্রেন পানি নিস্কাশনে কোন কাজে আসছেনা। অভিযোগ রয়েছে সিটিকরপোরেশনের সুষ্ঠু তদারকির অভাবে এসকল ড্রেন অনেকস্থানেই অসমাপ্ত পড়ে রয়েছে। আবার কোথাও ড্রেনের মাঝখানে বৈদ্যুতিক খুঁটি রেখেই ঠিকাদার ড্রেন নির্মান কাজ শেষ করে ফেলেছে। আর সিটিকরপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা অজ্ঞাত কারণে সেগুলো দেখেও না দেখার ভান করায় কোন কাজে আসছেনা বহুস্থানের ড্রেনগুলো। আর এজন্যই সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নগরীর রাস্তাঘাট। বাড়ছে জনদুর্ভোগ। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ব্যবসায়ীরা। সামান্য বৃষ্টিতে নগরীর রাস্তা-ঘাট ডুবে যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সিটিকরপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অনুপম বড়ুয়া বলেন, ড্রেন নির্মান কাজ অব্যাহত রয়েছে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমের আগেই ড্রেন নির্মান কাজ শেষ হলে জলাবদ্ধতা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।

 

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

রুহুল আমিন চৌধুরী সুমন প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩১ পিএম
কুমিল্লায় WSUP এর উদ্যোগে স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ে নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ।

নারী উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন ও স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লায় স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয় বিষয়ক উদ্যোক্তা দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) নগরীর হোটেল এলিট প্যালেসে WSUP-এর আয়োজনে দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া হোসেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের পানি ও বিদ্যুৎ শাখার সহকারী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ, প্রশাসকের একান্ত সচিব আসিফ বিল্লাহ্, WSUP-এর ওয়াস ইঞ্জিনিয়ার জিকরুল হক এবং ট্রেনিং অফিসার কেয়া অধিকারী।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন বিক্রয়, বাজারজাতকরণ, গ্রাহকসেবা ও উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জনাব ইউসুফ মোল্লা টিপুর ব্যক্তিগত পক্ষ থেকে প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের উপহার প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সহজলভ্যতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

আদালত প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৬ এএম
আইনজীবী নন, তবু ‘বারের সদস্য’! হাইকোর্টে জামিন

কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য না হয়েও নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট) থেকে জামিন নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ধর্ষণ মামলার আসামির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আদালতে মিথ্যা তথ্য উপস্থাপন ও প্রতারণার অভিযোগ তুলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি ও ভুক্তভোগীর দাখিল করা আবেদন সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারাধীন নারী ও শিশু মামলা নং-৫৯/২০২৫ (কোতোয়ালী মডেল থানা সি.পি. নং-৬৫৬/২০২৫) মামলার আসামি মোঃ মেহেদী হাসান (৩৯)। তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক এবং বর্তমানে চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(১) ধারায় দায়ের করা মামলায় অভিযুক্ত মেহেদী হাসান গত ২৪ মে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দী ছিলেন। নিম্ন আদালতে জামিন না পাওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল নং-৩৬৩৭/২০২৫ দায়ের করেন।

মামলার নথিতে থাকা তথ্য অনুযায়ী, হাইকোর্টে শুনানির সময় আসামিপক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়— “accused petitioner is a member of Comilla Bar Association”। অর্থাৎ, আসামিকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়।

এরপর গত ১ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট তাকে জামিন মঞ্জুর করেন।

তবে অনুসন্ধান ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মোঃ মেহেদী হাসান কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির কোনো সদস্য নন। তিনি মূলত একজন সরকারি হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে কর্মরত।

এ অবস্থায় আসামিপক্ষ থেকে তাকে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে আদালতে উপস্থাপন করার বিষয়টি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী বাদীপক্ষের অভিযোগ, মিথ্যা পরিচয় ও তথ্য উপস্থাপনের মাধ্যমে আদালতকে বিভ্রান্ত করে বেআইনিভাবে জামিনের সুবিধা নেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় আসামি ও তার তদবিরকারকের বিরুদ্ধে জালিয়াতি, মিথ্যা তথ্য প্রদান ও প্রতারণার অভিযোগে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ আবেদন করা হয়েছে।

পাশাপাশি, মিথ্যা পরিচয় বা তথ্যের ভিত্তিতে জামিন নেওয়া হয়ে থাকলে সেই জামিন বাতিলের (Bail Cancellation) জন্য হাইকোর্টে প্রয়োজনীয় নথিপত্র উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে বাদীপক্ষ।

ঘটনাটি এখন যে প্রশ্ন সামনে এনেছে

একজন সরকারি হাসপাতালের নার্স কীভাবে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য হিসেবে উচ্চ আদালতে উপস্থাপিত হলেন এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে জামিন মঞ্জুর হয়েছে কি না এ বিষয়টি এখন সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।

বাদীপক্ষের দাবি, আদালতে উপস্থাপিত তথ্যের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

মামলাটি বিচারাধীন থাকায় অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

×