মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

গড়পরতা পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা ছাড়াই চলছে মাদকাসক্তি নিশ্চিতকরণ : দুর্ভোগ চরমে

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:০৭ পিএম
গড়পরতা পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা ছাড়াই চলছে মাদকাসক্তি নিশ্চিতকরণ : দুর্ভোগ চরমে

অনলাইন থেকে সংগৃহিত ছবি।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার পুরো পূর্ব দিকজুড়ে ভারত সীমান্ত। প্রতিদিন এই সীমান্ত পথে এপার-ওপার হচ্ছে নানা পণ্য। এদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য গেলেও ওপার থেকে ভোগ্যপণ্যের সাথে আসছে মাদক। যার বিরাট একটা অংশ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে পাঁচার হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর হাতে কখনো কখনো এসকল মাদকের কিছুটা আটক হলেও অধিকাংশ রয়েছে ধঁরাছোঁয়ার বাইরে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের ব্যাপকতা এতটাই বেশী যে, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্নস্থান এমনকি অন্যজেলা থেকেও প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নানা বয়সী অসংখ্য মাদকসেবী ভীড় করে সীমান্তের বিভিন্ন স্পটে মাদক সেবনে।

আর এই মোক্ষম সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধূ পুলিশ সদস্য সীমান্তের বিভিন্ন প্রবেশ পথে সীমান্ত থেকে আসা সকল যানবাহন থামিয়ে লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, কখনোবা পরীক্ষা ছাড়াই মাদকাসক্তি নিশ্চিত করার অপচেষ্টা করেন। প্রতিবাদ করলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখায়। এঅবস্থায় কুমিল্লা সীমান্তসহ আশপাশ এলাকায় বসবাসকরা হাজার হাজার মানুষ চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কুমিল্লায় রয়েছে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত সীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই আসছে ভোগ্যপণ্যের বাইরে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, বিয়ার, স্কাপ, কোডেকাফ, নেশা ও যৌনউত্তেজক জাতীয় ইনজেকশন, ট্যাবলেট। সীমান্ত এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা ও অপেক্ষাকৃত দাম কম হওয়ায় তাই জেলাসহ দুর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য বিভিন্ন বয়স শ্রেনী-পেশার মাদকসেবী প্রতিদিন ছুটে আসে সীমান্তে।

সরেজমিন ঘুরে সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তের একাধিক স্থানের লোকজনের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ নাম পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের বক্তব্য বড়জ্বালা, নিশ্চিন্তপুর, কেরানীনগর, শিবেরবাজার, যশপুর, পিড়াতলী, নন্দিরবাজার, ভবনঘর, কৃষ্ণপুর, বাঁশমঙ্গল, শ্রীপুর, গোলাবাড়ি, শাহপুর, বিবিরবাজার, হরিপুর, গাজীপুর, একবালিয়া, লক্ষীপুর, ধলকুইয়া, বলেরঢেবা, খেয়াইশ, সূর্যনগর, দড়িবট, কনেশতলা, বৌয়ারা এলাকায় অবাধে ভারতীয় মরণনাশা মাদক ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা, বিয়ারসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন বিক্রি করছে একশ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ী। সেখানে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে হোন্ডা, সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসছে শত শত মাদকসেবী।

এদের কেউ কেউ আবার কিছু মাদক সাথে করেও নিয়ে যাচ্ছে। এসুযোগটাকে মোক্ষম হিসেবে বেছে নিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিনের শিবেরবাজার, নন্দীরবাজার, কেরানীনগর, শাহপুর, জবা ব্রীক্স, চান্দপুর ব্রীজের উত্তর পাড়, টিক্কাচর ব্রীজের উত্তর-দক্ষিণ দু’পাড়, জালুয়াপাড়া, পাচঁথুবি বোর্ড অফিস, বারপাড়া, চাপাপুর মাদ্রাসা রোড, তালুকদার ব্রীক্স, আনন্দপুর, বটতলা, তেতৈয়ারা, দলকুইয়া, সুর্যনগর, কনেশতলা, বলেরঢেবা, বৌয়ারা বাজার, লক্ষীপুর, হৈট্টাল চৌমুহনী, জোলাই, রাজেশপুর এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যারাত প্রতিনিয়ত লোকজনদের তল্লাসীর নামে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী লোকজন জানান, সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় কোন কিছু বলেনা পুলিশ। আসার পথেই যত বিরম্ভনা। হোন্ডা, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস থামিয়ে প্রথমে গাড়ির কাগজপত্র, যাত্রীদের পরিচয়, তারপর একে একে বিভিন্ন প্রশ্নবানে জড়িয়ে একসময় শরীর তল্লাসী সবশেষ “পুলিশী পদ্ধতি”তে মাদকাসক্তি নিশ্চিত করনের পরীক্ষা। অভিযোগ রয়েছে দেশীয় ড্রিংক টাইগার, স্পীড সেবন করলেও রক্ষা নেই।

মাদক সেবনের কথা বলে অর্থ আদায়ের অনৈতিক চেষ্টা কখনোবা ভ্রাম্যমান আদালতে বিচারের কথা বলেও টাকা আদায়। ভূক্তভোগীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কখনো পুলিশ বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে হয়রানী থেকে মুক্তি পাচ্ছেন কেউ কেউ। পুলিশী হয়রানীর শিকার একটি বেসরকারী কলেজের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি থেকে ফেরার পথে স্ত্রীর সামনে পুলিশী হয়রানী নিজ দেশে অনেকটা পরবাসের কথা মনে হয়, তাই এখন শ্বশুড়বাড়ি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বেড়াতে যাইনা। নগরীতে ব্যবসা করেন এমন অনেকেও বলেন, ভাই প্রতিদিনই পুলিশের কাছে জবাবদিহিতা করা হচ্ছে।

পুলিশী হয়রানীর কবল থেকে বাচঁতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি জীবনে কখনো সিগারেট পান করিনি। অথচ পুলিশী পদ্ধতিতে আমাকে মাদক সেবকনকারী বলছে। একই অবস্থা সীমান্ত এলাকায় যাত্রী পরিরবহনে নিয়োজিত যানবাহন চালকদেরও। নগরীর চর্থা এলাকার প্রবাস ফেরত এক যুবক বলেন, আমি আমার এক বন্ধুর নিকটাত্বীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সম্প্রতি বিবিরবাজার রোডে পুলিশের কবলে পড়ি। এরপর মাদকসেবী চিহ্নিত করণে পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা।

দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাদকাসক্তি চিহ্নিত করণে ‘পুলিশী পদ্ধতি’ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে হয়রানী করছে। ওই সুত্র আরো বলেন, পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী মাদকসেবীদের পাশাপাশি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও যদি কঠোর হতো তাহলে নগরীসহ দুর দুরান্ত থেকে মাদক সেবীরা মাদক সেবনে ভীড় করতোনা সীমান্ত এলাকায়। হয়রানী থেকে বেচেঁ যেত হাজার হাজার মানুষ।

কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৮:০৬ পিএম
কুমিল্লায় চোলাই মদের রমরমা কারবার, ধ্বংস হচ্ছে দরিদ্র পরিবার

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় মদ তৈরির অভিযোগ, নেশার ছোবলে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি

অভাবের সংসার, দিনমজুরের সামান্য আয়, স্ত্রী-সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার সংগ্রাম—তারপরও সেই আয়ের একটি অংশ চলে যাচ্ছে নেশার পেছনে। চোলাই মদ পান করে কেউ হারাচ্ছেন কর্মক্ষমতা, কেউ জড়িয়ে পড়ছেন পারিবারিক কলহে, আবার কারও মদ্যপ আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা। এমন পরিস্থিতিতে কুমিল্লা নগরীর শাসনগাছা ও টিক্কাচর এলাকার হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ ঘিরে জনস্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয় বাস্তবতায় দেখা যায়, মদ্যপ অবস্থায় কিছু ব্যক্তি স্ত্রী, সন্তান, মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদে জড়িয়ে পড়েন। অশ্রাব্য ভাষায় গালমন্দ, চিৎকার-চেঁচামেচি এবং পারিবারিক অশান্তির কারণে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিশুদের ওপরও। যে পরিবারগুলো এমনিতেই আর্থিক সংকটে দিন কাটায়, তাদের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দেয় নেশার এই অভ্যাস।

 

নিজেরা পান, আবার বিক্রিও করেন

 

স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলা এলাকায় চোলাই মদ তৈরির কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ নিজেদের ব্যবহারের জন্য মদ তৈরি করলেও অন্য একটি অংশ তা বিক্রির উদ্দেশ্যে বাজারজাত করে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

অভিযোগ রয়েছে, ব্যক্তিগত ব্যবহারের কথা বলে তৈরি করা মদের পাশাপাশি বিক্রির জন্যও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে মদ প্রস্তুত করা হচ্ছে। এসব মদের উপাদান ও উৎপাদনপ্রক্রিয়া কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন রয়েছে। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থের লেনদেন হচ্ছে বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়। তবে উৎপাদন ও বিক্রির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণের মতো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

 

অল্প টাকার নেশা, বড় ক্ষতি সংসারে

 

চোলাই মদের সহজলভ্যতা নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ উদ্বেগের বিষয়। অল্প টাকায় মদ কিনে পান করার পর অনেকে কর্মক্ষেত্রে স্বাভাবিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হন বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউ কাজে যেতে পারেন না, কেউ উপার্জিত অর্থ পরিবারের প্রয়োজনের বদলে নেশায় ব্যয় করেন। এর ফলে সংসারে অভাব বাড়ে, সন্তানদের পড়াশোনা ব্যাহত হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

একজন মানুষের নেশার কারণে যখন স্ত্রী-সন্তান, বৃদ্ধ মা-বাবা ও প্রতিবেশীদের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তখন সেটি আর ব্যক্তিগত অভ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়।

 

অপরিচ্ছন্ন মদে মৃত্যুঝুঁকি

 

চোলাই মদে বিষাক্ত মিথানল বা অন্যান্য ক্ষতিকর উপাদান থাকলে তা অন্ধত্ব, গুরুতর অঙ্গহানি এমনকি মৃত্যুর কারণ হতে পারে। অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হওয়া মদ নিরাপদ—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই। শুধু গন্ধ, স্বাদ বা রং দেখে মদের বিষাক্ততা নির্ধারণ করা যায় না।

স্থানীয়ভাবে চোলাই মদ পান করে অসুস্থ হওয়ার ঘটনাও উদ্বেগের কারণ। হাসপাতালের একটি সূত্রের দাবি, মদপানের পর অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন সময়ে মানুষ চিকিৎসা নিতে আসছেন; তাঁদের মধ্যে অসচ্ছল ব্যক্তিও রয়েছেন। তবে কতজন হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন, তার নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি জরুরি।

 

বন্ধ হবে কবে এই অবৈধ কারবার?

 

এলাকাবাসীর উদ্বেগ হলো, চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রি চলতে থাকলে একদিকে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক বিশৃঙ্খলাও চলতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে শুধু মদ পানকারীকে দোষারোপ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না; এর উৎপাদন ও বিক্রির উৎসও শনাক্ত করা প্রয়োজন।

শাসনগাছা ও টিক্কাচর হাড্ডিখোলায় চোলাই মদ তৈরি ও বিক্রির অভিযোগ তদন্ত করে দেখার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন। কোথায় মদ তৈরি হচ্ছে, কীভাবে তা বিক্রি হচ্ছে এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় যাচাই করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

পাশাপাশি মদে আসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, পরামর্শ ও পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। কারণ নেশার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাঁদের পরিবার ও প্রতিবেশীদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

চোলাই মদের কারবার বন্ধ করা শুধু আইনশৃঙ্খলার প্রশ্ন নয়; এটি দরিদ্র মানুষের জীবন রক্ষা, পরিবারের শান্তি ফিরিয়ে আনা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে নেশার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচানোর লড়াই। এখন প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ, নিয়মিত নজরদারি ও সামাজিক সচেতনতা।

শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর

মো: বিল্লাল হোসেন: প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৩ পিএম
শুধু কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয় প্রয়োজন ঐক্য – আহমেদ আবু জাফর

“শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ,ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।”

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে কুমিল্লার দেবীদ্বারে উপজেলা প্রশাসনের সভা কক্ষে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর উপজেলা শাখা গঠন উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব‍্যে- বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি,বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর ওই বক্তব‍্য দেন।

তিনি বলেন, “ শুধুমাত্র কথার ফুলঝুরি ছড়িয়ে সাংবাদিকতা পেশার উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ জন্য প্রয়োজন বাস্তব উদ্যোগ, ঐক্য ও দায়িত্বশীল ভূমিকা।” আমাদের সবাইকে নতুন করে দেশ প্রেমে উজ্জীবিত হতে হবে। দেশ ও গণতন্ত্রের স্বার্থে গণমাধ্যমকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের অধিকার, পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের ঐক্যবদ্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
দেবীদ্বার উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক এবিএম আতিকুর রহমান বাশার-এর সভাপতিত্বে এবং সাংবাদিক শফিউল আলম রাজীবের সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানের উদ্বোধক হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা।

এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন, দেবীদ্বার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম (বিএমএসএফ) এর সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ- এর কুমিল্লা জেলা শাখা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কাজী খোরশেদ আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও কেন্দ্রীয় নেতা মেহেদী হাসান।

অন‍্যান্যদের মধ‍্যে বক্তব‍্য রাখেন, সহ-সভাপতি মনোয়ার হোসেন, মোঃ আব্দুল আউয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আক্কাস আলী মাহমুদ হৃদয়। দৈনিক আজকালের খবর পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি, এ আর আহমেদ হোসাইন, দৈনিক আজকের পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীব, দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকার দেবীদ্বার প্রতিনিধি ফারুক হোসাইন জনি, ঢাকা নিউজের দেবীদ্বার প্রতিনিধি একেএম মিজানুর রহমান কাউছার, ডাঃ প্রতিনিধি মাসুদ হাসান, শিক্ষক প্রতিনিধি রুহুল আমিন, এডভোকেট আনিসুর রহমান।

এছাড়াও পোগ্রামের শুরুতে কোরআন তেলাওয়াত করেন জাহিদ হাজারী, গিতা পাঠ করেন ভজন সাহা। এসময় সম্মিলিত ভাবে জাতীয় সংগীত ও সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির দলীয় সংগীত প্রদর্শিত হয়।

সভায় দেবীদ্বার উপজেলা শাখা গঠন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নির্যাতন ও হয়রানি প্রতিরোধ এবং সাংবাদিকদের ঐক্য ও অধিকার রক্ষায় সংগঠনের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা করা হয়। সভা শেষে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ২১ সদস্যবিশিষ্ট দেবীদ্বার উপজেলা শাখার কমিটি ঘোষণা করেন। কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দৈনিক আজকালের খবরের প্রতিনিধি আহমেদ হোসাইন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রতিনিধি শফিউল আলম রাজীবের নাম ঘোষণা করা হয়।

পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৩:২৩ পিএম
পরিত্যক্ত বস্তায় বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন

কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার কটকবাজার এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়।

কুমিল্লা ব্যাটালিয়ন (১০ বিজিবি) সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন শাহাপুর পোস্টের একটি টহল দল সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কটকবাজার এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় একটি পুরোনো প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি বিদেশি পিস্তল ও দুটি ম্যাগজিন উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, উদ্ধার করা অস্ত্র ও ম্যাগজিনের বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে সেগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।

×