শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

গড়পরতা পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা ছাড়াই চলছে মাদকাসক্তি নিশ্চিতকরণ : দুর্ভোগ চরমে

বিশেষ প্রতিবেদক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২২, ৪:০৭ পিএম
গড়পরতা পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা ছাড়াই চলছে মাদকাসক্তি নিশ্চিতকরণ : দুর্ভোগ চরমে

অনলাইন থেকে সংগৃহিত ছবি।

google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

কুমিল্লার পুরো পূর্ব দিকজুড়ে ভারত সীমান্ত। প্রতিদিন এই সীমান্ত পথে এপার-ওপার হচ্ছে নানা পণ্য। এদেশ থেকে ভোগ্যপণ্য গেলেও ওপার থেকে ভোগ্যপণ্যের সাথে আসছে মাদক। যার বিরাট একটা অংশ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্নস্থানে পাঁচার হচ্ছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনীর হাতে কখনো কখনো এসকল মাদকের কিছুটা আটক হলেও অধিকাংশ রয়েছে ধঁরাছোঁয়ার বাইরে। সীমান্ত এলাকায় মাদকের ব্যাপকতা এতটাই বেশী যে, কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার বিভিন্নস্থান এমনকি অন্যজেলা থেকেও প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার নানা বয়সী অসংখ্য মাদকসেবী ভীড় করে সীমান্তের বিভিন্ন স্পটে মাদক সেবনে।

আর এই মোক্ষম সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধূ পুলিশ সদস্য সীমান্তের বিভিন্ন প্রবেশ পথে সীমান্ত থেকে আসা সকল যানবাহন থামিয়ে লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ, কখনোবা পরীক্ষা ছাড়াই মাদকাসক্তি নিশ্চিত করার অপচেষ্টা করেন। প্রতিবাদ করলে মাদক মামলায় ফাঁসানোর ভয়ও দেখায়। এঅবস্থায় কুমিল্লা সীমান্তসহ আশপাশ এলাকায় বসবাসকরা হাজার হাজার মানুষ চরম হয়রানীর শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, কুমিল্লায় রয়েছে প্রায় ৭৪ কিলোমিটার দীর্ঘ ভারত সীমান্ত। এই সীমান্ত দিয়ে প্রতিদিনই আসছে ভোগ্যপণ্যের বাইরে মদ, গাঁজা, ফেন্সিডিল, বিয়ার, স্কাপ, কোডেকাফ, নেশা ও যৌনউত্তেজক জাতীয় ইনজেকশন, ট্যাবলেট। সীমান্ত এলাকায় মাদকের সহজলভ্যতা ও অপেক্ষাকৃত দাম কম হওয়ায় তাই জেলাসহ দুর-দুরান্ত থেকে অসংখ্য বিভিন্ন বয়স শ্রেনী-পেশার মাদকসেবী প্রতিদিন ছুটে আসে সীমান্তে।

সরেজমিন ঘুরে সদর ও সদর দক্ষিণ উপজেলার সীমান্তের একাধিক স্থানের লোকজনের সাথে কথা বলতে চাইলে কেউ নাম পরিচয় প্রকাশ করতে রাজি হননি। তাদের বক্তব্য বড়জ্বালা, নিশ্চিন্তপুর, কেরানীনগর, শিবেরবাজার, যশপুর, পিড়াতলী, নন্দিরবাজার, ভবনঘর, কৃষ্ণপুর, বাঁশমঙ্গল, শ্রীপুর, গোলাবাড়ি, শাহপুর, বিবিরবাজার, হরিপুর, গাজীপুর, একবালিয়া, লক্ষীপুর, ধলকুইয়া, বলেরঢেবা, খেয়াইশ, সূর্যনগর, দড়িবট, কনেশতলা, বৌয়ারা এলাকায় অবাধে ভারতীয় মরণনাশা মাদক ফেন্সিডিল, মদ, গাঁজা, বিয়ারসহ নেশাজাতীয় ট্যাবলেট, ইনজেকশন বিক্রি করছে একশ্রেনীর মাদক ব্যবসায়ী। সেখানে প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিভিন্ন যানবাহন বিশেষ করে হোন্ডা, সিএনজি অটোরিকশাযোগে আসছে শত শত মাদকসেবী।

এদের কেউ কেউ আবার কিছু মাদক সাথে করেও নিয়ে যাচ্ছে। এসুযোগটাকে মোক্ষম হিসেবে বেছে নিয়েছে পুলিশ। কুমিল্লা আদর্শ সদর ও সদর দক্ষিনের শিবেরবাজার, নন্দীরবাজার, কেরানীনগর, শাহপুর, জবা ব্রীক্স, চান্দপুর ব্রীজের উত্তর পাড়, টিক্কাচর ব্রীজের উত্তর-দক্ষিণ দু’পাড়, জালুয়াপাড়া, পাচঁথুবি বোর্ড অফিস, বারপাড়া, চাপাপুর মাদ্রাসা রোড, তালুকদার ব্রীক্স, আনন্দপুর, বটতলা, তেতৈয়ারা, দলকুইয়া, সুর্যনগর, কনেশতলা, বলেরঢেবা, বৌয়ারা বাজার, লক্ষীপুর, হৈট্টাল চৌমুহনী, জোলাই, রাজেশপুর এলাকায় প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যারাত প্রতিনিয়ত লোকজনদের তল্লাসীর নামে অরাজক অবস্থার সৃষ্টি করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভুক্তভোগী লোকজন জানান, সীমান্তের দিকে যাওয়ার সময় কোন কিছু বলেনা পুলিশ। আসার পথেই যত বিরম্ভনা। হোন্ডা, সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার বা মাইক্রোবাস থামিয়ে প্রথমে গাড়ির কাগজপত্র, যাত্রীদের পরিচয়, তারপর একে একে বিভিন্ন প্রশ্নবানে জড়িয়ে একসময় শরীর তল্লাসী সবশেষ “পুলিশী পদ্ধতি”তে মাদকাসক্তি নিশ্চিত করনের পরীক্ষা। অভিযোগ রয়েছে দেশীয় ড্রিংক টাইগার, স্পীড সেবন করলেও রক্ষা নেই।

মাদক সেবনের কথা বলে অর্থ আদায়ের অনৈতিক চেষ্টা কখনোবা ভ্রাম্যমান আদালতে বিচারের কথা বলেও টাকা আদায়। ভূক্তভোগীরা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কখনো পুলিশ বিকাশের মাধ্যমে টাকা এনে হয়রানী থেকে মুক্তি পাচ্ছেন কেউ কেউ। পুলিশী হয়রানীর শিকার একটি বেসরকারী কলেজের শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, স্ত্রীকে নিয়ে শ্বশুড়বাড়ি থেকে ফেরার পথে স্ত্রীর সামনে পুলিশী হয়রানী নিজ দেশে অনেকটা পরবাসের কথা মনে হয়, তাই এখন শ্বশুড়বাড়ি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বেড়াতে যাইনা। নগরীতে ব্যবসা করেন এমন অনেকেও বলেন, ভাই প্রতিদিনই পুলিশের কাছে জবাবদিহিতা করা হচ্ছে।

পুলিশী হয়রানীর কবল থেকে বাচঁতে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী বলেন, আমি জীবনে কখনো সিগারেট পান করিনি। অথচ পুলিশী পদ্ধতিতে আমাকে মাদক সেবকনকারী বলছে। একই অবস্থা সীমান্ত এলাকায় যাত্রী পরিরবহনে নিয়োজিত যানবাহন চালকদেরও। নগরীর চর্থা এলাকার প্রবাস ফেরত এক যুবক বলেন, আমি আমার এক বন্ধুর নিকটাত্বীয়ের বাড়ি থেকে ফেরার পথে সম্প্রতি বিবিরবাজার রোডে পুলিশের কবলে পড়ি। এরপর মাদকসেবী চিহ্নিত করণে পুলিশী পদ্ধতিতে পরীক্ষা।

দায়িত্বশীল সুত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মাদকাসক্তি চিহ্নিত করণে ‘পুলিশী পদ্ধতি’ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে হয়রানী করছে। ওই সুত্র আরো বলেন, পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারীবাহিনী মাদকসেবীদের পাশাপাশি বিক্রেতাদের বিরুদ্ধেও যদি কঠোর হতো তাহলে নগরীসহ দুর দুরান্ত থেকে মাদক সেবীরা মাদক সেবনে ভীড় করতোনা সীমান্ত এলাকায়। হয়রানী থেকে বেচেঁ যেত হাজার হাজার মানুষ।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×