চৌদ্দগ্রামে মাছ শূণ্য জগন্নাথদীঘিতে বড়শি প্রতিযোগিতার আয়োজন, প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিযোগিদের লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা
দায়েরকৃত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তের ফলে জগন্নাথদীঘিটি অভিভাবক শূণ্য হয়ে পড়ে। হামলা-মামলার ভয়ে জগন্নাথদীঘির পূর্বের ইজারাদার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী সদস্য ও বিশিষ্ট ঠিকাদার মো. মহিবুল আলম মজুমদার কানন এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। যারফলে স্থানীয় প্রভাবশালী কতিপয় লোকজন ও এলাকার সাধারণ মানুষ দফায় দফায় জাল পেলে দীঘি থেকে পূর্বে চাষকৃত বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছগুলো লুটপাট করে নিয়ে যায়। চলতি বছরের এপ্রিল মাস পর্যন্ত কোন ধরনের বাঁধা-বিপত্তি ছাড়াই যে যার মত করে দীঘি থেকে মাছ ধরে নিয়ে যায়। একারণেই বলা চলে দীঘিটি এখন মাছ শূণ্য প্রায়। চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল জগন্নাথদীঘিটি “চিওড়া মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি লি:” বিধি মোতাবেক ৫ বছরের জন্য ইজারা নেয়। লিজ নেওয়ার পরপরই তারা দীঘিতে বিভিন্ন প্রজাতির বিপুল সংখ্যক মাছের পোনা অবমুক্ত করে। মাত্র ৪/৫ মাসের ব্যবধানে সেই নতুন করে অবমুক্ত করা মাছগুলো বলতে গেলে এখনও খাওয়া বা বিক্রির উপযোগীও হয়নি। কিন্তু জগন্নাথদীঘী মানে বৃহত্তর কুমিল্লার বড় ও ঐতিহ্যবাহী দীঘি। এটিকে পুঁজি করেই মাছ শূণ্য থাকার বিষয়টি আড়াল করে তড়িঘড়ি করে বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মৎস্য প্রেমিদের পকেট থেকে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিতে এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে সমিতির সভাপতি মো. ফখরুল ইসলাম প্রকাশ ফয়সাল। সে চট্টগ্রামের বারৈয়ারহাট হ্যাচারী থেকে লোক দেখানো স্বল্প পরিমাণে কিছু বড় মাছ এনে তা দিঘীতে ছাড়ে এবং ভিডিওধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এছাড়াও চটকদার বিজ্ঞাপন ছাপিয়ে মাছ শিকারীদের বিভিন্ন গ্রæপে তা ছড়িয়ে দিয়ে তাদের আকৃষ্ট করে ২৮ হাজার টাকা হারে টিকেট বিক্রি শুরু করে। অথচ অতীতে কখনো এই দীঘিতে ৫ হাজার টাকার উপরে বড়শি প্রতিযোগিতার টিকেটের মূল্য ছিলনা। এভাবেই ফখরুল ইসলাম ফয়সাল প্রায় ২৮ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের দিন থেকে টানা ৮/৯ মাস স্থানীয়রাসহ দূর-দূরান্তের শত শত মানুষ দীঘির মাছ লুটপাট করে নিয়ে যায়। দীঘির বর্তমান ইজারাদাররা গত এপ্রিল মাসের মাঝামাঝি সময়ে দীঘি বুঝে নেওয়ার পর কিছু মাছের পোনা অবমুক্ত করে। কিন্তু বড়শি প্রতিযোগীতা দেওয়ার মত বড় মাছ দীঘিতে নেই। এটা জোচ্চুরি।
দীঘিরপাড়ের বাসিন্দা শামছুল হক জানান, চৌদ্দগ্রামসহ আশে-পাশের সবাই জানে দীঘিতে কোন মাছই নেই। তাই ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনী এলাকায় লিফলেট ছাপিয়ে তাদের আকৃষ্ট করে উচ্চমূল্যে টিকেট বিক্রি করে বড়শি প্রতিযোগিতার নামে মাছ শিকারীদের সাথে প্রতারণা করছে ইজারাদার ফয়সাল।
জগন্নাথদীঘি ইউনিয়নের কেছকিমুড়া গ্রামের হানিফ মিয়া জানান, মাছ শূণ্য দীঘিতে বড়শি প্রতিযোগীতার আয়োজনের বিষয়ে আমরা কয়েকজন মো. ফখরুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি আমাদের ধমক দিয়ে বলেন, তোমাদের এত কথা বলার দরকার নেই। এখানে ফেনী, কুমিল্লার ডিসি-এসপি, সচিবসহ অনেক উচ্চ পর্যায়ের লোক উপস্থিত থাকবে।
চিওড়া মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি লি: এর সাধারণ সম্পাদক মো. সফিউল ইসলাম জিয়া জানান, দীঘিটি লিজ নেওয়ার পর থেকেই আমাদের সমিতির সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফয়সাল কিছু কুচক্রি মহলের ইদ্ধনে নানান টালবাহানা শুরু করেন। সে মানুষ ঠকানোর জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। এসব বিষয় নিয়ে তার সাথে আমাদের সমিতির অপরাপর সদস্যদের মতবিরোধ তৈরী হয়। দীঘি ইজারা নেওয়ার মাত্র ৫ মাসের মাথায় ফখরুল ইসলাম একক সিদ্ধান্তে বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে। সাধারণ মানুষের সাথে ঘটা এমন অন্যায় কাজ আমি মেনে নিতে পারছিনা বলে উক্ত বড়শি প্রতিযোগীতা বন্ধের জন্য কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর পৃথক লিখিত আবেদন করেছি। আশা করি এমন প্রতারণামূলক কার্যক্রম বন্ধে যথাযথ কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত “চিওড়া মৎস্য চাষী সমবায় সমিতি লি:” এর সভাপতি ফখরুল ইসলাম ফয়সাল বলেন, আমার চাষকৃত অন্য দীঘি থেকে মাছ এনে জগন্নাথদীঘিতে ফেলা হয়েছে। ইজারা নেওয়ার মাত্র ৫ মাসের মাথায় অভিনব এমন প্রতিযোগীতার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, আমরা ইতিমধ্যে দীঘিতে মোটা অংকের টাকা বিনিয়োগ করেছি। লগ্নিকৃত সে টাকা তো এখান থেকে ব্যবসা করেই তুলতে হবে। এটাই আমার বিজনেস।
এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: জামাল হোসেন জানান, ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে দীঘিটি লিজ দেওয়া হয়েছে। মাছ শূণ্য দীঘিতে বড়শি প্রতিযোগীতার নামে মৎস্য শিকারীদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে এমন একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। সেই আলোকে উপজেলা সমবায় অফিসারকে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য বলা হয়েছে।















