সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

চৌদ্দগ্রামে মুন্সীরহাট ইকরা মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মানহীন খাবার পরিবেশন, প্রতিবাদ করায় অভিভাবকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৫, ৭:২০ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মুন্সীরহাট ইকরা মাদরাসায় আবাসিক শিক্ষার্থীদের মানহীন খাবার পরিবেশন, প্রতিবাদ করায় অভিভাবকের উপর ন্যাক্কারজনক হামলা
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মুন্সীরহাট ইকরা মহিলার আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়মিত মানহীন খাবার পরিবেশন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় মাদরাসার মুহতামিম (প্রতিষ্ঠান প্রধান) মাওলানা মো. হাবিবুর রহমান কর্তৃক মো. আলা উদ্দিন নামে এক অভিভাবক ন্যাক্কারজনক হামলার শিকার হন। এ সময় মারধর ও লাঞ্ছনা শেষে ওই অভিভাবককে মাদরাসায় আটকে রাখার ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি ঘটেছে শনিবার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার মুন্সীরহাট বাজারের ইকরা মহিলা মাদরাসায়। স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগি অভিভাবককে উদ্ধার ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

ভুক্তভোগির পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জনগুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার হলো মুন্সীরহাট বাজার। একই ইউনিয়নের যুগীরহাট গ্রামের মাওলানা হাবিবুর রহমান নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে “মুন্সীরহাট ইকরা মহিলা মাদরাসা” নামে একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন। পরবর্তীতে তিনি সরকারি কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই মাদরাসাটিকে বালক-বালিকা শাখার পৃথক নামকরণ করে আবাসিক-অনাবাসিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসিক ৬ হাজার টাকা হারে ফি নিলেও তাদেরকে পরিবেশন করা খাবারের মান খুবই নিম্নমানের বলে জানা গেছে। বিষয়টি নিয়ে বহু অভিভাবক দীর্ঘদিন ধরে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে মাদরাসা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা, অভিযোগ প্রদান সহ প্রতিবাদ করলেও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তাদের মাঝে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে। অনেক অভিভাবক বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লেখালেখিও করেন। এতকিছুর পরও টনক নড়েনি মাদরাসার স্বৈরাচারি মনোভাবাপন্ন মুহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমানের। প্রতিষ্ঠানের নামে চটকদার বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দিয়ে শিক্ষার্থী কালেকশন করে পরে তাদেরকে সঠিক যত্ন না নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে মুহতামিমের বিরুদ্ধে। তার একঘেয়েমির কারণে অনেক সচেতন অভিভাবক তার শিশু সন্তানের ভবিষ্যত নিয়ে বেশ দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। বছরের মাঝখানে নিজ সন্তানকে অন্য প্রতিষ্ঠানে নিতে পারছেন না বা পারলেও বাৎসরিক স্বাভাবিক পাঠ কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটতে পারার দুচিন্তায় অন্যত্র না নিয়ে বরং একপ্রকার বাধ্য হয়েই অত্র প্রতিষ্ঠানে রেখে দিয়েছেন অনেকে। যারফলে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার দৈনন্দিন খাবার গ্রহণে বেশ ভোগান্তি সহ্য করতে হচ্ছে। মাদরাসা হোস্টেলে পরিবেশনকৃত খাবারের মান নিয়ে নানান অভিযোগের ফলে অভিভাবকরা তাদের সন্তানের বাড়তি যত্ন নিতে গিয়ে প্রায় প্রতিদিনই বাড়তি কিছু খাবার কিনে দিতে বাধ্য হচ্ছেন। এজন্য অভিভাবকদের খরচ করতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। এত এত অভিযোগের মধ্যে শনিবার দুপুরে মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের আলা উদ্দিন নামে এক অভিভাবককে মারধর ও লাঞ্ছনার ঘটনা ঘটে। ওই মাদরাসার ৬ষ্ঠ শ্রেণীর আবাসিকে থেকে পড়ে তার ২ ভাগিনা। শুক্রবার রাতে তাদের নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে বলে তিনি আজ দুপুরে অভিযোগ জানাতে গেলে তার সাথে বাগবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপান্তরিত হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মাদরাসা মুহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমান ওই অভিভাবকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বেত্রাঘাত সহ ব্যাপক মারধর করেন। এ সময় মাদরাসার অন্যান্য শিক্ষকরা দৌঁড়ে এসে মাদরাসার মূল কলাপসিবল গেইটে তালা লাগিয়ে দিয়ে ওই অভিভাবককে অবরুদ্ধ করে রাখেন। নিরুপায় হয়ে পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের সহযোগিতা চান। সংবাদ পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো.আশরাফের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগি অভিভাবককে উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময়ে থানা পুলিশ মুন্সীরহাট বাজারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ডা. শাহজালাল, আলকাছসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ীকে বিষয়টি দ্রুত সুরাহার দায়িত্ব প্রদান করেন। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মাদরাসা মুহতামিম পলাতক রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবক আলা উদ্দিন জানান, মাহিন ও আশফি নামে আমার দুই ভাগিনা মুন্সীরহাট ইকরা মাদরাসার হোস্টেলে থেকে লেখাপড়া করে। তারা উভয়ই ৬ষ্ঠ শ্রেণীর ছাত্র। আমার ভগ্নিপতি বিদেশ থাকায় বেশিরভাগ সময় আমিই তাদের দেখাশুনা করি। শুক্রবার রাতে ভাগিনা মাহিন ফোন করে আমাকে জানায়, ওইদিন রাতে তাদেরকে খুবই নিম্নমানের খাবার দেওয়া হয়েছে, তাই তারা ওই খাবার খায়নি। আমি আজ দুপুরে মাদরাসায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে জানতে চেয়ে মাও. হাবিবুর রহমানের সাথে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। তর্কাতর্কির একপর্যায়ে তিনি আমাকে তার হাতে থাকা জালি বেত দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে। এরপর গেইটে তালা লাগিয়ে তারা আমাকে দীর্ঘক্ষণ মাদরাসা ক্যাম্পাসে আটকে রাখে। আমি নিরুপায় হয়ে ৯৯৯ এ কল দিয়ে পুলিশি সহায়তা চাই।

এ বিষয়ে জানতে মুন্সীরহাট ইকরা মাদরাসায় গিয়ে মুহতামিম মাওলানা হাবিবুর রহমানকে না পেয়ে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি স্থানীয় এক রাজনৈতিক নেতার নাম বলে ওই নেতার সাথে যোগাযোগ করতে বলে ফোনের লাইন কেটে দেন। এরপর বহুবার তাকে কল দিলেও তিনি আর কলটি না ধরায় কোনো বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন বলেন, শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অভিভাবককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি আমার নজরে আসে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে অভিযুক্ত মুহতামিমের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ হিলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, জরুরী সেবার মাধ্যমে ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। রাতে উভয়পক্ষ বসে বিষয়টির সুরাহা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাজারের ব্যবসায়ীরা।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

×