রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

জয় পরাজয় থাকবেই, তবে এবার খেলা হবে (কুমিল্লা-৫ (২৫৩) আসন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসন)

মাহফুজ বাবু : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২৮ নভেম্বর, ২০২৩, ২:১৯ পিএম
জয় পরাজয় থাকবেই, তবে এবার খেলা হবে (কুমিল্লা-৫ (২৫৩) আসন বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসন)
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এমনটাই দাবি দুই উপজেলার রাজনৈতিক নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেনী ও পেশার মানুষ সহ সাধারণ জনগণের। রাজনৈতিক মহল ও পাড়ার চায়ের দোকান থেকে শুরু করে সর্বত্র আলোচনা কে হচ্ছেন পরবর্তী সংসদ সদস্য। দলীয় রাজনীতি, স্বতন্ত্র প্রার্থী, নির্বাচনী মাঠের পরিস্থিতি, ভোটের হিসেব সব মিলিয়ে চলছে বিশ্লেষণ উঠছে চায়ের কাপে ঝড়। নির্দলীয় সরকারের একদফা দাবিতে অটল প্রধান বিরোধী দল বিএনপি নির্বাচন অংশ গ্রহণ না করে হরতাল ও অবরোধ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। এদিকে জাতীয় পার্টি ইতিমধ্যেই কুমিল্লা ৫ সহ ১১টি আসনেই নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। এছাড়াও এই আসনেটিতে বিএনপির সিনিয়র সাবেক (বহিস্কৃত) ও হেভিওয়েট এক নেতা থাকছেন ভোটের মাঠে। ফলেই সকলের ধারনা জমে উঠেতে যাচ্ছে কুমিল্লা ৫ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন।

তবে রাজনৈতিক কৌশলগত কারনে ভোটের মাঠ প্রতিদ্বন্দ্বীতামুলক, উৎসব মুখর ও নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করে তুলতে, দলীয় বিধিনিষেধ শিথিল করেছে দলটি। নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচনে সার্বিক সহায়তার আশ্বাস, মনোনীত ও দলীয় নেতাকর্মীদের স্বতন্ত্র প্রার্থীদের প্রতি আন্তরিক হওয়ার নির্দেশনায় বদলে গেছে ভেটের মাঠের হিসেব নিকেশ। বিগ কয়েকটি নির্বাচনের তুলনায় এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে ভোটের মাঠের w w@পুরোপুরি ভিন্ন। স্বাধীনতার পর থেকেই বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলেই ছিলো আসনটি। দেশের রাজনীতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ গ্রহণ না করলেও, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতায় কেউই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কোন সম্ভবনা এবার যেমন নেই। তেমনি নিজ দলীয় হেভীওয়েট স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিভিন্ন দলের শক্তিশালী প্রার্থীদের সাথে হাড্ডা হাড্ডি ভোটের লড়াই করেই জয়ী হতে হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ বিশ্লেষকগণ সহ সকলেই। সবকিছু ঠিক থাকলে কুমিল্লা ৫ আসনে এবারের নির্বাচনে বহুমুখী লড়াইয়ে প্রার্থীরা তাদের জনপ্রিয়তা গ্রহণযোগ্যতা এবং সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েই ভোটে জয়ী হবে ধারনা সকলের।
ক্ষমতাসীন দলের প্রতীক বরাদ্দের পরপরই কুমিল্লা ৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনে আওয়ামী লীগের একাধিক সিনিয়র, তরুণ, জনপ্রিয় ও অভিজ্ঞরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে আদাজল খেয়ে নেমে পড়েছেন ভোটের মাঠে।
পুনরায় নৌকা প্রতীক নিয়ে বর্তমান এমপি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এ্যাডভোকেট আবুল হাসেম খান আছেন শক্তিশালী অবস্থানে। দলের সিনিয়র নেতাদের অধিকাংশই রয়েছেন তার সাথে।

#সাজ্জাদ হেসেন
আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে পূর্ব থেকে বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ, নেতাকর্মীদের সাথে স্বার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্নয়। নির্বাচনী এলাকার জনসাধারণের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা ও পরিচিতি ধরে রাখার পাশাপাশি, বিরোধীদের মোকাবেলায় রাজপথে সরব অবস্থানে থাকা নেতাদের মাঝে ক্ষমতাসীন দলটির যে ক’জন নেতা রয়েছেন তাদের মাঝে অন্যতম একজন সাজ্জাদ হোসেন। রাজনীতি ও ভোটের মাঠে অভিজ্ঞ খেলোয়ার তিনি। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশের পর নেতৃত্বে নিজের বলিষ্ঠ ভুমিকার করানে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রয়াত এমপি এ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু’র আস্থাভাজন সহচর হিসেবে রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে তরুণ বয়সেই দু’বার ইউপি চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হন। সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে বিশেষ ভুমিকা রেখে দুই উপজেলাতেই গড়ে তুলেছেন বিশাল কর্মী বাহিনী। জেলা ও উপজেলার রাজনীতিতে সরব এই আওয়ামী লীগ নেতা বুড়িচং উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে উপজেলায় শিক্ষার প্রসার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, আধুনিক উপজেলা পরিষদ, জনসেবার পরিধি বৃদ্ধির মাধ্যমে সফল উপজেলা চেয়ারম্যান হিসেবে খ্যতি অর্জন করেন। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে স্রেষ্ঠ উপজেলা চেয়ারম্যানের স্বীকৃতিস্বরুপ প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক পুরস্কৃতও হন। একাধিক স্কুল কলেজ মসজিদ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দলমতের উর্ধে সাধারণ মানুষের কাছে পরিচিত ও প্রিয়মুখ হয়ে উঠেছেন। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে অংশ নিয়ে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত হলেও দলের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন সবসময়। দলীয় মনোনয়ন প্রাপ্তির শতভাগ প্রত্যাশা ছিলোয় ছিলেন তিনি তার নেতাকর্মীরা। দলের মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে অংশ নিতে আগে থেকেই নেতাকর্মীদের অনুরোধ ছিলো। নিজস্ব ও দলীয় নেতাকর্মীদের বিশাল একটি অংশ রয়েছে তার সাথে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ২৭ নভেম্বর সোমবার (নিজ বাড়ি) বাকশীমুল এলাকায়। নির্বাচনী প্রচারণার প্রাথমিক সূচনা সভাটি নেতাকর্মীদের উপস্থিততে বিশাল জনসভায় পরিনত হয়। আর এ থেকে অনেকেরই ধারণা, আটঘাট বেঁধেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী লড়াইয়ে নামছেন ভোটের মাঠে পুরোনো ও অভিজ্ঞ আওয়ামী লীগ নেতা সাজ্জাদ হেসেন। পছন্দের নেতাকে বিজয়ী করতে নেতাকর্মীরাও কোমরে গামছা বেঁধে নামার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেই জানা যায় তাদের সাথে কথা বলে।

#শওকত মাহমুদ
ক্ষমতাসীন দলের আন্তকোন্দল, আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বঞ্চিত হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থীর নির্বাচনে অংশগ্রহণ, নিজ পুরোনো ও প্রধাণ বিরোধী দলের প্রার্থী না থাকা। এই তিন ট্রামকার্ডই নির্বাচনে সফলতা আনতে পারে এমন ধারনা অনেকেরই। এছাড়াও পরিবর্তন প্রত্যাশী ভোটারদের বিষয়টি যুক্ত হচ্ছে সাথে। এসব মিলিয়েই শিকে ছিড়ে পরতে পারে বিএনপির সিনিয়র সাবেক (বহিস্কৃত) ও হেভিওয়েট নেতা শওকত মাহমুদের হাতে। জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও সাংবাদিক নেতা শওকত মাহমুদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহের পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে নির্বাচনী প্রচারণাও চালাচ্ছেন। সবকিছুর হিসেব মিলিয়েই মাঠে নামছেন অভিজ্ঞ এই নেতা ও তার কর্মীরা। তৃণমূল বিএনপি বা কোন রাজনৈতিক দলের নয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করবেন তিনি। দেখে বুঝে ভোটের মাঠে ❝লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড❞ ঠিক থাকলে নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তিনি ও তার সমর্থকরা।

#এহতেশামুল হাসান ভূইয়া রুমী
অপর দিকে ভোটের মাঠে নতুন হলেও আওয়ামীলীগের রাজনৈতিক মহল ও স্থানীয় নির্বাচনী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে জানান দিয়ে কাজ করছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক নেতা এহতেশামুল হাসান ভূঁইয়া রুমি। তিনি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় আওয়ামী যুবলীগের সহ-সম্পাদক। নির্বাচনী এলাকা বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে গ্রামে ঘুরে জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি ও তার কর্মী সমর্থকগণ । দীর্ঘদিন থেকেই নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা পাশাপাশি রাজনৈতিক সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন । দলীয় মনোনয়ন না পেলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে নির্বাচনের মাঠে লড়াইয়ের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলেই জানন তিনি। বিশেষ করে এই আসনের তরুণ ও নবীদের মাঝে ভালোই জনপ্রিয়তা রয়েছে তার। এছাড়া স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু অংশের সমর্থন তো রয়েছেই।

#জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী
প্রথমে ইউপি চেয়ারম্যান পরে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের দুই বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান তিনি। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক এমপি মরহুম মতিন খসরু নিকটতমদের অন্যতম একজন তিনি। বিভিন্ন স্কুল কলেজ মাদ্রাসা মসজিদ নির্মাণ সহ ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নে যথেষ্ট ভুমিকা রয়েছে তার। সুদীর্ঘ ৫৫ বছরের রাজনৈতিক জীবনে নিজের এবং জাতীয় নির্বাচনে দলীয় ভাবে নির্বাচন পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। আওয়ামীলীগের একটি অংশ সেই সাথে স্থানীয় ও নিজস্ব নেতাকর্মীদের সাথে আলোচনা করে তাদের অনুরোধেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তিনিও। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগ উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রবীণ নেতা বীর মুক্তিযুদ্ধা আলহাজ্ব জাহাঙ্গীর খান চৌধুরীর স্থানীয় নিজস্ব একটি ভোট ব্যাংক যেমন আছে তেমনি ভোটের মাঠে নির্বাচনী অভিজ্ঞতা এবং জনপ্রিয়তাও রয়েছে। রাজনীতির মাঠে পুরোনো এই প্লেয়ারও ভোটের খেলায় জয়ী হবেন বলেই আশা তার অনুসারীদের।

#আলহাজ্ব মোহাম্মদ আবু জাহের
কুমিল্লা দঃ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক এবং বর্তমান ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তিনি। বড় ভাই মরহুম (সাবেক) উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহেরের মৃত্যুর পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন আলহাজ্ব আবু জাহের। আওয়ামিলীগের মনোনয়ন না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র সংগ্রহ করেছেন এবং নির্বাচনে প্রার্থীতার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এছাড়াও আরো কয়েকজন নির্বাচন করবেন বলে জানা গেছে। তবে এখনো পর্যন্ত এই আসনে যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়ে মাঠে ময়দানে প্রচারণা চালাচ্ছেন এবং শেষ পর্যন্ত মাঠে থাকবেন ভোটের আসল লড়াইটা হবে তাদের মধ্যেই। নির্বাচনে অংশ গ্রহনের ঘোষণা দেয়া প্রার্থীদের সাথে মুঠোফোনে কথা বলে জানা গেছে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ নির্বাচনের পরিবেশ, প্রার্থী ও সমর্থক নেতাকর্মীদের নিরাপত্তা, এবং ভোটের মাঠে নিরপেক্ষতা নিশ্চিত ও আশ্বস্ত হওয়া গেলে জয় পরাজয় যাই হোক ভোট গ্রহণ, গননা ও ফলাফল ঘোষণা পর্যন্ত উল্লেখিত সকলে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে থাকবেন।

#জাহাঙ্গীর আলম
জাতীয় পার্টি থেকে মনোনীত প্রার্থী তিনি। এলাকায় খুব বেশী পরিচিতি না থাকলেও দলীয় মনোনয়নে লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে থাকছেন তিনি। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৮৯টিতে প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি। সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয় মিলনায়তনে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন পার্টির মহাসচিব মো. মুজিবুল হক চুন্নু। কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসন থেকে জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন (লাঙ্গল) পেয়েছেন ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম।

জেলা নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদীয় আসন নং- ২৫৩ কুমিল্লা – ৫ (বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া) আসনটিতে দুটি উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৭৫১ জন, এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ২৪ হাজার ৩৭৬ জন এবং নারী ২ লাখ ১০ হাজার ১০৭ জন।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, আগামী ৭ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগামী ৩০ নভেম্বর।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

×