শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

নাম সর্বস্ব জাতীয় পার্টি, গোপনে জামায়াত আ’লীগ-বিএনপি দুই দলেই কোন্দল

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী : প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২২, ৫:৩৮ পিএম
নাম সর্বস্ব জাতীয় পার্টি, গোপনে জামায়াত আ’লীগ-বিএনপি দুই দলেই কোন্দল
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেশের অন্যতম প্রাচীন জেলা কুমিল্লা। একটি মহানগর, ৮টি পৌরসভা, ১৭টি উপজেলা, একটি থানা নিয়ে গঠিত। রাজনৈতিকভাবে কুমিল্লা উত্তর ও দক্ষিণ জেলায় বিভক্ত। সংসদীয় আসন রয়েছে ১১ টি। উত্তরে ৫ টি ও দক্ষিনে রয়েছে ৬ টি করে আসন। উত্তর দক্ষিনের পাশাপাশি রয়েছে মহানগরী কমিটি। জোটের রাজনীতির কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচনে আ’লীগ কুমিল্লায় বরুড়া ও হোমনা-তিতাস নির্বাচন আসন দু’টি আ’লীগ জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় ক্ষমতার স্বাদ পেয়েছিল জাতীয় পার্টি। তবে ২০১৮ সালের নির্বাচনে আ’লীগ কুমিল্লার সবকটি আসনেই বিজয়ী হয়। ফলে পুরো জেলাজুড়ে আওয়ামী লীগের প্রায় সবাই ক্ষমতা নিয়ে ব্যস্ত। বিশেষ বিশেষ দিন বা নেতাদের সাংগঠনিক অবস্থা জানান দিতে দলীয় অফিস বা অন্য কোথাও নেতা-কর্মীদের ভীড় দেখা যায়। তাও এক গ্রæপ সকালে করলে অন্য গ্রæপ কর্মসূচী করেন দুপুরে বা বিকেলে। কুমিল্লার রাজনীতি বলতে দক্ষিণ জেলার রাজনীতিকে বোঝায়। এখানেই রয়েছে মহানগরীসহ জেলার সকল অফিস আদালত। এইখানে বিগত সময়ে কুমিল্লা আদর্শ সদর আসনের বর্তমান সাংসদ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সাথে সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক এড অধ্যক্ষ আফজল খান এর দ্বন্ধ ছিল আ’লীগে। ২০১১ সালে কুমিল্লা মহানগরীতে উন্নীত হলে জেলার পাশাপাশি মহানগরীতে এই গ্রæপিং ছড়িয়ে পড়ে। এই গ্রæপিংয়ে বলির পাঠা বিগত সিটিকরপোরেশনের মেয়র পদে দু’দুটি নির্বাচনে আফজল খান ও তার কন্যা আঞ্জুম সুলতানা সীমার পরাজয়। এছাড়াও মন্ত্রীত্ব পেয়ে সুযোগ বুঝে সাবেক রেলপথ মন্ত্রী মুজিবুল হক ও বর্তমান অর্থ মন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল নিয়ে নেয় দক্ষিণ জেলার রাজনীতি আর সদর আসনের এমপি অর্থাৎ আফজল খানের প্রতিপক্ষ আ ক ম বাহার নিয়ে নেয় মহানগরীর দায়িত্ব। ফলে এমুহুর্তে দক্ষিণ জেলার নিয়ন্ত্রণ আ হ ম মোস্তফা কামাল ও মুজিবুল হকের নেতৃত্বে আর মহানগরীর দায়িত্ব এককভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন বাহার। এঅবস্থায় এই অংশের এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা চেয়ারম্যানসহ দলের বিভিন্ন অংগসংগঠনের নেতারা দু’পক্ষের অনুসারী হয়ে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। ফলে স্বস্তিতে নেই দলের সাধারন নেতা-কর্মীরা। আর বিএনপি’র কোন সাংগঠনিক কাজ নেই বললেই চলে দক্ষিণ জেলায়। মাঝে মাঝে অংগসংগঠনের নেতারা দলীয় বিভিন্ন কর্মসূচি পালনে মাঠে নামলেও পুলিশী বাধাঁয় সুবিধা করতে পারছেনা। দলের প্রভাবশালী এক নেতা সিটি করপোরেশনের মেয়র হয়ে সদর আসনের এমপি’র সমঝোতা করে চলছেন। অভিযোগ রয়েছে দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ক্ষমতাসীন দলের সাথে গোপন সমঝোতায় দিন পার করছেন। বর্তমানে জেলার কোনো আসনে সংসদ সদস্য না থাকায় জাতীয় পার্টির কোন কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এদিকে জামায়াত গোপনে চালাচ্ছে তাদেও সাংগঠনিক কার্যক্রম।
আওয়ামী লীগ :
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার আ’লীগের রাজনীতিতে এখন শুধু ক্ষমতা আর পদের দীর্ঘ নাম। যে যেভাবে পারছে শুধু ক্ষমতার ভাগ নিয়ে ব্যস্ত। দায়িত্বশীল সুত্র নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, সিটিকরপোরেশনের যাবতীয় উন্নয়নমুলক কাজের নিয়ন্ত্রণ সদর আসনের এমপি’র ইশারায়। আর বাকী সংসদীয় আসনে সংশ্লিষ্ট এলাকার এমপিদের প্রভাব। নেতাদের আবার নিজেদের পছন্দের বাইরে কোন অর্থনৈতিক কাজে দলীয় ত্যাগী নেতাদের অংশগ্রহনের কোন সুযোগ নাই। ফলে দলীয় কর্মকান্ড থেকেই অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে বর্তমানে দলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে সাধারন নেতা-কর্মীদের জড়ো করতে অনেকটা চাপ প্রয়োগ করতে হচ্ছে। হয়রানীর ভয়ে সাধারন নেতা-কর্মী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেনা। তারা মনে করেন, দলকে দেওয়ার মতো সময় নেই অনেক নেতার। তারা ব্যস্ত নিজেদের আখেড় গোছাতে। ফলে অনেকেই দলীয় কর্মকান্ড থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। বিশেষ দিবস ছাড়া সাধারণত দলীয় অফিসের তালা খোলা হয় না। তবে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এ এস এম কামরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের সভাপতি অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও সাধারণ সম্পাদক সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক মুজিবের নেতৃত্বে দলীয় কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে চলছে। আমাদের এখানে কোনো সাংগঠনিক স্থবিরতা নেই। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা-কর্মী জানান, জাতীয় দিবস বিশেষ করে স্বাধীনতা বা বিজয় দিবসে দক্ষিণ জেলা অফিসে দক্ষিণ জেলা নেতৃবৃন্দ অপেক্ষায় থাকেন কখন সদর আসনের এমপি অনুষ্ঠান শেষ করে সভাস্থল ত্যাগ করবেন। এছাড়াও একুশে ফেব্রæয়ারী, স্বাধীনতা ও বিজয় দিবসে টাউনহল শহীদ মিনারের বেদীতে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় ফুল দিতে আসলেও এমপি’র পরে তাদের ফুল দিতে দেখা যায়। এতে সাধারন নেতা-কর্মীর পাশাপাশি সাধারন মানুষের মনেও কুমিল্লার আ’লীগের বিরোধ চিত্র ফুটে উঠে। বর্তমানে মহানগরীর সভাপতি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এবং দক্ষিণ জেলার রাজনীতিতে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক পদে যথাক্রমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামাল ও মুজিবুল হক। আর আ হ ম মোস্তফা কামাল ও মুজিবুল হকের রাজনৈতিক কুট চালে এক সময়ের প্রভাবশালী নেতা সাবেক সাধারন সম্পাদক ও ১৪ দলের সমন্বয়ক অধ্যক্ষ এড আফজল খান এখন দক্ষিণ জেলার রাজনীতিতে পদশূন্য।
কুমিল্লা সদর আসনে দলীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও প্রবীণ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের ঐতিহ্যবাহী কোন্দল এখনো অব্যাহত। এমপি বাহার মহানগরী আওয়ামী লীগের সভাপতি। আর একই কমিটির সহসভাপতি অধ্যক্ষ আফজল খানের মেয়ে বর্তমানে সংরক্ষিত আসনের এমপি আঞ্জুম সুলতানা সীমা। ফলে দলীয়, জাতীয় ও স্থানীয় সকল কর্মসুচি দুই গ্রæপ মহানগরী আওয়ামী লীগের ব্যানারে পরিচালনা করে পৃথকভাবে। কেউ অনুষ্ঠান করে টাউন হলে, কেউ মডার্ন কমিউনিটি সেন্টারে। বিগত এক দশকের আ’লীগের ক্ষমতাসীন সময়ে শুধুমাত্র গত ১৫ আগষ্ট জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের ঐকান্তিক চেষ্টায় কুমিল্লা মহানগর আ’লীগ যে মিছিল করেছিল সেটাতে আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও আঞ্জুম সুলতানা সীমাকে দু’পাশে রেখে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার অংশ নেয়। এরবাইরে দু’গ্রæপের অংশগ্রহনে একসাথে কোন অনুষ্ঠান করার নজির নেই।
উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ দীর্ঘ তিন দশকেও একটি দলীয় কার্যালয় তৈরি করতে পারেনি। চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়কে তারা ব্যবহার করছে। এই জেলায় সবসময় মুরাদনগরের আ’লীগ নেতা জাহাঙ্গীর আলম সরকার একক আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করে আসছেন। বর্তমানে তিনি উত্তর জেলা আ’লীগের সাধারন সম্পাদক পদে রয়েছেন। আর এই অংশের অন্যান্য সাংসদরা সেটা পছন্দ না করায় দলীয় কর্মসূচীতে বিভিন্ন পদের নেতারা অংশ নিলেও সংসদ সদস্যরা যার যার নির্বাচনী এলাকায় দলীয় কর্মসূচী নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। জেলা সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকার বলেন, আমরা শিগগিরই সাংগঠনিক কার্যক্রম নিয়ে মাঠে নামব। দলীয় কার্যালয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, তাদের দলীয় কার্যালয় রয়েছে।
বিএনপি :
কুমিল্লায় প্রয়াত আকবর হোসেনের মৃত্যুর পর থেকেই দলীয় গ্রæপিং শুরু। যা এখন অনেকটা প্রকট। এক পক্ষে রয়েছেন সাবেক এমপি রাবেয়া চৌধুরী সমর্থিত অংশ অন্য গ্রæপে সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কু। মনিরুল হক সাক্কু সদর আসনের আ’লীগ এমপি’র সাথে সমঝোতার রাজনীতির কারণে রাবেয়া গ্রæপের নেতা-কর্মীর কোন রাজনৈতিক কর্মসূচীতে মাঠে নামতে না পারলেও সাক্কু সমর্থিতরা ঠিকই দলীয় কর্মসূচী পালনে মাঠে নামছে অনেকটা পুলিশী বাধা ছাড়াই। এছাড়াও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র সাধারন সম্পাদকও অনেকটা কোনঠাসা সাক্কু’র আ’লীগ এমপি’র সমঝোতার রাজনীতির কারণে। বিএনপির দাবি, এরবাইরে সরকারের হামলা-মামলা-নির্যাতনের কারণেও তারা ঠিকমতো মাঠে নামতে পারছেন না। এরবাইরে সভাপতি রাবেয়া চৌধুরী বয়সের ভারে ন্যুব্জ। তিনি কোনো কর্মসূচিতে আসতে পারেন না। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক হাজী আমিন-উর রশিদ ইয়াছিন ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র মনিরুল হক সাক্কুর মধ্যে দলাদলি দীর্ঘদিনের দলাদলীতে দলীয় কোন কর্মসূচী পালন বা সিদ্ধান্ত নিতেও পারছেনা দল। আর অভিযোগ রয়েছে দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাক মিয়া ক্ষমতাসীন দলের সাথে ব্যালান্স করে দিন পার করছেন। এছাড়াও দলের মহানগরী কমিটির কতৃর্ত্ব নিয়েও সাক্কু ইয়াসিন দু’পক্ষের মাঝে বিরোধ চরমে। নগরীর ভিক্টোরিয়া কলেজ রোডে বিএনপি’র দলীয় কার্যালয় এখন সাক্কু সমর্থিতদের দখলে। অন্যদিকে রাবেয়া চৌধুরী ও হাজী ইয়াছিন সমর্থিত দক্ষিণ জেলা সভাপতি-সাধারন সম্পাদক সমর্থিতরা ধর্মসাগর দক্ষিণ পাড়ে ইয়াছিনের ব্যক্তিগত জায়গায় গড়ে উঠা অফিসে অনেকটা লোকচক্ষুর আড়ালে জাতীয় ও দলীয় কর্মসূচি পালন করেন। কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক মিয়া বলেন, সরকারের মামলা-নির্যাতনের কারণে বিএনপি নেতা-কর্মীরা ঠিকমতো মাঠে নামতে পারছেন না। এজন্য কিছুটা স্থবির মনে হচ্ছে। তবে আমরা আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। কুমিল্লা উত্তর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। আগে দলের কেন্দ্রীয় প্রভাবশালী নেতা ও হোমনা-তিতাসের সাংসদ এম কে আনোয়ার, দাউদকান্দি-মেঘনার সাংসদ ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মুরাদনগরের কায়কোবাদ, দেবিদ্বারে মঞ্জুরুল আহসান মুন্সিসহ প্রমুখ নেতাদের দাপটে এমনিতেই সবসময় নেতা-কর্মীরা উজ্জীবিত ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এম কে আনোয়ারের মৃত্যুসহ সরকার দলীয় হামলা-মামলায় উত্তর জেলার রাজনীতিতে দলীয় কর্মসূচি অনেকটা স্থবির হয়ে পড়েছে। এছাড়াও উত্তর জেলা বিএনপি’র সভাপতি পদে চান্দিনার খোরশেদ আলমের মৃত্যু পরবর্তী দলীয় কার্যক্রম একেবারেই শূন্য হয়ে পড়েছে। বর্তমানে উত্তর জেলায় বিএনপি’র রাজনীতিতে চলছে পদ নিয়ে বসে থাকা। যারা এমপি প্রার্থী হন তাদের লোকজনকে এসব পদ দেওয়া হয়। বর্তমানে উত্তর জেলা সভাপতি দেবিদ্বারের সাবেক এমপি মনজুরুল আহসান মুন্সীর স্ত্রী সহসভাপতি, তার ছেলে এক নম্বর যুগ্মসম্পাদক। আরেক সহসভাপতি বিদেশে থাকেন। মন্জুরুল আহসান মুন্সী অভিযোগের বিষয়ে বলেন, যিনি নির্বাচন করবেন তার পছন্দের লোক কমিটিতে থাকবে, এটাই স্বাভাবিক।
জাতীয় পার্টি :
জেলায় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক কার্যক্রম নেই বললেই চলে। এখানে জাতীয় পার্টির সংরক্ষিত এমপি অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান। তিনি গোমতীর প্রতিরক্ষা বাধেঁর ভিতর বেশ কটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা করেছেন। আর এসব নিয়ে তিনি ব্যস্ত থাকেন। এর বাইরে গত সংসদ নির্বাচনের আগে কুমিল্লা বরুড়া আসনের এমপি অধ্যাপক মিলনের তৎপরতায় মাঝে মাঝে কিছু কর্মসূচি পালন হলেও বর্তমানে তিনি সংসদ সদস্য পদে পরাজিত হওয়ার পর অনেকটা সরে দাড়িয়েছেন দলীয় কর্মসূচি থেকে। মহানগরী সভাপতি সালামত আলী খান বাচ্চু বলেন, জেলায় জাতীয় পার্টির মোটামুটি কার্যক্রম রয়েছে।

জামায়াত :
কুমিল্লায় সবসময় জামায়াতের একটা শক্ত অবস্থান ছিল। ৪ দলীয় জোটের সময় বিএনপিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম আসনটি ছেড়ে দিতে হতো। এছাড়াও বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া, লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসন নিয়েও বিএনপি’র সাথে দরকষাকষি করতো। তবে বর্তমানে সরকারের কঠোরনীতির কারণে জামায়াতের প্রকাশ্যে কোন কার্যক্রম নেই পুরো জেলায়। এমনকি রমজানেসর ইফতার মাহফিলের নামে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশী বাধাঁর সম্মুখিন হতে হচ্ছে। ফলে কারো মৃত্যু সংবাদে জানাযা, মিলাদ-মাহফিল, বিবাহসহ অন্যান্য সামাজিক অনুষ্ঠানে তারা কৌশলে সংগঠিত হতে চেষ্টা করে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা ফেসবুকে নেতা-কর্মীরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন বলে দায়িত্বশীল নির্ভরযোগ্য সুত্র জানায়। এদিকে জেলায় আ’লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতের বাইরে জাসদ, সিপিপি, ন্যাপ, কমিউনিষ্ট, সাম্যবাদী দল, গণআজাদী লীগ ও মজদুর পার্টির চরমোনাইসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বিশেষ বিশেষ কর্মসূচি ছাড়া দলীয় বা সাংগঠনিক তৎপরতা চোঁখে পড়েনা।

 

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ইং প্রকাশিত।

মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লা মনোহরগন্জ, প্রতিনিধি ইমরান প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫৯ পিএম
মনোহরগঞ্জে নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানের সাথে উপজেলা বিএনপি নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রিফাত জাহানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি আলহাজ্ব ইলিয়াস পাটোয়ারী এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক সরওয়ার জাহান ভূঁইয়া দোলনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল আজ ইউএনও কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।

সাক্ষাৎকালে বিএনপি নেতৃবৃন্দ নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে মনোহরগঞ্জে স্বাগতম ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে তাঁরা উপজেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং সাধারণ মানুষের সেবাপ্রাপ্তি সুনিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের সাথে সার্বিক সহযোগিতা ও একসাথে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

নবাগত ইউএনও রিফাত জাহানও উপস্থিত নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানান এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা কামনা করেন।

সাক্ষাৎকালে উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের স্থানীয় শীর্ষপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম
চৌদ্দগ্রামে প্রশাসনের উদ্যোগে সহস্রাধিক শিক্ষার্থীর মাঝে চারাগাছ বিতরণ

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী সবুজ বাংলাদেশ বিনির্মাণে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন’ কর্মসূচির আওতায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৌরসভাধিন বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহস্রাধিক শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে চারাগাছ পেয়ে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দিত। এ সময় তারা এমন মহতি উদ্যোগের জন্য উপজেলা প্রশাসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (০৮ সেপ্টেম্বর) বিকালে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ও পৌর প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক মো. শাহাদাৎ হোসেন।

শিক্ষার্থীদের মাঝে চারাগাছ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মু. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মু. বেলাল হোসাইন, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহআলম রাজু, পৌর বিএনপি’র সভাপতি জিএম তাহের পলাশী, উপজেলা কৃষি অফিসার মো. জোবায়ের আহমেদ, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ কে এম মীর হোসেন, চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম ফরায়েজী, উপজেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক মো. গিয়াস উদ্দিন, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, উপজেলা বিএনপি নেতা মো. খোরশেদ আলম, কবি মো. জসিম উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম এইচ জে সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রূপম সেনগুপ্ত, পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জামাল হোসেন।

এ সময় চৌদ্দগ্রাম উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২০ এএম
৩০ দিন পেরোলেই শেষ! শেখ হাসিনা-আবুল কালাম আজাদের আপিল নিয়ে যা বললেন চিফ প্রসিকিউটর

Oplus_131072

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে কোনো দণ্ডিত ব্যক্তি রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল না করলে পরবর্তীতে আর আপিলের সুযোগ থাকে না বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আইন সবার জন্য সমান। পলাতক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ হোক কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময়সীমা পার হয়ে গেলে আপিলের সুযোগ নেই।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর।

৩০ দিনের বিধান সবার জন্য

মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল। তবে তিনি দীর্ঘদিন দেশে ছিলেন না এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিলও করেননি।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারায় বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে আপিল করা না হলে পরবর্তীতে তা আর গ্রহণযোগ্য হবে না।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই বিধান সবার ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য। কোনো ব্যক্তি পলাতক থাকুন কিংবা কারাগারে থাকুন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যেই তাকে আপিল দায়ের করতে হবে।

ফলে এই নিয়ম শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে যেমন প্রযোজ্য, একইভাবে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানান তিনি।

আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও গ্রহণ হয়নি

আমিনুল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের মামলা নিয়ে শুনানি হয়েছে। ওই সময় প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি সংশ্লিষ্ট আইন আদালতের সামনে তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল এখনও আপিল বিভাগ গ্রহণ করেনি। সেক্ষেত্রে আপিল বিভাগের সামনে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং নেই।

চিফ প্রসিকিউটরের ধারণা, আবুল কালাম আজাদের আইনজীবীরাও আইনগত বিষয়টি সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে সক্ষম হয়েছেন। এ কারণেই এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরবর্তী পদক্ষেপ তারা আর নেননি।

সাজা স্থগিত করতে পারে সরকার

সরকার যেকোনো সাজা স্থগিত করতে পারে উল্লেখ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে কোনো ব্যক্তি আপিল না করলে অন্য কোনো ফোরামেও তার আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সুযোগ থাকে না।

তার মতে, ট্রাইব্যুনালে হওয়া রায়ের পর ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে সেটি বাস্তবায়ন করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।

তবে যেকোনো সাজা স্থগিত করার সরকারের অন্তর্নিহিত বা সহজাত ক্ষমতা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকার চাইলে কারও ক্ষেত্রে এই ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সরকারের সিদ্ধান্ত।

গুমের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত

এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের কোনো অসংগতি হবে না বলেও জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর।

তিনি বলেন, গুমের সব অভিযোগ ও রিপোর্ট যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×