রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অত্যধিক ব্যয়বহুল কি

অনলাইন ডেস্ক : প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২২, ৫:৫২ পিএম
প্রতিবেশী ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ অত্যধিক ব্যয়বহুল কি
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নানা ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব করার লক্ষ্যই মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ কমানো। তবে এসব কেন্দ্র নির্মাণে খরচ কম নয়, বরং বেড়েই চলেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই প্রযুক্তি ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে যে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার চেয়ে দুই-তিন গুণ অর্থ ব্যয় হচ্ছে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের এ খরচ সামগ্রিকভাবে উৎপাদন ব্যয়ে যুক্ত হওয়ায় তার প্রভাব পড়ছে বিদ্যুতের দামে।

জ্বালানিসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পেছনে চড়া মূল্যে জমি অধিগ্রহণ, প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো, উচ্চমূল্যে প্রকল্পের কেনাকাটা ও দুর্নীতিই বড় কারণ। এসব খরচ সংশ্লিষ্ট কোম্পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ে যুক্ত করে তা উঠিয়ে নেয়।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে মূলধনি ব্যয়ের ওপর ২০১৮ সালে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘স্প্রিঙ্গার’-এ একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়েছে। ‘করাপশন সিগনিফিক্যান্টলি ইনক্রিজেস দ্য ক্যাপিটাল কস্ট অব পাওয়ার প্লান্ট ইন ডেভেলপিং কনটেক্সট’শীর্ষক গবেষণাটি করেন যুক্তরাজ্যের কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির দুজন বাংলাদেশী গবেষক—কুমার বিশ্বজিৎ দেবনাথ ও মনজুর মোর্শেদ।

ওই গবেষণায় বিভিন্ন ধরনের জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতি কিলোওয়াট ক্যাপিটাল কস্টের (মূলধনি ব্যয়) হিসাব তুলে ধরা হয়। সেখানে দেখা যায়, ২০১৫ সালে বাংলাদেশে রাষ্ট্রায়ত্ত কয়লাভিত্তিক সাবক্রিটিক্যাল বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে প্রতি কিলোওয়াটে ব্যয় ১ হাজার ৫৮৪ ডলার, আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির ব্যয় ৩ হাজার ৩৪৩, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় ১ হাজার ১৭৭ এবং গ্যাস ও তেলচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় ১ হাজার ১৬৪ ডলার। এছাড়া পরমাণু প্রযুক্তির বিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৬২৫ ডলার।

ওই গবেষণায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কিলোওয়াটপ্রতি ব্যয়ের একটি হিসাব প্রকাশিত হয়। সেখানে দেখা গেছে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় কেন্দ্রভেদে কিলোওয়াটপ্রতি ৫০০ থেকে ৪ হাজার ডলার পর্যন্ত বেশি। ধরনভেদে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে এ ব্যয় তিন গুণ পর্যন্ত বেশি।

অন্যদিকে ভারতের বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয় থেকে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বিষয়ে প্রাপ্ত তথ্যে কিলোওয়াটপ্রতি বিনিয়োগ ব্যয় বিশ্লেষণ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।

জ্বালানিভিত্তিক অন্তত তিন ধরনের বিদ্যুৎ প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি বছর ভারতে প্রতি কিলোওয়াট কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে বিনিয়োগ ব্যয় ১ হাজার ৫৬ ডলার, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৬২৫ ও পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১ হাজার ৬২৫ ডলার।

বিপরীতে বাংলাদেশে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কিলোওয়াটপ্রতি প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৭২০ ডলার (সাবক্রিটিক্যাল), আল্ট্রা-সুপারক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৩ হাজার ৭২০, গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে শুধু গ্যাসচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ১ হাজার ৩৬০ এবং গ্যাস ও তেলচালিত বিদ্যুৎ প্রকল্পে ১ হাজার ৩২৫ ও পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে ৫ হাজার ৮৩০ ডলার।

পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কিলোওয়াটপ্রতি ব্যয়ের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে নিউক্লিয়ার এনার্জি এজেন্সি (এনইএ)। ২০২০ সালে প্রকাশিত ‘প্রজেক্টেড কস্টস অব জেনারেশন ইলেকট্রিসিটি’ শীর্ষক ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এশিয়ার দেশ চীনে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে কিলোওয়াটপ্রতি ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ২ হাজার ৫০০ ডলার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় ২ হাজার ১৫৭ ডলার।

বাংলাদেশ ও ভারতে নির্মাণাধীন দুটি পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রের কিলোওয়াটপ্রতি ব্যয়ের একটি প্রতিবেদন গত ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত হয় স্প্রিঙ্গারে। ওই প্রতিবেদনে বাংলাদেশ ও ভারতের বিদ্যুৎকেন্দ্র দুটির নির্মাণ ও উৎপাদনসংক্রান্ত যাবতীয় ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেছে বাংলাদেশের নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় ও যুক্তরাজ্যের বোর্নমাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন গবেষক। আন্তর্জাতিক জার্নাল স্প্রিঙ্গারে প্রকাশিত এ প্রতিবেদনে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ ৭৫ শতাংশ বেশি পড়বে বলে উল্লেখ করেন ওই গবেষকরা।

ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টায় উৎপাদন ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ দশমিক ৩৬ সেন্ট, যেখানে কুদানকুলামে নির্মাণাধীন তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিটের ক্ষেত্রে তা ৫ দশমিক ৩৬ সেন্ট। সে হিসেবে রূপপুরে প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় হচ্ছে কুদানকুলামের চেয়ে প্রায় ৭৫ শতাংশ বেশি। বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ ও গড় উৎপাদন হিসাব করে ইউনিটপ্রতি এ উৎপাদন ব্যয় (লেভেলাইজড কস্ট অব এনার্জি বা এলসিওই) বের করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, রূপপুরে নির্মাণ হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের তিরুনেলভেলি জেলায় নির্মাণ হচ্ছে কুদানকুলাম নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট। দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছে রুশ প্রতিষ্ঠান রোসাটমের শতভাগ মালিকানাধীন সাবসিডিয়ারি অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট।

বিদ্যুতের নীতি ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠান পাওয়ার সেল বলছে, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ভারত ও বাংলাদেশে বেশকিছু ফ্যাক্টর কাজ করে, বিশেষ করে দেশটির জমি ক্রয় ও উন্নয়ন ব্যয় বাংলাদেশের চেয়ে অনেক কম।

সংস্থাটির মহাপরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হোসাইন বণিক বার্তাকে বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে ব্যয় বেশি হয় প্রথমত, জমি কেনার ক্ষেত্রে এবং তা উন্নয়নে। কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে জমি অধিগ্রহণ করতে হলে তার মূল্য ভারতের তুলনায় দুই-তিন গুণ দামে কিনতে হয়। এছাড়া ভারতে নিজস্ব গ্যাস, কয়লা থাকায় সামগ্রিকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয় কম হয়।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের মূলধনি ব্যয় মূলত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরির প্রাথমিক বিনিয়োগ, কেন্দ্রের নকশা, মেশিনারিজ, পরামর্শক ব্যয়, ভূমি উন্নয়ন, রাস্তা, অবকাঠামো নির্মাণসহ আনুষঙ্গিক ব্যয়। অর্থাৎ বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কমিশনিং হওয়ার আগ পর্যন্ত যত ধরনের ব্যয় থাকে তার সবই মূলধনি ব্যয়ের অন্তর্ভুক্ত।

পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমতুল্লাহ বলছেন ভিন্ন কথা। তিনি মনে করেন, ভারতের চেয়ে বাংলাদেশে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় বেশি হওয়ার পেছনে কারণ মূলত দুর্নীতি। বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে নানা ধরনের প্রযুক্তির দোহাই দিয়ে ব্যয় বৃদ্ধি দেখিয়ে এ খাতে আর্থিক খরচ বাড়ানো হচ্ছে। ভারতের চেয়ে বিদ্যুৎ প্রকল্পে বাংলাদেশের আড়াই-তিন গুণ খরচ বেশি। বাংলাদেশে খরচ বাড়িয়ে এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও তার আর্থিক সুফলকে চ্যালেঞ্জে ফেলে দেবে।

এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৫০ পিএম
এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে জনগণের সাথে প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতায় এসেছে : ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভাঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের চৌদ্দগ্রাম পথসভায়ডা. শফিকুর রহমান

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, এই সরকার ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় আসার পর তারা প্রথমে জুলাই সনদের সাথে অর্থাৎ দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া গণভোটের সাথে বেঈমানি করেছে। যেই জুলাই সনদকে সামনে রেখে তারা নির্বাচনের পূর্বে জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছে, আজকে তারাই সেই জুলাই সনদকে অস্বীকার করছে। দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, জ্বালানী তেল নেই, দ্রব্যমূল্যের উর্দ্ধগতি ও আইন শৃঙ্খলার চরম অবনতি। চারদিকে শুধু নেই আর নেই শব্দ। তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফিরে বলেছিলেন আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান। তাহলে কি মাত্র ছয়মাসেই উনার প্ল্যান শেষ হয়ে গেছে? উনি এখন বিরোধী দলের কাছে প্ল্যান চায়। আমরা তাকে বিদ্যুৎ নিয়ে একটি প্ল্যান দিয়েছি, সেই প্ল্যান শোনার পর আর কোন কথা নাই। বিদ্যুৎ নিয়ে কোনো সুফলও দেখাতে পারছেনা বর্তমান সরকার।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যদি আপনার প্ল্যান শেষ হয়ে যায় তাহলে জনগণের কাছে স্যারেন্ডার করুন। অন্যথায় আমরা জনগণের দায়িত্ব নিয়ে সকল কিছু পালন করবো।

তিনি শনিবার ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি কুমিল্লার দাউদকান্দি ও পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে দুটি পৃথক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন।

সরকারকে গালি দিয়ে গ্রেফতার হওয়া সিফাত আব্দুল্লাহর প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এই ছেলেটি পড়ার টেবিলে বসেছিলেন। হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলো, দীর্ঘক্ষণ ধরে বিদ্যুৎ আর আসছিলো না। গরমে শরীর থেকে ঘাম ঝরঝর করে পড়ছিলো। রাগে ক্ষোভে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারকে অশালীন ভাষায় গালাগাল করে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেছিলেন। আমরা তার করা এসব অশালীন গালমন্দকে কখনোই সমর্থন করি না। কিন্তু তাকে গ্রেফতারের পর দলীয় সন্ত্রাসীরা সিফাত আব্দুল্লাহকে ব্যাপক প্রহার করেছিলেন। পরে তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে মামলা দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক।

জামায়াতে ইসলামীর আমীর সরকারের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন রেখে বলেন, সিফাত আব্দুল্লাহর হাতে কি কোন অস্ত্র ছিলো? কুড়াল ছিলো? দা ছিলো? পিস্তল ছিলো? যদি নাই বা থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কেন সন্ত্রাস বিরোধী মামলা দেওয়া হয়েছে। এর জবাব সরকারকে দিতে হবে। তিনি আরো বলেন, আমরাও তো সরকারের বিরোধীতা করে থাকি। আপনার যদি সাহস থাকে তাহলে যারা জুলাই যোদ্ধাদের হত্যা করেছে, পিলখানায় আমার দেশের দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারদেরকে হত্যা করেছে, শাপলা চত্ত্বরে নিরীহ মানুষদের হত্যা করেছে তাদের বিচার করুন। বিনিময়ে যদি কাউকে জেলে নিতে হয়, তাহলে প্রথমে আমাকে জেলে নিয়ে যান। তারপরও এই সকল হত্যাকারীদের বিচারের মুখোমুখি করুন।

জামায়াতের আমীর সরকারকে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, আপনি ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে ক্ষমতায় এসেছেন। তারপরও আমরা দেশ ও জনগণের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছি। নির্বাচনের আগে আপনারা জনগণকে বিভিন্ন ওয়াদা দিয়েছেন। সেই ওয়াদা পূরণ করুন। আমরা সংসদে বিরোধী দলের ৯০ জন সংসদ সদস্য রয়েছি এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধি হয়ে। অবিলম্বে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন। অন্যথায় ৬ দফা আন্দোলন ১ দফায় পরিণত হবে।

পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমীর, জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন, এলডিপি চেয়ারম্যান কর্ণেল অলি আহমেদ বীর বিক্রম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া মোহাম্মদ গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি আবুল হাসানাত মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, এটিএম মাছুম, ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য ড. মোবারক হোসেন, ইয়াছিন আরাফাত, জামায়াত নেতা ড. ফয়জুল হক।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) এর চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি, যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আকরাম হোসেন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান।

উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন এর সঞ্চালনায় এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমীর ভিপি মুহাম্মদ সাহাব উদ্দিন, নাঙ্গলকোট উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, উপজেলা খেলাফত মজলিসের সভাপতি মাওলানা মো. শাহজালাল।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা মোস্তাফিজুর রহমান তুষার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মো. জয়নাল আবেদীন পাটোয়ারী, ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকী, পৌর জামায়াতের নায়েবে আমীর কাজী মুহাম্মদ ইয়াছিন মজুমদার, সেক্রেটারি মো. মোশাররফ হোসেন ওপেল, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবুল কাশেম, মো. আবুল খায়ের, মো. ইকবাল হোসেন মজুমদার, উপজেলা জামায়াতের সাবেক সেক্রেটারি শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, উপজেলা এনসিপি নেতা মো. মামুন মজুমদার, জামায়াতের যুব বিভাগের দায়িত্বশীল রেজাউল করিম শামীম, আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ মাসুম, জেলা শিবির নেতা মো. মোজাম্মেল হক সহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম
চৌদ্দগ্রামে মহাসড়কে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় দিনমজুর সহ নিহত ২

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে দিনমজুর আবুল হাশেম ও বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে গিয়ে যুবক আবদুর রহমান সহ দুইজন নিহত হয়েছে। নিহতরা হলো: উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের কোমাল্লা গ্রামের মৃত হারুন মিয়ার ছেলে আবুল হাশেম (৬০) ও পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডের বৈদ্দ্যেরখিল গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে মো. আব্দুর রহমান (২২)। পৃথক ঘটনা দু’টি ঘটেছে শনিবার সকালে উপজেলা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে ও বাতিসা বৈদ্দ্যের বাজার নামক এলাকায়। বিকালে তথ্যটি নিশ্চিত করেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহাম্মেদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হয়ে মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ পাইলট বালিকা বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে রাস্তা পাড়াপারের সময় দিনমজুর আবুল হাশেমকে অজ্ঞাতনামা গাড়ি ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। তাৎক্ষনিক স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হাসপাতালের কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবুল হাশেমের স্ত্রী শাহেনা বেগম জানান, তার স্বামী একজন দিনমজুর। শনিবার সকালে কাজের সন্ধ্যানে বাড়ী থেকে বের হন। তিনি সরকারি হাসপাতালের দক্ষিণ পাশ^বর্তী স্থানে মহাসড়ক পার হওয়ার সময় অজ্ঞাতনামা গাড়ী তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে আমরা আজ পথের পথিক।

অপরদিকে একইদিন বেলা ১২টায় উপজেলার ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাতিসা বৈদ্দ্যেরবাজার এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে বন্ধুর সাথে ঘুরতে গিয়ে দুর্ঘটনায় আব্দুর রহমান নামের এক যুবক গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানকার কতর্ব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

নিহত আবদুর রহমানের প্রতিবেশী মোহাম্মদ শাহজাহান জানান, নিহত আবদুর রহমান শনিবার দুপুরে তার এক বন্ধুর সাথে মোটরসাইকেলযোগে ঘুরতে গিয়ে একটি ভ্যানগাড়ীর সাথে ধাক্কা খেয়ে মহাসড়কে ছিটকে পড়ে যায়। এসময় পেছন দিক থেকে আসা অজ্ঞাতনামা একটি ট্রাক তাকে চাপা দিলে সে গুরুতর আহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রবিউল হোসেন জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আবুল হাশেম এবং আব্দুর রহমান নামের দুই ব্যক্তি ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন। হাসপাতালে আনা হলে তাদের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়।

মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাজির আহম্মেদ জানান, পুলিশ যাওয়ার আগেই নিহত আব্দুর রহমানের লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকেই স্বজনরা নিয়ে যায়। অপর দুর্ঘটনায় নিহত আবুল হাশেমের লাশ আইনী প্রক্রিয়া শেষে স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

মোঃ তারিকুল ইসলাম (তারেক), স্টাফ রিপোর্টার প্রকাশিত: শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৪ পিএম
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি সেলিম ভূঁইয়া

কুমিল্লা-২ আসন থেকে সংসদে গিয়ে এবার শিক্ষা খাতের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে শিক্ষক নেতা।
জাতীয় সংসদের শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিসহ ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হয়। কণ্ঠভোটে প্রস্তাবগুলো অনুমোদনের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত কমিটির সভাপতি হিসেবে সেলিম ভূঁইয়ার নাম ঘোষণা করা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত এই কমিটিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীসহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা এবং মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সংসদীয় নজরদারির আওতায় রাখার ক্ষেত্রে কমিটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

শিক্ষকতা থেকে সংসদ, এবার শিক্ষা খাতের নীতিনির্ধারণে অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়ার রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি আলোচিত তাঁর শিক্ষক পরিচয়। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে তিনি সক্রিয় ছিলেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বেতন, বাড়িভাড়া, অবসর সুবিধা, উৎসব ভাতা এবং চাকরি জাতীয়করণের মতো বিষয় নিয়ে তিনি বিভিন্ন সময়ে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখেছেন।

শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাই এখন তাঁর নতুন দায়িত্বের অন্যতম বড় সম্পদ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। রাজনীতির পাশাপাশি শিক্ষক সমাজের অধিকার আদায়ের আন্দোলনে দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন সেলিম ভূঁইয়া। শিক্ষক-কর্মচারীদের বিভিন্ন দাবি নিয়ে রাজপথে কর্মসূচি ও আন্দোলনে তাঁর অংশগ্রহণ তাঁকে শিক্ষক নেতার পরিচিতি এনে দেয়। রাজনৈতিক ও শিক্ষক আন্দোলনের কর্মকাণ্ডের কারণে বিভিন্ন সময়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও কারাভোগ করেছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-২ আসন—হোমনা ও তিতাস—থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। একই সঙ্গে যে খাতের সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি যুক্ত, সেই শিক্ষা খাতের সংসদীয় নজরদারির দায়িত্বও এখন তাঁর কাঁধে।

হোমনা-তিতাসে প্রত্যাশা
সেলিম ভূঁইয়ার নতুন দায়িত্বকে হোমনা-তিতাসের মানুষও গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, শিক্ষকতা ও শিক্ষক আন্দোলনের দীর্ঘ অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তিনি দেশের শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়ন, শিক্ষক-কর্মচারীদের সমস্যা সমাধান এবং শিক্ষার্থীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সমস্যা, শিক্ষক সংকট, শিক্ষার মান, বেসরকারি শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা এবং শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন সমস্যা সংসদীয় কমিটির আলোচনায় গুরুত্ব পাবে—এমন প্রত্যাশা শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট মহলের।

কুমিল্লা-২ আসনের একজন শিক্ষক নেতা হিসেবে সংসদে যাত্রা শুরু করে এবার দেশের শিক্ষা খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংসদীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পেলেন অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া। ফলে তাঁর সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—দীর্ঘ শিক্ষকতা ও আন্দোলনের অভিজ্ঞতাকে কীভাবে সংসদীয় দায়িত্বে কাজে লাগিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় কার্যকর পরিবর্তনে ভূমিকা রাখা যায়।

×