সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩

বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে গুণী সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন কুমিল্লার আবুল হাসানাত বাবুল

আবদুর রহমান : প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৩১ মে, ২০২২, ১১:১৭ এএম
বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডে গুণী সাংবাদিকের সম্মাননা পেলেন কুমিল্লার আবুল হাসানাত বাবুল
google news দৈনিক কুমিল্লার ডাক এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি ফলো করুন

জীবনে কোন কিছু পাওয়ার জন্য সাংবাদিকতা করিনি। সব সময় চেষ্টা করেছি দেশের এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করতে। সম্মাননা পাওয়ার কথা কখনো মাথায় আসেনি। আর কখনো ভাবিনি এমন একটি বিশাল আয়োজনে আমার মতো ক্ষুদ্র একজন সাংবাদিককে সম্মাননা জানানো হবে। আমি বলবো এটি বসুন্ধরা গ্রুপের একটি বিরল দৃষ্টান্ত, এটা তাঁদের উদারতা। তাঁরা বাংলাদেশে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। এক সঙ্গে দেশের ৬৪ জেলার ৬৪ জন গুণী সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করার ঘটনা অতীতে ঘটেছে বলে আমার জানা নেই। আমার মনে হয় এটাই প্রথম ব্যতিক্রমী একটি ঘটনা।’
কথাগুলো বলছিলেন কুমিল্লার জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল। সোমবার (৩০ মে) রাতে রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় (আইসিসিবি) কুমিল্লার এই গুণী সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করেছেন দেশের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপ। একই সঙ্গে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে দেশের আরও ৬৩ জেলার ৬৩ জন গুণী সাংবাদিককে। আইসিসিবিতে ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড-২০২১’ এর আয়োজনে ৫টি ক্যাটাগরিতে ১১ জন অসুসন্ধানী সাংবাদিককে পুরস্কার প্রদান করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে একই সঙ্গে তৃণমূল সাংবাদিকতায় অবদান রাখায় দেশের প্রতিটি জেলা থেকে একজন করে গুণী সাংবাদিককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে কুমিল্লার জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুলকে সন্মাননাপত্র, ক্রেস্ট ও এক লাখ টাকা প্রদান ছাড়াও উত্তরীয় পরিয়ে দেন অতিথিরা।
বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’ আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বসুন্ধরা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সায়েম সোবহান আনভীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।
অনুষ্ঠানটি উদ্বোধন করেন দেশের শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত আছেন বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম ও ‘বসুন্ধরা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২১’-এর জুরি বোর্ডের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. গোলাম রহমান।
এমন সন্মাননা পেয়ে জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল বলেন, আমার জন্য এটি একটি স্মরণীয় ঘটনা। কখনো ভাবিনি জীবনে এমন মূহুর্ত আসবে। এই ভালো লাগার কথা ভাষায় প্রকাশ করে শেষ করতে পারবো না। বসুন্ধরা গ্রুপের এমন সম্মাননা দেশের জেলা পর্যায়ের সাংবাদিকদের ভালো কাজে আরও অনুপ্রাণিত করবে। এমন আয়োজনের জন্য বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমি চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক।
জেষ্ঠ্য সাংবাদিক আবুল হাসানাত বাবুল ১৯৬৯ সালে সাপ্তাহিক চিত্রালীতে সংবাদ পাঠানোর মাধ্যমে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নেন। বলতে গেলে সেখানে তিনি শৌখিনভাবে সংবাদ পাঠাতেন। শিক্ষা সনদ অনুযায়ী তাঁর মূলনাম আবুল হাসানাত। জন্ম ১৯৫০ সালের ৯ নভেম্বর। ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক রূপসী বাংলায় সাংবাদিকতা করাকালীন পত্রিকার সম্পাদক অধ্যাপক আবদুল ওহাব মূলনাম আবুল হাসানাতের সঙ্গে ডাকনাম বাবুল যোগ করে দিলে পরিচিত হন আবুল হাসানাত বাবুল নামে। তখন গল্প, কবিতা প্রচুর লিখতেন। ফলে সাংবাদিকার পাশাপাশি সাহিত্য চর্চাও ব্যাপক হয় তাঁর। একই বছর অর্থাৎ ১৯৭৪ সালে সাপ্তাহিক আমোদ-এর টেবিলে বসে কাজ করার সুযোগ পান। সেই থেকে ১৯৯৫ সাল পর্যন্ত আমোদ-এর স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেন। আমোদ-এ সম্পাদকীয়, উপ-সম্পদকীয় নিয়মিত লিখতেন। একই সময়ে জেলা পরিষদের মুখপত্র লালমাইয়ে সম্পাদক ওয়াহিদুর রহমানের পক্ষে সাময়িকীটির সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৯ সালের ১০ ডিসেম্বর রূপসী বাংলা দৈনিক হলে রূপসী বাংলার প্রধান সাংবাদিকের দায়িত্ব পালন করেন। অধ্যাপক আবদুল ওহাব তাকে সিটি এডিটরের দায়িত্ব দেন। তখন থেকে মাসিক সম্মানি পেতেন। এই সম্মানি ১৫০ টাকা প্রথমে থাকলেও পরবর্তীতে ২৫০০ টাকা পরিণত হয়। কুমিল্লার একমাত্র দৈনিকে তখন রাতদিন কাজ করতে হতো তাকে। ৭০ ও ৮০ দশকে অবৈতুনিক সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেন দৈনিক আজাদ, দৈনিক দেশ বাংলা, দৈনিক বাংলার মুখে। নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্র পান চট্টগ্রামের দৈনিক মিছিল থেকে । এই নিয়োগ পেয়ে সাংবাদিক সমিতির সদস্যপদ লাভ করেন। ১৯৭৬-৭৭ সালে সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ছিলেন কুমিল্লার প্রয়াত সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আলী হোসেন চৌধুরী। এই সময়কালে ক্রীড়াজগত ও নাট্য সাময়িকী থিয়েটারে কুমিল্লার প্রতিবেদক হিসেবে কাজ করেন। সাংবাদিক সমিতির একাধিক জাতীয় সম্মেলনে কুমিল্লার প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯১ সালে প্রেসক্লাবের সদস্য পদ পান। ১৯৯৯ সালে প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি ও ২০০৩ সালের ২৪ ডিসেম্বরে সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৭-২০০৮ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে কুমিল্লার প্রতিনিধি ছিলেন। ১৯৭০-৮০ দশকে দৈনিক ইত্তেফাক, দৈনিক আজাদ, দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইনকিলাব, বাংলার বাণীতে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিবেদন লিখতেন। আমোদ-রূপসী বাংলায় বিভিন্ন নামে নিয়মিত কলাম লিখতেন। ১৯৯৩ সালে অভিবাদন নামের সংবাদপত্র প্রকাশ করে সম্পাদকের দায়িত্ব নেন। ২০২২ সালে অভিবাদনের বয়স ২৮ বছর হলো। বাংলাদেশ ক্রীড়া লেখক সমিতির জাতীয় পুরস্কার পাবার পর বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি তাকে সম্মাননা প্রদান করে।

অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

এটিএম মাজহারুল ইসলাম: প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
অস্ত্র-মাদক, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সারাদেশে প্রথম কুমিল্লা জেলা পুলিশ, পুরস্কৃত এসপি আনিসুজ্জামান পিপিএম

অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সারাদেশের মধ্যে প্রথম পুরস্কার পেয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএম।

গত শনিবার (২৯ আগস্ট) ঢাকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক অপরাধ সভায় কুমিল্লা জেলা পুলিশের এ সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, পিপিএমের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও সততা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কুমিল্লা জেলা পুলিশের কার্যক্রম মূল্যায়ন করে এ সম্মাননা দেওয়া হয়।

পুরস্কার পাওয়ার অনুভূতি জানিয়ে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, এ অর্জন কেবল তাঁর একার নয়, এটি পুরো কুমিল্লা জেলা পুলিশের সম্মিলিত টিমওয়ার্কের ফল। এ ধরনের স্বীকৃতি পুলিশ সদস্যদের কাজের গতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

তিনি বলেন, কুমিল্লা জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আন্তরিকতা, সততা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি কুমিল্লাবাসীর সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জেলাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এসপি বলেন, এ অর্জনের পেছনে কুমিল্লার জনগণ ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা রয়েছে। তাঁদের সহযোগিতা ছাড়া এ সাফল্য অর্জন করা সম্ভব হতো না।

তিনি আরও বলেন, কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত ও স্বাভাবিক রাখতে জেলা পুলিশ বদ্ধপরিকর। অপরাধ দমন, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে অভিযান এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও জেলা পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।

চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০২ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রীদের সাথে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) সকালে গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি আবু সাইদ মজুমদার এর সভাপতিত্বে এবং অত্র মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা জাকারিয়ার সঞ্চালনায় উক্ত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইস্টার্ণ ক্যাবলস লিমিটেড এর পরিচালক ও প্যারাডাইস ল্যান্ড ডেভেলপমেন্ট এন্ড হাউজিং লিমিটেড এর চেয়ারম্যান বিশিষ্ট শিল্পপতি মো. মফিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গুণবতী আল-ফারাবী উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ডা. মঞ্জুর আহমেদ সাকি, বিশিষ্ট আইনজীবি, ঢাকা জজ কোর্টের এপিপি এডভোকেট ওমর ফারুক, গুণবতী ফাজিল (ডিগ্রী) মাদরাসার গভর্নিং বডির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ইকবাল হোসেন লিটন এবং আব্দুল কুদ্দুছ। এ সময় মাদরাসার প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

অনলাইন ডেস্ক প্রকাশিত: রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪৯ পিএম
চৌদ্দগ্রামে গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্ এর শুভ উদ্বোধন

মুহা. ফখরুদ্দীন ইমন, চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি: উন্নত সেবার প্রত্যয় এবং ভোজন রসিকদের জন্য অত্যন্ত পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে রুচিশীল, সুস্বাদু ও টাটকা খাবার পরিবেশনের অনঢ় প্রতিশ্রুতি নিয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে মিলাদ মাহফিল ও দোয়া-মুনাজাত এর মাধ্যমে ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। অগ্রীম অর্ডার নিয়ে যেকোনো স্থানে উন্নতমানের সকল খাবার সরবরাহ করা সহ সদ্য উদ্বোধনকৃত এ হোটেলে আধুনিক ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন কমিউনিটি সেন্টার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের জন্য হলরুম বুকিং এর সু-ব্যবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের পাশেই নয়নাবিরাম পরিবেশে এর অবস্থান হওয়ায় দূর-দুরান্তের ভোজন রসিকরাও এখানে খাবার খেতে ছুটে আসবেন বলে হোটেল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা।

রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম উপজেলা মিয়াবাজার এলাকায় মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনের পশ্চিমপাশে নবনির্মিত ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি। অনুষ্ঠানে দোয়া-মুনাজাত পরিচালনা করেন কুমিল্লা আলিয়া মাদরাসার সাবেক হেড মুহাদ্দিস হযরত মাওলানা মো. আবদুর রাজ্জাক।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের এমপি বলেন, এটি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান নয়। তথাপিও শুনলাম এ প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে একটি মহল রাজনীতি করার অপচেষ্টা করেছে। বিষয়টি বেশ দুঃখজনক। এ প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার ফলে স্থানীয় অন্তত ২০০ লোকের সুন্দর একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। অবস্থা বুঝে মনে হচ্ছে, কারো কারো এটি সহ্য হচ্ছে না। রাজনীতির মূল লক্ষ্যই হতে হবে মানুষের কল্যাণ করা। এমপি হবো, চেয়ারম্যান হবো, মাস্তানি করা; এগুলো রাজনীতি নয়। রাজনীতি হচ্ছে সবচেয়ে অভিজাত একটি কাজ। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে অত্যন্ত সুন্দর-মার্জিত। রাজনীতিবিদদের ভাষা হতে হবে মানুষের জন্য শিক্ষনীয়। রাজনীতি আর মাস্তানি একসাথে চলে না। সুতরাং, যে দলই আপনি করুন না কেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করুন। আসুন, সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় আমরা যেন এ চৌদ্দগ্রামকে একটি মাদক-সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক চৌদ্দগ্রাম হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, সেলক্ষ্যে জনকল্যাণমুখী কাজ করি।

ডা. তাহের আরও বলেন, এখানে এসেই আমি বেশ আনন্দিত হয়েছি। এখানে হযরত ওলামায়ে কেরামদের বিশাল একটা উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ অনুষ্ঠানের বদৌলতে তাদের সাথে আমার সাক্ষাতও হয়ে গেলো। আমার বাবাও একজন আলেম ছিলেন। সুতরা, জন্মগতভাবেই হযরত ওলামায়ে কেরামদের প্রতি সবসময় আমার একটা দুর্বলতা ও ভালোবাসা কাজ করে। উনাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করায় আমি হোটেল কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। নিঃসন্দেহে এটিও একটি ভালো ও প্রশংসনীয় কাজ।

তিনি উপস্থিত লোকজনের নিকট প্রশ্ন রেখে আরও বলেন, এ প্রতিষ্ঠানটি কোন দলের? আওয়ামী লীগের? বিএনপির? জামায়াতে ইসলামীর? না। প্রতিষ্ঠান কোনো দলের হয়না। এটি এলাকার সকল মানুষের। এখানে মানুষ অর্থের বিনিময়ে সেবা গ্রহণ করবে। এটি সার্বজনিন প্রতিষ্ঠান। যারাই উদ্যোগ নেন, তারা সমাজসেবার মানসিকতায় এ ধরনের প্রতিষ্ঠান খোলেন। শুধু ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য নিয়ে কেউ কখনো এমন প্রতিষ্ঠান চালু করে না। মূলত সেবার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের প্রতিষ্ঠান করা হয়। সুতরাং, আমরা এমন কোনো কাজ করবো না যাতে এ প্রতিষ্ঠান তথা এলাকার মানুষের ক্ষতির কারণ হয়। আমি এ হোটেলের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (চৌদ্দগ্রাম-নাঙ্গলকোট সার্কেল) আরিফ মুহাম্মদ শাকুর, চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ আরিফ হোছাইন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর এডভোকেট মুহাম্মদ শাহজাহান, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. মাহফুজুর রহমান, সেক্রেটারি মুহাম্মদ বেলাল হোসাইন, সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ আব্দুর রহিম, পৌরসভা জামায়াতের আমীর মাওলানা মুহাম্মদ ইব্রাহিম, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আলী আজ্জম, মো. হুমায়ুন কবির, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হারুনুর রশিদ, বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবদুল মতিন, মাওলানা খাজা আহমেদ, টিআই মোহাম্মদ ফারুক, চৌদ্দগ্রাম সরকারি কলেজের সাবেক জিএস খলিলুর রহমান মজুমদার, উজিরপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আবুল হাশেম, কালিকাপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর মাওলানা আবুল হাশেম, জামায়াত নেতা শাহ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, মো. আমির হোসাইন, ‘গ্রীণ ভিউ-২ হোটেল,রেস্টুরেন্ট এন্ড সুইটস্’ এর সত্ত্বাধিকারী মো. আলী আশ্বব এর সুযোগ্য সন্তান ইকবাল মাহমুদ, ইকরাম মাহমুদ, ইমরান মাহমুদ সহ এলাকার বিশিষ্ট আলেম-ওলামা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

×